শিরোনাম

শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরী উদ্বোধনের ছয় বছর পেরোলেও পুরো শিল্পনগরী পড়ে আছে অচল

 প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ

শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরী উদ্বোধনের ছয় বছর পেরোলেও পুরো শিল্পনগরী পড়ে আছে অচল

 মোঃইমরান হোসেন ( শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার): 

চা-সমৃদ্ধ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ একর জমির ওপর নির্মিত হয় বিসিক শিল্পনগরী। ২০১২ সালে প্রকল্প শুরুর পর ২০১৯ সালে শেষ হয় সব অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবন, কোয়ার্টার, পাম্প হাউস, গ্যাস সাবস্টেশন, পুকুর, পিচঢালা রাস্তাসহ সব সুবিধাই প্রস্তুত। কিন্তু উদ্বোধনের ছয় বছর পেরোলেও পুরো শিল্পনগরী পড়ে আছে অচল।


১২২টি প্লটের মধ্যে ৫৬টি বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো কোনো উদ্যোক্তা কারখানা স্থাপন শুরু করেননি। নিরাপত্তার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে গ্যাস সাবস্টেশন ও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারসহ মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ।


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিসিকের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া, কিন্তু প্লটের অতিরিক্ত মূল্য ও অপর্যাপ্ত সুবিধার কারণে তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।


বিসিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১২ সালে উপজেলার উত্তরসুর এলাকায় ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করে শিল্পনগরী নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০১৯ সালে সমাপ্ত হয়। দীর্ঘদিন প্লট খালি থাকায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষদিকে জেলার বাইরে থেকে কয়েকজন উদ্যোক্তার নামে ৫৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এখনও কোনো স্থাপনাই নির্মাণ শুরু হয়নি। 


এখানে তিন ধরনের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, এ ক্যাটাগরি: ৬০ বাই ১০০ ফুট, বি ক্যাটাগরি: ৪৫বাই ৯০ ফুট, এস ক্যাটাগরি: ৩৮০০ বাই ৮১০০ বর্গফুট, প্রতি বর্গফুটের মূল্য (৯৯ বছরের জন্য) নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯৯ টাকা ৫১ পয়সা।


সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবন ছাড়া শিল্পনগরীর প্রায় সব জায়গায় জঙ্গল গজিয়েছে। পিচঢালা রাস্তা ফেটে সেখানে বের হয়েছে ঘাস ও গাছগাছালি। দ্বিতীয় প্রবেশ গেটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গাছপালায় ঢেকে গেছে। খুঁটিতে নেই কোনো ট্রান্সফরমার। ভবনের ভেতরে পড়ে আছে কিছু খোলা যন্ত্রাংশ। মিটারগুলো ঢেকে গেছে লতাপাতায়। এলাকাটি এখন সাপ, বোলতা, মৌমাছিসহ নানা প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেও একা চলার মতো পরিবেশ নেই।


শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া বলেন, এখানকার প্লটের দাম আশপাশের জমির তুলনায় অনেক বেশি। তাছাড়া বিদ্যুৎ–গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।


প্লট বরাদ্দ পাওয়া রাহুল গুড়া মসলার মালিক রঞ্জিত দাশ জানান, কাজ শুরু করার ইচ্ছা আছে, তবে বর্তমানে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় শুরু করতে পারছি না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীতে কারখানা করেছি। শ্রীমঙ্গলে নেয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু প্লটের দাম এখানে অত্যধিক। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও দুর্বল, তাই ঝুঁকি নিতে চাইনি।


নৈশপ্রহরী বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, চারদিকে জঙ্গল হয়ে গেছে। বিশাল এলাকা একা পাহারা দেওয়া অসম্ভব। ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে বিদ্যুৎ নেই। একাধিকবার চোর-ডাকাতের ঝুঁকির মুখে পড়েছি।


শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ এই প্রতিবেদকে জানান, ২০১৯ সালে বরাদ্দ দেওয়া ৫৬টি প্লটের কোনো উদ্যোক্তা কাজ শুরু করেননি। গত অক্টোবরের শেষ দিকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে এবং বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।


তিনি আরো বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। পুনঃসংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎকে জানিয়েছি। গ্যাস সাবস্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পুনঃস্থাপনে কত খরচ হবে সেটির হিসাব করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা বরাদ্দ পাওয়ার পরও কাজ শুরু করেননি, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।



জনদুর্ভোগ এর আরও খবর: