শিরোনাম

‎ঝালকাঠিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

 প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

‎ঝালকাঠিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

‎ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন, আপোষহীন দেশনেত্রী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ঝালকাঠিতে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।‎ ‎শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমারপট্টি রোডে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের উদ্যেগে তার বাসভবন প্রাঙ্গণে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক  নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।‎‎দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। আরও উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন, সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার, জেলা মহিলা দল নেত্রী মতিয়া মাহফুজ  জুয়েলসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সভাটি সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মো. আককাস সিকদার। 

‎ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি আপোষহীন দেশনেত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায়। তাঁর জীবন কেবল একটি রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস নয়—এটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও মানবিক নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

‎তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর শোকাহত এক গৃহবধূ যেভাবে দৃঢ়চিত্তে রাজনীতির কঠিন ময়দানে পা রাখেন, সেটিই ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ১৯৮২ সাল থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আপোষহীন নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ‎ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন,‎১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর শাসনামলে শিক্ষা বিস্তার, নারী শিক্ষা, গ্রাম উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ নতুন দিশা পায়।

‎তিনি বলেন, মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়নে বাস্তব পদক্ষেপ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মানবিক দর্শনের প্রতিফলন। শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ, নারীদের মর্যাদা ও অধিকার এবং সাধারণ মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন।‎ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন,‎“ক্ষমতায় থেকেও তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, আর ক্ষমতার বাইরে থেকেও গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি। দীর্ঘ কারাবাস, শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তিনি মাথা নত করেননি। এ দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে তাঁর ত্যাগ ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

‎আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‎আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের এক কাতারে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। দলের ভেতরে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা মনমালিন্য থাকতেই পারে, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে সব ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

‎অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বিএনপির প্রয়াত নেতাদের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। দোয়া মাহফিল ঘিরে পুরো আয়োজনটি ছিল শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বিএনপির প্রতি আনুগত্য ও সাংগঠনিক ঐক্যের বার্তা দেন।


জেলার খবর এর আরও খবর: