রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট চলতি রমজান মাসেই করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিগগিরই নির্বাচনের তপশিল দেওয়া হতে পারে। আইন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি পাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন, জামায়াত ১১টি এবং এনসিপি একটি আসন।
এছাড়া একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে। এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেরও প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইসির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে নিবাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায় সে অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি ছয় জনের বিপরীতে একটি নারী আসন পাওয়া যায়। স্বতন্ত্ররা এককভাবে নারী আসন পান না। তবে তারা জোট করে আবেদন করলে নারী আসন পেতে পারেন।
এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন পেয়েছে ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুইটি এবং খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে একটি করে আসন। নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।
জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল আসে সেটিই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা। এ হিসেবে সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ বা ৩৫টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১ টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন।
সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসাবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।
