শত কোটি টাকার মালিক রাজউকের অফিস সহকারী ফাতেমা বেগম মলি
শেখ ফয়সাল আহমেদ :
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর পরিচালক (জোন ৫) এর উচ্চমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শত কোটি টাকার মালিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আছেন বহাল তবিয়তে তার বিরুদ্ধে নিশ্চুপ রাজউক প্রশাসন।
রাজউকের ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষ একাধিক গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে অনেক সংবাদ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে জমা পড়েছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে হত্যা মামলাও তারপরেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে কি তার ক্ষমতার উৎস? কে এই ফাতেমা বেগম মলি ?
ফাতেমা বেগম মলি নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের গোবিন্দপুরের পিংগলাল গ্রামের কৃষক মৃত হাবিবুর রহমানের কন্যা। তিনি বিবাহ করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোঃ আবুল ফজল কে। ২০০৬ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের পিয়ন হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ আছে এখান থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাওয়া শুরু হয়, রাজউকে যোগদানের পরপরই জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতিতে এবং অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি জিম্মি করে উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা।
স্বামী আবুল ফজল বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে রাজউকের বিভিন্ন টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, বিভিন্ন ফাইল আটকে অবৈধ ও অন্যায় ভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন, সব কথা ছিল বিগত আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ এমপি মন্ত্রীর সঙ্গে, রয়েছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন দমনে অর্থ সহায়তার অভিযোগে হত্যা মামলা সহ নানা অভিযোগ। ২০২০ সালেও মেহেদী হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কিন্তু বিগত সরকারের দলীয় প্রভাবে অভিযোগগুলো আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ রয়েছে একাধিক গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মারমুখো আচরণের। কেউ তার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেই করেন খুব বাজে আচরণ প্রদান করেন বিভিন্ন হুমকি ধামকি, অনেকের অভিযোগ রাজউকের সমস্ত প্রশাসন যেন ফাতেমা বেগম মলির হাতের মুঠোয়।
ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে ঘুষ দুর্নীতি সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ অর্থে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নামে ক্রয় করেছেন শত কোটি টাকার সম্পত্তি। একজন অফিস সহকারী হয়েও চলাফেরা করেন বিলাসী জীবনযাপন । অফিসে আসেন অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের গাড়িতে চড়ে অথচ তিনি একজন কম্পিউটার অপারেটর তার বেতন সর্বসাকুল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা তাহলে কি তার আয়ের উৎস ?
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগ পত্র অনুযায়ী সম্পদ বিবরণীর তালিকায় রয়েছে: রাজধানীর পুরাতন পল্টনের ৩৭/২ জামান টাওয়ারে রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট, রাজধানীর পূর্বাচলে ১৭নং সেক্টরে ৫ কাঠার একটি প্লট, ২২ নং সেক্টরে ৫ কাঠার একটি এবং ২৭ নং সেক্টরে ৫ কাঠার আরও একটি প্লট, রাজধানীর ঝিগাতলায় ১৫/এ, ডার্লি পয়েন্টে, হাফিজুল্লাহ গ্রীণ টাওয়ারে (লেভেল ই-৫) কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ৩টি ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জ ও শশুর বাড়ি চাঁদপুরে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়, চলাচলের জন্য রয়েছে দামী নোয়া গাড়ী যার নম্বর (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪৬১৮), এছাড়াও অবৈধ অর্থ দিয়ে তার স্বামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল ফজলের নামে রয়েছে রাজু ইন্টারন্যাশনাল ও রাজু প্রপার্টিজ এন্ড ডেভেলপারস দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্বামী আবুল ফজল। অভিযোগ আছে অধিকাংশ সম্পদ আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য স্বামী সন্তান সহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামি ক্রয় করেছেন।
ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ জমা হলেও তা কখনো কার্যকর হয়নি তবে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফাতেমা বেগম মলি, স্বামী মোঃ আবুল ফজল, ও ছেলে ফারাহ হাবিব সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যদের নামে সম্পদের তথ্য চেয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি প্রদান করেছেন।
পুরো রাজউকের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে ভয় কেউ মুখ খুলতে চায় না একাধিক কর্মকর্তার কাছে গেলেও তার বিষয় কেউ বক্তব্য দিতে চাইনি কি তার ক্ষমতার উৎস? এই বিষয়ে জানতে ফতোয়া বেগম মলির এর সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তিনি বলেন আমাকে কেন ফোন দিলেন? কোন কিছু জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে জেনে নিন আমার সব তথ্য দেওয়া আছে বলে ফোন কেটে দেন।
