প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / এই সময়ে বড় প্রয়োজন গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরীর কার্যক্রম

এই সময়ে বড় প্রয়োজন গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরীর কার্যক্রম

মেহেদী হাসান সোহেল(গাজীপুর)ঃ
গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে নতুন নির্মিত ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরী বিশ্বব্যাপী এই মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কালীন সময়ে মুখ থুবরে পড়ে আছে। বর্তমান সময়ে জেলার সাধারণ শিক্ষার্থী ও বইপড়ুয়া মানুষদের সংখ্যা কম থাকলেও যে সংখ্যক মানুষ গুলো বই পড়ে, তাদের সুন্দর সময় পার করছেন তারা এখন অপেক্ষায় আছেন নির্দেশনার। কবে খুলবে গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরী টি। জেলা সদরের আশেপাশে স্কুল কলেজ এবং পেশাজীবী মানুষদের বই পড়ার চাহিদা পুরন করে আসছিল এই পাবলিক লাইব্রেরীটি।যদিও গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরী পুরনো ভবন ছেড়ে নির্মিত নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। স্থানান্তরিত হওয়ার পর কার্যক্রম শুরু করার এই সময়ের কোভিড-১৯ সংক্রমণ বিস্তারের কারণে সারাদেশের ন্যায় গাজীপুর জেলা পাবলিক লাবিলিটি ও তার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে ২০২০ এর মার্চে।প্রতিদিন এই লাইব্রেরীতে বই পড়তে আসা এক দেড় শত মানুষ তাদের বই পড়ার চাহিদা হতে নিলিপ্ত হয়ে বসে আছে ঘর বন্দী হয়ে। এরকম বই পড়তে আসা শিক্ষক আবুল হাশেম জানান আমি সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারটি দিন গাজীপুর পাবলিক লাইব্রেরীতে বই পড়তে আসা হতো। এখন বাসায় বসে বসে অনলাইনে মাধ্যমে আমার সেই বই পড়ার চাহিদা পূরণ করছি। কিন্তু বইয়ের ক্ষুদা কেমন যেন রয়েই গেছে।স্কুল-কলেজ গুলো বন্ধ থাকার কারণে যাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে তারা সময়টাকে কাজে লাগাতে পারছে। যদিও ফোনের মাধ্যমে মোবাইল ডাটায় চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে সময়টাকে কাজে লাগাতে পারা যায় না। গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরী কোভিড -১৯ এর সূচনা লগ্ন থেকে বন্ধ হয়ে আসার কারণে গাজীপুর পাবলিক লাইব্রেরীতে আসতে পারছেনা কোমলমতি শিশুরা যাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছিল জেলা পাবলিক লাইব্রেরী বিভিন্ন রকম কর্মসূচির মাধ্যমে।

এ বিষয়ে জেলা পাবলিক লাইব্রেরী লাইবেরিয়ার রুবিনা মিরাজ জানান আমরা যথাযথ মহলের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি সরকারি নির্দেশনা পেলেই আমরা নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করব এবং এর পাশাপাশি পাঠক বৃদ্ধির জন্য আমাদের গৃহীত কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন রকম সভা সেমিনার আয়োজন করার চিন্তা করছি।বিশেষ করে স্কুল কলেজগুলোতে আমরা লাইব্রেরী উন্নয়ন কর্মকান্ড কে ত্বরান্বিত করার জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করবো।এছাড়াও বেসরকারি উদ্যোগে জেলায় যে সকল লাইব্রেরী রয়েছে তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করবো। যার মাধ্যমে একটি বই পড়া পাঠক সমাজ নির্মাণ করা সম্ভব হয় এবং তাদের লাইব্রেরীতে বইয়ের সংখ্যা কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়েও আমরা মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ প্রস্তাব করবো।গাজীপুর জেলা পাবলিক লাইব্রেরীতে আমরা একটি জব কর্নার চালু করেছিলাম যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে পেশাগতভাবে দক্ষ হিসেবে তৈরি করার জন্য সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারত।করোনাকালীন এই সময়ে সেই পেশাগতভাবে তৈরি হওয়া ও চাকরি প্রার্থীগণ তাদের প্রস্তুতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জব কর্নারে আমরা ধীরে ধীরে একটি শক্ত মজবুত কাঠামোর তৈরি করতে সচেষ্ট হচ্ছিলাম।ঠিক সেই মুহূর্তেই সারা পৃথিবীর মতো আমরাও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সকল কার্যক্রম থেকে দূরে সরে এসেছি। তিনি আরোও জানান আমাদের এখানে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আমরা আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বের স্থবিরতা আমাদের কর্ম উদ্দীপনাকে স্থবির করে দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ কাউন্সিল এর সঙ্গে আমাদের গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এর সমন্বয়ে প্রকল্প গুলি ও এখন বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। আমরা নির্দেশনা পাওয়ার পরেই দেশের সর্বোচ্চ জেলার মত গাজীপুরেও আমাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাব বলে আশা রাখছি।
বর্তমানে জেলা পাবলিক লাইব্রেরীতে তিন ধরনের সদস্য নেয়া হচ্ছিল।
১৬ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য ২০০ টাকা জামানতে,১৬ বছরের উপরে ছাত্রদের জন্য ৩০০ টাকা জামানতে ও সাধারণ পাঠকদের জন্যে৫০০ জামানতে সদস্য হয়ে বছর ব্যাপী ২৫টাকা নবায়নের মধ্যমে বই পড়ার জন্যে বই বাড়ীতে নিয়ে পড়া যেত।সে কার্যক্রমটি চালু করার জন্য যথাযথ মহলের নির্দেশনার অপেক্ষায় র‍য়েছে বলে জানান।

About arthonitee

Check Also

কাপাসিয়ায় ডেইরী খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সন্মেলন অনুষ্ঠিত

মেহেদী হাসান সোহেল (গাজীপুর প্রতিনিধি): কাপাসিয়া ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশনের উদ্যোগে উপজেলার ডেইরী ও গরু মোটাতাজা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *