ঘুষ দুর্নীতি ভুয়াবিল ভাউচার ও সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে শত কোটি টাকার মালিক এলজিইডি হিসাবরক্ষক সাদেকুল ইসলাম
এলজিইডি (LGD) বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ হলো গ্রামীণ ও শহুরে অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন রাস্তা, সেতু, বাজার, এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের (ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা) ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা; এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করা; এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা, রাষ্ট্রের এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকার এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়, কিন্তু কিছু ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রকৌশলী হিসাবরক্ষক বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীরা মিলে ঘুষ দুর্নীতি ভুয়া বিল ভাউচার করে শত শত কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ করে শূন্য থেকে বনে গেছেন।
অনেকেই বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক, সম্প্রতি অভিযোগ এসেছে দ্বিতীয় নগর উন্নয়ন প্রকল্প সিআরডিপি এলজিইডি হিসাব রক্ষক সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার ও একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে অনৈতিকভাবে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হামিদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে। প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি।
ওই অভিযোগপত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক সংবাদের তথ্যে জানা যায় প্রকল্প পরিচালক হামিদুল হক দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দরপত্র আহবান, ঠিকাদার নিয়োগ, স্বজনপ্রীতি ও কমিশন আদায় ছিল তার নিয়োমিত কাজ। নিজস্ব ঠিকাদার সিন্ডিকেট তৈরি করে কাজ দিয়ে কমিশন নিয়ে নিতেন এবং এই প্রবণতা এখন পর্যন্ত অব্যাহত।
দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের (সিআরডিপি-২) কার্যক্রম আদ্যপান্ত সরজমিন তদন্ত করলে মো: হামিদুল হকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমান পাওয়া যাবে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
বেশ কিছু অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকৌশলী হামিদুল হক সহ আরো একাধিক নাম এসেছে অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে কিন্তু এখানে পর্দার আড়ালে রয়ে গেছেন এই প্রকল্পের হিসাব রক্ষক সাদেকুল ইসলাম, অভিযোগ আছে এই প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ভুয়া বিল ভাউচার করে তিনি অর্থ অনুমোদন দিতেন, একাধিক ঠিকাদার সাথে গভীর সখ্যতা তৈরি করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ আত্মসাৎ করেছেন।
বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসারে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী পন্থী বিভিন্ন প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের সাথে গভীর সখ্যতা তৈরি করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, ছিল একাধিক মন্ত্রী এমপিদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক।বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা বর্তমান নগর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হামিদুল হক ও সাদেকুল ইসলাম আওয়ামী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ক্ষমতার অপব্যহার, অনিয়ম, দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। সকল অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলেও সাদিকুল ইসলাম থেকে গেছে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাহিরে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও দলীয় প্রভাবে তা কখনো কার্যকর হয়নি।
সাদেকুল ইসলাম কুমিল্লা সদর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোঃ আম্বর আলীর ছেলে, বাবার ছিলনা তেমন কোন জমি জমা ছিল একটি ভাঙা টিনের ঘর কিন্তু তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতির অর্থে তৈরি করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি কুমিল্লা শহরে রয়েছে তার একাধিক জমি রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব তাজমহল রোডের ১১/৮ নম্বর এই বাড়িতে কয়েকটি ফ্ল্যাট ক্রয় ক্রয় বসবাস করছেন, চলাচলের জন্য রয়েছে একটি দামি গাড়ি যেটা তার স্ত্রী ইয়াসমিনের আক্তারের নামে ক্রয় করেছেন, এছাড়াও রাজধানীর উত্তরা বনশ্রী ও সাভারে রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্লাট তবে আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পত্তি তিনি ক্রয় করেছেন স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার, মেয়ে তামাকতু বিনতে ইসলাম রিনভী, তামান্নুম বিনতে ইসলাম, তাহফাতুল ইসলাম, শ্বশুর আবু তাহের, শাশুড়ি সাবিহা বেগম সহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনাম, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে পরিবারের সব সদস্য নামে একাধিক ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত আছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ যেগুলো তিনি সবকিছু অবৈধ অর্থ থেকে উপার্জন করেছেন।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাদেকুল ইসলাম, স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও সন্তান তামাকতু বিনতে ইসলাম রিনভী, তামান্নুম বিনতে ইসলাম ও তাওফাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে চিঠি প্রেরণ করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রমাণ মিলেছে এবং অনুসন্ধান চলমান রয়েছে দোষী সাব্যস্ত হলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত মামলা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ও এই বিষয়ে এলজিইডি নগর উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব রক্ষক সাদেকুল ইসলামের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রেসপন্স করেন না।
