সরকারি জমি দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প: নীরব প্রশাসন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন জায়গা দখল করে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খাঁন মঞ্জু গোপালগঞ্জ–২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামা মঞ্জু খাঁনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী ও সমর্থক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সড়কের ঘোষেরচর মৌজায় জেলা প্রশাসনের জমিতে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যা সরাসরি সরকারি সম্পত্তি দখলের শামিল।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাবেক জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ওই জমি দখলমুক্ত করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করে সেই বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলে মঞ্জু খাঁনের সমর্থকরা। এরপর থেকেই দখলকৃত সেই সরকারি জমিতে নির্বিঘ্নে চলছে নির্বাচনী কার্যক্রম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়, এটি রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের এই নীরবতা তাদের গভীর আতঙ্কে ফেলেছে। এক ভোটার বলেন, “আজ যদি দখলদারি বন্ধ না হয়, এমপি হলে সরকারি সম্পদ আরও লুট হবে, প্রতিপক্ষের কণ্ঠ রোধ হবে, আর প্রশাসন পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়বে।”এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
