শিরোনাম

মহেশখালীতে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

 প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৬ অপরাহ্ন   |   ধর্ম

মহেশখালীতে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র


নুরুল করিম (মহেশখালী) :

সারা দেশের ন্যায় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক মানের দৃষ্টিনন্দন উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত করেছে সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর।


মসজিদে একই সঙ্গে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে কাজ করবে। তারই ধারাবাহিকতায় মহেশখালী উপজেলায় চত্বরে নির্মাণ হচ্ছে অত্যাধুনিক চারতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মহেশখালী উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। জানা গেছে, মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের জন্য ২০২৫ সালে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনের টেন্ডার আহবান করা হয়।


টেন্ডারে "মা কনস্ট্রাকশন" নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়, কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ১৯ মে। তাদের ২০২৬ সালের জুন মাসে কাজের কার্যাদেশ দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর।


জানা যায়, ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই মডেল মসজিদে থাকছে এক সাথে ১২শ’ থেকে ১৫ শ’ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা। নারীদের আলাদা নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নারী ও পুরুষের নামাজ আদায় ছাড়াও থাকছে ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, লাইব্রেরি, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, ইসলামি গবেষণা ও দাওয়া কার্যক্রম, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, নারী ও পুরুষের আলাদা অজুর ব্যবস্থা, হজ যাত্রীদের নিবন্ধন প্রভৃতি।


আরব বিশ্বের মসজিদ কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের আদলে এই মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুবিশাল এই মডেল মসজিদে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থাকবে।


এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং আন্ডারগ্রাউন্ডে সুবিশাল গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।


ধর্মানুরাগীদের পাশাপাশি এই মসজিদ নির্মাণে আনন্দিত ও উৎসাহিত মহেশখালীর সর্বস্তরের মানুষ। অত্যাধুনিক চারতলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ শেষে নামাজের জন্য কবে নাগাদ দ্বার উন্মোচিত হবে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে স্থানীয় মুসুল্লিরা।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধীকারী নাজমুল হাসান শিফন জানান, মসজিদটির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের কাজের সময় আঠারো মাস। ইতোমধ্যে ভবনের প্রথমতলার ফাইলিং ঢালাই শেষ হয়েছে, বাকি কাজ চলমান রয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, এই দেশে সঠিক ইসলামি মূল্যবোধের চর্চা ও উন্নয়ন এবং ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যেই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় মহেশখালী উপজেলায় মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।