শিরোনাম

‘ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাই না’

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন   |   অপরাধ

‘ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাই না’

সম্পৃক্ত ব্যাক্তি আপত্তি না জানালেও সাফাই বিতর্কিতের 

মুহুর্তেই সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলেন যেন কিছুই হয়নি

ছিলেন ফ্যাসিস্ট দোষর আর এখন হয়ে গেলেন বিএনপি


হাসান মাহমুদ রিপন :

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ফ্যাসিস্ট দোষর খ্যাত উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের একটি অংশে একটি বিতর্কিত ফেসবুক পেজে তার সম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের তিনি কোনো ধরনের আপত্তি না তুললওে ইতোমধ্যে ঐ বিতর্কিত ফেসবুক পেজটিতে তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এ যেন ‘ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খাই না’ প্রবাদের পুনরাবৃত্তি।

প্রসঙ্গত: গত ৪ মে দৈনিক অর্থনীতির কাগজ পত্রিকায় “ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগীরাই ডিপিডিসিতে এখন ‘ত্যাগী’!” শিরোনামে প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলোঃ

‘তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদকে নিয়ে ডিপিডিসির করিডোরে নানা মুখরোচক আলোচনা রয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পুরো সময়জুড়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। ১৫ আগস্টের প্রতিটি অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং আবেগঘন ভাষণ দিয়ে তিনি তৎকালীন আওয়ামী ঘরানার নেতৃত্বের কাছে প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেলের জন্মদিনের উৎসবে তিনি গান গেয়ে আসর জমাতেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ‘তোষণ’ নীতির বিনিময়ে তিনি বছরের পর বছর লোভনীয় প্রজেক্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কবজায় রেখেছিলেন।

৫ আগস্টের পর রাতারাতি সুর বদলে তিনি এখন বিএনপির কট্টর সমর্থক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে যে, নারায়ণগঞ্জ জোনের দুজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে তিনি নিজেকে ‘শুদ্ধ’ করার মিশনে নেমেছেন। এমনকি একটি বিতর্কিত ফেসবুক পেজ ভাড়া করে তার পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সেই একই পেজ থেকে বর্তমান বিদ্যুৎ সচিব ফারহানা মমতাজকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে, যা আব্দুল মজিদের প্রচ্ছন্ন মদতে হচ্ছে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন।’

যদিও এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি এর সাথে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জানান, প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ এতোটাই কৌশলীভাবে মুহুর্তেই সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলেন যেন কিছুই হয়নি বা করেননি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুবিধা ভোগকালে তার নিজের ফেসবুক পেজে অওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততা বিষয়ক ছবি ও লেখনিতে সয়লাভ ছিলো। কিন্তু এখন এসবের ছিটেফোঁটাও নেই, সবকিছু উধাও। আর এখন শুধু এনসিপি, বিএনপি ও জামায়াতের কিছু কার্যক্রম তার ফেসবুক পেজে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত এসব দলগুলোর কোনোটির কার্যক্রমের সাথে নিজেকে খুব বেশি সম্পৃক্ত করতে পারেননি। যার কারনে নিজের ছবি সহ আজও দেয়া সম্ভব হয়নি। হয়তোবা শিগগিরই তিনি এ মিশনেও সফল হবেন। আবারও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ছায়াতলে থেকে ভোগ করবেন নানা সুবিধা! আর বঞ্চিত ও হয়রানী করা হবে ত্যাগীদের। প্রকৌশলীরা জানান, আব্দুল মজিদ ছিলেন ফ্যাসিস্ট দোষর আর ভোল পাল্টে এখন হয়ে গেলেন বিএনপি। এরইমধ্যে প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ নিজেকে বিএনপি’র একনিষ্ঠ বলে জাহির করতে শুরু করেছেন। তারা বলেন, প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ যদি ঐ ফেসবুক পেজের সাথে জড়িত না-ই থাকেন তাহলে তার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের সাফাই কেন ঐ ফেসবুক পেজ-এ প্রচার করছে। এছাড়া পেজটিতে বিভিন্ন সময়ে তার বিষয়ে অনেক গুনগান করা হয়েছে। ডিপিডিসিতে কি আর কোনো দক্ষ প্রকৌশলী নেই? যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত ঐ ফেসবুক পেজে তার জড়িত থাকার গুঞ্জন উঠেছে।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ এসব বিষয়ে বলেন, আমি আসলে ঐ ফেসবুক পেজের কয়েকটি ষ্ট্যাটাসে কমেন্টস করেছি আর সেজন্যেই এটার সাথে আমি জড়িত বলে অনেকে সন্দেহ পোষন করছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বিষয়ে হওয়া প্রতিবেদনের ঐ ফেসবুক পেজ থেকে সাফাই গেয়েছে নাকি? আমার তাতো জানা নেই।’

ডিপিডিসির একদল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিজেদের ‘অতীত পাপ’ ঢাকার চেষ্টা করছেন। প্রভাবশালী মহলে লবিং করে অনেকেই এরইমধ্যে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করেছেন, যা ডিপিডিসির ভেতরে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সংস্থাটির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন তাকিয়ে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের দিকে। তারা আশা করছেন, ৫ আগস্টের শহীদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে এই ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ডিপিডিসিকে একটি স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।


অপরাধ এর আরও খবর: