ঘরে বসে কলম প্যাকেজিং কাজের নামে দেশজুড়ে মহাপ্রতারণা! কেরানীগঞ্জসহ সারা দেশে শত শত নারী প্রতারিত
মাহফুজার রহমান : ঘরে বসে সহজ আয়ের লোভ দেখিয়ে “কলম প্যাকেজিং কাজ” নামে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র কেরানীগঞ্জসহ সারা দেশে শত শত মেয়ে ও নারীকে প্রতারণার শিকার করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই ভুয়া বিজ্ঞাপনে মাসিক ১৮ হাজার ৫০০ টাকা বেতন ও প্রথম মাসে ৩ হাজার টাকা বোনাসের প্রলোভন দেখানো হয়।
প্রতারক চক্রটি দাবি করে, প্রতি মাসে ১০ হাজার কলম দেওয়া হবে, যা এক মাসের মধ্যে প্যাকেট করতে হবে। প্রতিটি প্যাকেটে ১২টি করে কলম ও নির্দিষ্ট স্টিকার লাগানোর কথা বলা হয়। ভর্তি ফি’র পর শুরু হয় নতুন ফাঁদ। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, কাজ শুরু করার জন্য প্রথমে ভর্তি/রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ১,৫০০ টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার কয়েকদিন পর আবার জানানো হয়—কলম পাঠানোর জন্য কুরিয়ার খরচ বাবদ আরও ২,০০০ টাকা দিতে হবে। দ্বিতীয় দফায় টাকা না দিলে কাজ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। অনেকেই বিশ্বাস করে দ্বিতীয় দফার টাকাও পাঠানোর পর প্রতারকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
কেরানীগঞ্জের এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল ঘরে বসে কাজ করে ভালো আয় করা যাবে। প্রথমে ১৫০০ টাকা দিলাম। পরে কুরিয়ার খরচের কথা বলে আরও ২০০০ টাকা নেয়। এরপর আর কোনো কলম পাইনি, ফোনও বন্ধ।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, “আমি গৃহিণী। সংসারের জন্য কাজের আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি আমরা প্রতারিত হয়েছি।” সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। কেরানীগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর সংখ্যা শত শত ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে বসে কাজের নামে আগে টাকা দাবি করা হলে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারণা। বিশেষ করে নারী, গৃহিণী ও বেকার তরুণীদের টার্গেট করে এ ধরনের চক্র সক্রিয় রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত এই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে এ ধরনের ভুয়া বিজ্ঞাপনে অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
