শিরোনাম

রাতে কার্যত অচল কেরানীগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতাল: ২৪ ঘণ্টা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ

 প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন   |   জনদুর্ভোগ

রাতে কার্যত অচল কেরানীগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতাল: ২৪ ঘণ্টা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ

মাহফুজার রহমান :


ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সাধারণ রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে রাতের বেলায় জরুরি সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, দিনের বেলায়ও বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের সংকট, ওষুধের অপ্রতুলতা, পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব এবং দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা যায় গভীর রাতে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত বারোটার পর হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। নার্সদেরও দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেক সময় পুরো হাসপাতাল প্রায় ফাঁকা থাকে এবং কোনো নাইট গার্ডও দায়িত্বে দেখা যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে জরুরি রোগী নিয়ে আসা পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের খুঁজে বের করে জাগাতে হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতি জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সরকারি হাসপাতাল জনগণের ট্যাক্সের অর্থে পরিচালিত হয়। তাই এখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার ঘোষণা দিয়ে বাস্তবে সেই সেবা না দেওয়া হলে তা গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সচেতন মহল বলছে, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং একটি মানবিক সংকট। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা সেবা না পাওয়া মানে সরাসরি জীবনঝুঁকি তৈরি হওয়া।

এ পরিস্থিতিতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগে চিকিৎসক, নার্স ও নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষার সেবা দ্রুত প্রদান এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ। স্বাস্থ্যসেবা খাতে কোনো প্রকার অনিয়ম, দায়িত্বে গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

জনদুর্ভোগ এর আরও খবর: