শিরোনাম

গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউসের

 প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউসের


আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে প্রয়োজনবোধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পটিও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার নিরাপত্তা টিম সামরিক হস্তক্ষেপসহ সব ধরনের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে আসা ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনসহ ছয়টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র অধিকার রয়েছে কেবল সেই দ্বীপের জনগণ এবং ডেনমার্কের। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনকে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে সম্মানজনক সংলাপের পথে আসার অনুরোধ করেন। ৫৭ হাজার মানুষের এই দ্বীপটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতকে ন্যাটোর আদর্শ ও বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন বাণিজ্যপথের উন্মোচন এবং সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদের কারণেই গ্রিনল্যান্ডের প্রতি পরাশক্তিগুলোর আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটিকে নিজের কবজায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের একটি অংশকে জোরপূর্বক দখলের এই হুমকি আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের কূটনৈতিক সম্পর্ককে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর: