শিরোনাম

সিগনেচার জালিয়াতি, ভ্যাট ফাঁকি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আঃ রহিম অর্কের বিরুদ্ধে

 প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন   |   অপরাধ

সিগনেচার জালিয়াতি, ভ্যাট ফাঁকি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আঃ রহিম অর্কের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিমের আপন ভাই নওশের বাদশা শামীমের ব্যবসায়িক পার্টনার এবং আওয়ামী লীগের  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের ক্যাশিয়ার খ্যাত আঃ রহিম অর্কের বিরুদ্ধে একের পর এক ভয়াবহ প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।  আওয়ামী লীগ এর ১৬ বছরে ক্ষমতা খাটিয়েছেন আর এখনও বিএনপি আবার কখনও এনসিপি পরিচয়ে অপরাধ সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন।

বর্তমানে আব্দুর রহিম কখনো বিএনপি কখনো এনসিপির সাথে মিশলেও অতি গোপনীয় ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদের নির্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামি লীগের কর্মীদের টাকা দিচ্ছেন।যে টাকার উ'ৎস হচ্ছে হাসান মাহামুদ।

অর্কের প্রতিষ্ঠান উইন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিঃ–এর ম্যানেজার (অর্থ) সায়েম উল্লাহ জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আঃ রহিম অর্ক কর ফাঁকি, সিগনেচার জালিয়াতি, টাকা পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত সেলস আড়াল করে বিপুল অংকের আয়কর ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছেন তিনি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ভ্যাট ফাঁকি দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার ৪০ টাকা এবং আয়কর ফাঁকি ১২ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার ২২৫ টাকা। এ ছাড়া, সাউথইস্ট ব্যাংক বনানী শাখা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সিগনেচার জাল করে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার লোন নেন অর্ক। এ ঘটনায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ৩৩৮/২৩) চলছে।
শুধু তাই নয়, কোম্পানির নামীয় ৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না করে এককভাবে কোম্পানির সব শেয়ার নিজের নামে নেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজধানীর কানিজ ফাতেমা নামে এক নারী সম্প্রতি আদালতে মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্ক মোট ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। টাকা ফেরত চাইলে বাদীকে ভয়ভীতি ও প্রকাশ্যে হুমকি দেন তিনি।
অর্কের প্রতিষ্ঠান উইন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিঃ–এর ম্যানেজার (অর্থ) সায়েম উল্লাহ আরো জানান,আব্দুর রহিমের স্থী সানজিদা বেগমের নামে Ace Capital Management Survice Ltd এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করেছে,এই টাকা সায়েমউল্লাহ তার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন এর কাছ থেকে এনে দিয়েছেন,যা এখনও ফেরত পায়নি। সিএমএম আদালতে ৩৩৭/২৩ মামলা চলমান যে মামলা সিআইডিতে তদন্ত চলমান।বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,আব্দুর রহিম অর্কের এবং স্থীর নামে বেনামে পূর্বাচল সহ বিভিন্ন যায়গায় প্লট এবং ফ্লাট রয়েছে খোঁজ নিলে যার সত্যতা পাওয়া যাবে।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪৬৭ (জাল দলিল তৈরি) ও ৫০৬(২) (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে।

জনস্বার্থে এডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল চৌধুরীও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বিস্তারিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অংকের টাকার জোরে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন অর্ক।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিনিয়োগ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের কাছে জোর দাবি তুলেছেন— আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ প্রতারণার শিকার না হয় তার নিশ্চয়তা।

স্থানীয়দের মতে, প্রতারণা ও জালিয়াতির এই মামলা সমাজে নজিরবিহীন রায় হলে প্রতারক চক্রের দুঃসাহস ভেঙে পড়বে।সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

অপরাধ এর আরও খবর: