প্রচ্ছদ / মতামত / বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে :  শোকের মাস আগস্টে  যা করা উচিত

বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে :  শোকের মাস আগস্টে  যা করা উচিত

সফিকুর রহমান চৌধুরী টুটুল: 

বাঙালির জাতীয় জীবনে মোটাদাগে দু’টি ঘটনা ছিল অবিস্মরণীয়। প্রথমটি আমাদের জন্য খুশির; যে পাথর ভার চেঁপে বসেছিলো কাঁধে তা’ নেমে যাওয়ার স্বস্তি; আমাদের স্বাধীনতা। আর দ্বিতীয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত; যে ভূত তাড়িয়েছিলাম ৭১’র ১৬ ডিসেম্বরে তাদের প্রেতাত্মারা যারা আওয়ামীলীগের অন্দরে ঘাপটি মেরে বসেছিলো তারা বাঙ্গালীর জাতির জনক, মুক্তির দিশারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট। এরপর বুড়িগঙ্গা দিয়ে অনেক পানি প্রবাহিত হয়েছে।দীর্ঘ একুশ বছর আওয়ামীলীগ নিজ দেশে পরবাসী হয়ে থেকেছে।জাতির জনকের নাম কেউ নিতে পারেনি, তাঁর মেঘনাকার্টা বলে খ্যাত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষন পরবর্তী প্রজন্মকে শুনতে দেওয়া হয়নি।একটা জাতিকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো করে যে বীর একত্রিত করলো, মুক্তির স্বপ্ন দেখালো, স্বাধীনতা এনে দিল। তাঁকে একদল নরপশু নির্মমভাবে শুধু হত্যাই করলো না ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে হত্যাকারীদের বিচারিক মুক্তি পর্যন্ত দেওয়া হল। শুরু হলো আওয়ামীলীগের আন্দোলন সংগ্রাম।একদিকে জাতির জনকের হত্যার বিচার অন্যদিকে দেশের মেহনতী মানুষের অধিকার আদায় ; বিরামহীন যুগপত ভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেল আওয়ামী লীগ।
দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই দল অবশেষে জাতির জনকের সুযোগ্য উত্তরসূরী ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ এবং বিচক্ষণ নেতৃত্বে ক্ষমতায় এলো।দেশের মানুষ আবার স্বস্তির নিশ্বাস নিল, তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত সোনার বাংলা দেখার। বলার অপেক্ষা রাখেনা খুব দ্রুতই পাল্টে গেল সবকিছু। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হল। ১৫ আগষ্টের খুনীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হল।এদিনটিকে জাতীয় শোকদিবস ঘোষণা করা হলো, সরকারি ছুটিও ঘোষিত হল এদিন।

শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৯৬ থেকে আজ পর্যন্ত মোট ২৫ বৎসরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে ১৮ বৎসর।ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে বাসা বেঁধেছে হাইব্রিড, কাউয়া, সুযোগসন্ধানী, লোভী, আর পোশাক পাল্টানো এক শ্রেণীর নামধারি আওয়ামী লীগার। তারা অনেক টাকা খরচ করে ১৫ আগস্টে কাঙ্গালী ভোঁজের নামে পিকনিক পার্টি দেয়, গাঁদা গাঁদা ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপায়, তোরণ বানায়, আরো কতকি!! ওরা পোস্টারে নিজের বড় একটা ছবি, ইমিডিয়েট নেতার বড় ছবি, তার উপরের নেতার বড় ছবি এভাবে ক্রমান্বয়ে ২০/২৫ টা ছবি দেওয়ার পরে জাতির জনকের ছবি এবং ১৫ আগস্টে নির্মম ভাবে নিহত ১৭ জন শহীদের ছবির আর স্থান দিতে পারেনা।ফলে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে হয় এমন ভাবে জাতির জনকের নামকাওয়াস্তে একটা ছবি দিয়ে ব্যানার পোষ্টার ছাপায়।আমরা যারা ম্যাংগো পিপল তারা ভাবি আহা এরাই বুঝি ১৫ আগষ্টের নির্মমতার স্বীকার! ওদের জন্য আমরা ইন্না-লিল্লাহ পড়ি।জীবিত থেকেও ওরা মৃত হয়ে ঝোলে ব্যানারে, পোস্টারে।আফসোস!! আর যারা প্রকৃত শহীদ তারা থাকে প্রকৃত আওয়ামী লীগাদের হৃদয়ের তন্ত্রীতে, মনের গভীরে, চেতনার অনির্বাণ শিখায় প্রজ্জ্বলিত হয়ে।
প্রিয় সুহৃদ আসুননা ১৫ আগষ্টকে একটু নতুনভাবে চিন্তা করি।এখনতো জাতিরজনকের হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।এখন কি অন্য আঙ্গিকে ১৫ আগষ্টকে পালন করা যায় না? এভাবে কি আমরা ভাবতে পারিনা
১) সকল মুসলমান ১৫ আগষ্ট রোজা রাখবেন
২) অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের মত করে ব্রত আচার পালন করবেন
৩) কোন কাঙ্গালী ভোঁজ নয় প্রত্যেক মসজিদে সবাই একসাথে ইফতার করবেন এবং মিলাদ মাহফিল করবেন
৫) এতিমখানায় এদিন ভালো বাজার করে দিয়ে আসবেন যাতে এতিমরা এ দিনটায় ভালো খাবার খেতে পায়
৬) এদিন কোন তোরণ হবেনা, ব্যানার পোস্টার কিছু থাকতে পারে তবে তাতে কারো কোন ছবি থাকবেনা।শুধু জাতিরজনকের ছবি আর যারা এদিন শহীদ হয়েছেন তাদের ছবি থাকতে পারে
৭) ব্যানার পোস্টার অবশ্যই সাদাকালো হবে।কারন আমি মনে করিনা মৃত্যু রঙিন কোন ব্যাপার
৮) পোস্টারে শহীদদের ছবিতে প্রতিকী কোন রক্তের ছাপ থাকতে পারবেনা। আচ্ছা আমার বাবা মা যদি আততায়ীর গুলিতে মারা যেত তাহলে আমি কি ঐদিন তাদের ছবির উপর রক্তের ছোপ এঁকে পোস্টার সাঁটাতাম?
৯) সারাদিন প্রতিটি মসজিদে খতমে কোরআন হবে, মন্দির, প্যাগোডা,গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
এভাবে সারাদেশে একটা ভাবগাম্ভীর্যের সৃষ্টি হবে।আ’দতেই মনে হবে আজ শোকের দিন।সকলের দোয়ায়, মোনাজাতে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা হবে। অন্যরকম ব্যঞ্জনা নিয়ে ধরা দেবে ১৫ আগষ্ট আমাদের মাঝে। আমরা শোককে শক্তিতে পরিনত করে আগামীর সূখী সম্মৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মানে জননেত্রীর নির্দেশে ঝাঁপিয়ে পড়বো।
এমনটা কি হতে পারে না? আসুন না সবাই মিলে চেষ্টা করে দেখি।

 

(সফিকুর রহমান চৌধুরী টুটুল,  চেয়ারম্যান, গোবরা ইউনিয়ন , গোোপালগঞ্জ)

About arthonitee

Check Also

করোনা প্রতিরোধের চলমান উপায়গুলোকে দৈনিন্দন অভ্যসে পরিণত করতে হবে

স. ম. গোলাম কিবরিয়া : অফিসের পথে মেসেঞ্জারে পাওয়া শুভ সকালের উত্তর দেই প্রতিদিন। সেইসাথে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *