গণভোট কী জানে না চা শ্রমিক ও গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ
মোঃইমরান হোসেন ( শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার):
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে হবে গণভোট। সরকারিভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু হলেও তা মূলত শহরকেন্দ্রিক বলে অভিযোগ করেছেন চা শ্রমিক ও গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা। মৌলভীবাজার জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ও চা বাগানসমুহে গণভোট সম্পর্কে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকেন বড় একটি অংশ এখনো জানে না গণভোট কী। উপজেলা শহরে গণভোটের প্রচারণা লক্ষ করা গেলেও গ্রামাঞ্চলে এই কার্যক্রম চোখে পড়েনি। শহরের মানুষ গণভোট সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেলেও গ্রাম পর্যায়ে বিষয়টি প্রায় অজানা রয়ে গেছে। চা শ্রমিক ও প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট হলেও চা বাগানে ও গ্রামগঞ্জে এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা প্রচারণা নেই। তাঁরা বলেন, চা বাগানে এবং গ্রামাঞ্চলে যদি গণভোটের বিষয়ে প্রচার চালানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ গণভোটকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জনসচেতনতা কার্যক্রম ও প্রচার শুরু করেছে জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। তবে এই প্রচার শুধু সীমাবদ্ধ রয়েছে জেলা শহর বা উপজেলা শহর পর্যন্ত। ফলে মৌলভীবাজার জেলার ৯২ টি চা বাগানের ভোটার ও গ্রাম গঞ্জের সাধারণ ভোটারেরা গণভোট কি তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা গণভোট কি ও কিসের উপর এই ভোট হচ্ছে তাও জানেন না। ফলে অনেকটা না বুঝেই এই ভোট দিতে হবে তাদেরকে। মৌলভীবাজারের চা বাগানের অধিকাংশ নারী ভোটারেরা জানান, আমরা জানি ফেব্রুয়ারিতে এমপি নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই আমাদের সাথে দেখা করেছেন ভোট চেয়েছেন। এছাড়া আর কোন নির্বাচন হবে কিনা তা জানিনা। আমাদেরকে এই ভোটের সম্পর্কে কেউ কিছু বলেননি। গণভোট সম্পর্কে প্রশ্ন করলে ভোটাররা জানান আমরা তা জানিনা। সাধারণ ভোটের বিষয়টি গ্রামের মানুষ ও চা শ্রমিকরা জানেন এবং আগেও ভোট দিয়েছেন। কিন্তু গণভোট কী, এ সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।
দিনমজুর ইউসুফ মিয়া বলেন, গণভোট আবার কী? আজই প্রথম শুনলাম। কেউ বুঝিয়ে দিলে হয়তো বুঝতে পারব।
শ্রীমঙ্গলের সাইটুলা গ্রামের গৃহিণী সায়মা খাতুন বলেন, শুনছি সামনে ভোট হবে।সবাই এমপি ভোটের কথাই বলছে। গ্রামে গণভোট নিয়ে কেউ কিছু জানে না। একই গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি চনু মিয়া বলেন, মেম্বার, চেয়ারম্যান আর এমপি নির্বাচনের ভোট বুঝি। কিন্তু গণভোট তো বুঝি না। গ্রামে এখনো কোনো প্রচার দেখিনি।
নন্দিতা রবিদাস ও গীতা রবিদাস নামে চা বাগানের দুই নারী ভোটার বলেন, আমরা কখনও গণভোট দেইনি। এই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে হা বা না ভোট হবে তা আমরা জানিনা। আমাদেরকে কেউ গণভোট দেওয়ার কথা বলেনি বা কিভাবে এই ভোট দিব তা কেউ জানাননি। যাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে সবাই এমপি ভোটের কথা বলেছেন। গণভোটের প্রচারের বিষয়ে মৌলভীবাজার তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এই প্রচারনা পিআইবি থেকে চালানো হচ্ছে। আমি যতটুকু জানি শুধু জেলা শহরে এই প্রচারণা হবে। উপজেলা পর্যায়ে হবেনা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, গণভোটের বিষয়টি চা বাগানসহ গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা প্রচার-প্রচারণার কাজ করছি। এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভলে বলেন, কোথায় প্রচারণা চালানো হবে তা সরকার থেকে ঠিক করা হয়েছে। বিষয়টি আমর পুরোপুরি জানা নেই। তবে যতটুকু জানি তা শুধু জেলা শহরে হবে। উপজেলা পর্যায়ে হবে না। মৌলভীবাজার জেলা শহর ছাড়াও শ্রীমঙ্গল শহরে প্রচারণা হয়েছে।
