মহেশখালীতে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও নাশকতা রোধে কঠোর অবস্থানে নৌবাহিনী
নুরুল করিম (মহেশখালী) :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। দেশের অন্যতম 'ক্রাইমজোন' হিসেবে পরিচিত এই উপকূলীয় জনপদে সহিংসতা ও নাশকতা রোধে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। এরই অংশ হিসেবে
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মহেশখালীতে নৌবাহিনীর নিয়োজিত কন্টিনজেন্ট জোন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন নৌবাহিনীর সহকারী (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
দুপুর থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রস্তুতি ও অবস্থান পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রকে প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোতে বাহিনীর প্রস্তুতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা তিনি সরেজমিনে যাচাই করেন।
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে মহেশখালী লিডারশীপ হাই স্কুলে অবস্থিত উপজেলার নৌ কন্টিনজেন্ট কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সহকারী নৌপ্রধান। সেখানে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠুভশান্তিপূর্ণ করতে নৌবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, দুর্বৃত্ত বা সহিংস চক্র যেন ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা নৌবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে নির্বাচনকালীন কঠোর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের শিথিলতা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ
দেওয়া হয়, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়।সহকারী নৌপ্রধান জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মহেশখালীর বেশ কিছু ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নজরদারি, টহল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে ও ভোটের দিন সন্দেহজনক চলাচল, গোপন বৈঠক কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমের তথাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন নির্বাচনকালীন শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুল্যে জানায়, মহেশখালীসহ উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নৌবাহিনীর এই আগাম নজরদারি আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোটারদের আস্থার পরিবেশ তৈরিতে নৌবাহিনীর সক্রিয়তা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
