শিরোনাম

অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি টিআর,কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় তৈরি করে বহাল তবিয়তে আছেন পিআইও মনিরুজ্জামান

 প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ

অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি টিআর,কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় তৈরি করে বহাল তবিয়তে আছেন পিআইও মনিরুজ্জামান


নিজস্ব প্রতিবেদক  : 


টিআর, কাবিখা, এবং কাবিটা হলো গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের দুটি ভিন্ন কর্মসূচি। এই প্রকল্পগুলি মূলত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়, আর এই সুযোগে অনেক উপজেলা পিআইও জড়িয়ে পড়েন ঘুষ দুর্নীতি আত্মসাৎ করে ফেলেন প্রকল্পের অর্থগুলো ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি একাধিক প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে অবৈধ অর্থে বানিয়েছেন সম্পদের পাহাড় কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ কার্যকর হয় না আছেন তিনি বহাল তবিয়তে। 


মোঃ মনিরুজ্জামান সরকারের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার  চিলমরই উপজেলার দরিদ্র কৃষকের সন্তান। তিনি ২০১১ সালের ৭ জুলাই পিআইও (অ্যাডহক) হিসেবে যোগদান করেন ঠাকুরগাঁওর বোদাগঞ্জ উপজেলায়। যোগদানের ছয় মাস পর পূর্ণাঙ্গ পিআইও হন তিনি। এরপর তিনি বদলি হন দিনাজপুর  কাহারোল উপজেলায়।

এরপর থেকেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি আর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ, রয়েছে তার বিরুদ্ধে একটি বিশাল অভিযোগের তালিকা:

# দিনাজপুর কাহারোল উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির ভাগ তৎকালীন এমপি মনোরঞ্জনশীল গোপালকে না দেওয়ার দ্বন্দ্বে তার সুপারিশে বদলি হন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়।


# একাধিক সূত্রের তথ্যে জানা যায় ‘২০১৪ থেকে ১৬ সালের দিকে তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলায় থাকাকালে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার টিআর ও কাবিখার বিশেষ প্রকল্প নিয়ে আসেন। সেই প্রকল্পের কাজ না করে অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করেন। ওই সময়ে বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন সময়ে বগুড়ার দুদকের এক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, পরে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কিছু কাজ করেন তিনি। এরপর পিআইও তৎকালীন স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের  ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মাধ্যমে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি ওই সময়ে ডিজির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে সারা দেশের পিআইওদের বদলিবাণিজ্য করতেন। অভিযোগ আছে এসব করে ওই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা আয় করেন মনিরুজ্জামান সরকার।


#২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল টিআরের ৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শওকত হোসেন। তাকে দুই দফায় ৩ লাখ টাকার কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন শওকত হোসেন। শুকুরেরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায়ও উন্নয়নের জন্য টিআরের ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও দুই দফায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এটাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান সহকারী শিক্ষক আবদুল কাইয়ূম।


# শুধু ওই প্রকল্পই শেষ নয় আরো অভিযোগ আছে  ঠাকুরবাড়ি বাজার হতে পূর্ব জামে মসজিদের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা, দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়নের জন্য কাবিখা ও কাবিটার তিন দফায় ২০ টন ১৭৪ কেজি গম এবং ২ লাখ টাকা, বড়বালা ইউনিয়নের তাজুলের বাড়ি হতে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ ৫ হাজার, রানীপুকুরের বুজরুক নূরপুর বাড়ি হতে মনজুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ভরাটের জন্য ৩ লাখ, ইমাদপুর ইউনিয়নে মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, উপজেলা পরিষদ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ১৩ টন গম বরাদ্দসহ অন্তত আরও ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ হরিলুট করা হয়েছিল।


#  পিআইও মনিরুজ্জামান তৎকালীন সময়ে  নিজ অফিস খরচের কথা বলে সাবেক এমপির কাছ থেকে টিআর ও কাবিটার ১৪ লাখ টাকা এবং কাবিখার ১৩ টন গম বরাদ্দ নিয়েছেন। যার কাজ দেখানো হয়েছে উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ ৪ লাখ টাকা, ইমাদপুর ইউনিয়নের মসজিদপাড়া পাকা রাস্তা হতে চড়পাড়াগামী রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ, বড়বালা ইউনিয়নের রতনের বাড়ি হতে মাঝিপাড়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৫ লাখ এবং উপজেলা পরিষদ মাঠে মাটি ভরাট ১৩ টন গম। এসব প্রকল্পের চেয়ারম্যান করা হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের। তবে এসব কাজ না করে চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছিলেন পিআইও। যদিও জনপ্রতিনিধিদের দাবি ছিল, তারা প্রকল্পের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

#২০২২-২৩ অর্থবছরে পিআইওর কার্যালয়ে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ২২ হাজার এবং গেল অর্থবছরে একই কাজের জন্য তিন দফায় বরাদ্দ বাড়িয়ে হয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তৎকালীন সময়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের একজন স্টাফ জানিয়েছিলেন, অফিসে পিআইও তিন দফায় প্রায় ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েও কোনো কাজেই করেননি। ওই স্টাফ আরও জানিয়েছিল, পিআইও টিআর প্রকল্প থেকে দুই দফায় কম্পিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন। এর এক মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে কম্পিউটার সেট কেনার জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছিলেন তবে সেটাও অদৃশ্য হয়ে গেয়েছিল।



#অভিযোগের লম্বা তালিকার ভিতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল  ব্রিজ নির্মাণ, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শতভাগ দেখিয়ে বিল পাস করে ট্রেজারি অফিসের মাধ্যমে পিআইও মনিরুজ্জামান সরকার  নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এন আরবিসি ব্যাংকের মিঠাপুকুর শাখায়  প্রায় ৩ কোটি টাকা রেখেছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে রংপুর সহ সারা দেশের তোলপাড় সৃষ্টি হয়, তুমুল বিতর্কের পরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়েছিল তবে সেই প্রকল্পের ১০ থেকে ২০% কাজ বাস্তবায়ন না করে টাকা ছাড় দিয়েছিলেন অদৃশ্য কারণে। 


#অভিযোগ আছে বিভিন্ন ঘুষ লেনদেনের জন্য ঢাকা থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে এনে বেতন দিয়ে নিজের অফিসে কাজ করান, তাদের মাধ্যমেই বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

#বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তার ছিল গভীর সখ্যতা মিলেমিশে ভাগবাটোয়ারা করে খেতেন প্রকল্পের অর্থ, রংপুর জেলার ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেনের সঙ্গে ছিল তার গুরু শিষ্য সম্পর্ক, মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে অধিকাংশ অভিযোগ সামাল দিতেন মোতাহার হোসেন এবং প্রকল্পের অর্থ গুলো তারা দুইজন মিলে মিশে খেতেন, তবে সম্প্রতি ঘুষ দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ইতিমধ্যেই অনুসন্ধান শুরু করেছে এখানেও সবাই অবাক হয়ে গেছে কারণ মনিরুজ্জামান থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।


#অভিযোগ আছে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শূন্য থেকে বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক অবৈধ অর্থ করেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ সেই তালিকায় রয়েছে:


#রংপুর নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় কোটি টাকায় জমি কিনে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারীতে থাকার জন্য বহুতল ভবন, রয়েছে ১৬ সিটের পাঁচ-সাতটি মাইক্রোবাস যেগুলোর রেন্ট এ কারে ভাড়ায় দিয়েছেন, নিজ এলাকায় করেছেন  তেলের পাম্প, কুড়িগ্রাম শহরের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিশাল ওষুধের দোকান, নিজে ব্যবহার করেন অর্ধকোটি টাকার গাড়ি, ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য রয়েছে একাধিক ষ মোটরসাইকেল, অথচ তিনি বেতন পান ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা, তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক কিন্তু কোন অভিযোগ কখনো কার্যকর হয়নি অদৃশ্য কারণে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন অনেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে যদি ঘুষ দুর্নীতি অবৈধ অর্থে সম্পদ অর্জনের তথ্য থাকে তবে সেটা খতিয়ে দেখা হবে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদ আমরা গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করে দেখি। 


এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান সরকারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে ফোন রিসিভ করেননি।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সরকারের অনিয়ম দুর্নীতি সম্পদের বিভিন্ন তথ্যচিত্র নিয়ে আগামীতে দ্বিতীয় পর্ব আসছে।