রাতের আধারে মেডিকেল বর্জ্য ও ব্যাটারির শিশা পোড়ানোয় ডেমরার কোনাপাড়ায় চরম জনদুর্ভোগ
মাহফুজার রহমান :
রাজধানীর ডেমরা এলাকার কোনাপাড়ায় রাতের আধারে মেডিকেল বর্জ্য ও ব্যাটারির শিশা (সিসা) পোড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে গভীর রাতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় তুলনামূলকভাবে নীরব থাকলেও রাত গভীর হলে খোলা জায়গায় মেডিকেল বর্জ্যের স্তূপে আগুন দেওয়া হয়। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, রক্তমাখা গজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা বর্জ্য পোড়ানো হয় অবাধে। একই সময়ে পুরনো ব্যাটারি গলিয়ে সিসা সংগ্রহের কাজও চলে বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে ঘন কালো ধোঁয়ার সঙ্গে ভারী ধাতব কণা বাতাসে মিশে আশপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
বাসিন্দারা জানান, “রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ার তীব্রতা বাড়ে। নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনেকেই কাশি ও বুকে চাপ অনুভব করেন। দরজা-জানালা বন্ধ করেও রক্ষা পাওয়া যায় না।” শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল বর্জ্য এবং ব্যাটারির সিসা খোলা স্থানে পোড়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে বাতাসে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভারী ধাতু ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সিসার ধোঁয়া শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, রাতের আঁধারে পরিচালিত এ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কেন রাতের অন্ধকারে এমন বিপজ্জনক কাজ চলবে, আর কতদিন বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে বসবাস করতে হবে? কোনাপাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে
