প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য / কোভিড-১৯ চিকিৎসা হার্বসের মাধ্যমেই কার্যকর

কোভিড-১৯ চিকিৎসা হার্বসের মাধ্যমেই কার্যকর

অকা ডেস্ক
প্রতিদিনই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরীর চেষ্টা করলেও আদৌ এখনও কোন কার্যকর টিকা তৈরী করতে সক্ষম হননি। অন্যদিকে কোভিড-১৯ এর গতিপ্রকৃতি নানা রূপ নিচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একবার বলেছিল কোভিড-১৯ এর মহামারির দিন শেষ হয়ে আসছে, একইভাবে আবার ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় সংক্রমনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমন কমলেও মৃত্যু সংখ্যা একই অবস্থায় রয়েছে। যার গড় হার ৩০-৫০। এই অবস্থায় হার্বস চিকিৎসক মাহ্মুদ মোরশেদ চৌধুরী শুনিয়েছেন আশার বাণী। তার উদ্ভাবিত হার্বস ফুড সাপ্লিমেন্ট খেয়ে এর মধ্যে বেশ কয়েকজন সুস্থ্যও হয়েছেন। দৈনিক অর্থনীতির কাগজ এর পক্ষ থেকে তার সাথে এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কথা হয়-
প্রশ্ন-১: কোভিড-১৯ এ প্রাণহানির কারণ কি?
কোভিড-১৯ এ প্রাণহানির কথা বলতে গেলে বলতে হয় এটা এমনই একটা জার্ম, যে জার্মটা প্রথমেই মানুষের ইম্যিউন সিস্টেম কে আক্রমন করে। আর ইম্যিউন সিস্টেম দেহের মূল চালিকাশক্তি। অন্যদিকে এই জার্মটির উপরের লেয়ারটি তৈলাক্ত। যে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবারই সর্তক করছে যে সাবান পানি সবচেয়ে বেশী কার্যকরী। কারণ সাবানই একমাত্র তৈলাক্ত আবরণকে গলিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু মানুষের শরীরে ভিতরেও যে ফ্যাট থাকে সেখানে কিন্তু সাবান ও সাবান জাতীয় কিছু প্রয়োগ করা সম্ভব না। অন্যদিকে এমন কোনো কেমিকেলস নেই যা অচিরেই শরীরের চর্বিকে গলিয়ে ফেলতে পারে। এজন্যই এই জীবানু শরীরে প্রবেশ করে দ্রæত বাড়তে থাকে। যার কারনে একে সহজেই দমন করা সম্ভব হয় না। বিশেষত ডায়াবেটিক পেসেন্টদের ঝুঁকি বেশী থাকে কারন তাদের ইম্যিউন সিস্টেম দূর্বল।
প্রশ্ন-২: কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের ভবিষ্যত কি?
এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীগণ ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। তবে কবে নাগাদ এর সাফল্য পাওয়া যাবে সেটা বলা মুশকিল। এ্যালোপ্যাথিতে এর প্রতিষেক তৈরী করা কঠিন বলে আমার মনে হয়। কারণ এ্যালোপ্যাথির মূলেই রয়েছে কেমিকেল। যার বিক্রিয়ায় জীবানু মারা সম্ভব না হয়ে ভ্যাকসিন নিজেও নিস্ক্রিয় হতে পারে অথবা তার ভয়ানক পার্শ¦প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। এমনিতেই এ্যালোপ্যাথিক ওষুধের সাইড এফেক্ট সর্বজন স্বীকৃত। তবে আমার ধারণা হারবাল ওষুধ প্রয়োগ করলে হয়তো এর থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন-৩: কোভিড-১৯ বারবার জিন পরিবর্তনের কারন কি?
জিন পরিবর্তনের অনেক কারণই থাকতে পারে, যদি সেটা এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা কনফার্ম করতে পারেনি। তবে আমার মতে বোঝা বা বোঝানোর জন্য ধরে নেয়া যেতে পারে, যেমন – ১. জলবায়ুর পরিবর্তন, ২. মানুষের শারীরিক কোষের সংমিশ্রন, ৩. জীবানু থেকে জীবানুর সংমিশ্রন, ৪. পশু পাখির ভিতরেও সংক্রামিত হয়ে মানব দেহে ফিরে আসা, ৫. শারীরিক ফ্যাটের সংমিশ্রন ইত্যাদি। কিন্তু এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের জিন ঠিক কি ধরনের সেটা গতিপ্রকৃতি এবং কোন ধরনের খাবার খেয়ে এই জীবানু বেঁচে থাকে সেটা এখনও আবিস্কৃত হয়নি। আর এ পুরো বিষয়টি না জানলে এর কোনো ভ্যাকসিন আবিস্কার সহজ হবে বলে আমি মনে করিনা।
প্রশ্ন-৪: কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ ব্যবস্থার কথা যেভাবে বলা হচ্ছে এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?
আমি মনে করি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা যদিও সারা পৃথিবীর মানুষকে যেভাবে সতর্ক করার জন্য যে স্বাস্থ্যবিধিমালা আরোপ করেছেন, প্রথম দিকে অনেক দেশই সেটাকে গুরুত্ব দেয়নি। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, ইত্যাদি। অন্যদিকে যারা গুরুত্ব দিয়েছে তারা কিন্তু এখনও এতটা খারাপ পর্যায়ে যায়নি। বরং তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। এখন পর্যন্ত যেমন ভিয়েতনামে যেমন কোভিড-১৯ এর রোগী বলতে গেলে নেই। নিউজিল্যান্ড, হংকং, তাইওয়ানে আক্রান্তের হার এখনও খুবই কম এবং তারা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পেরেছে। এককথায় যারাই নকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও স্বাস্থ্য বিধি না মানার কারনেই আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে।
প্রশ্ন-৪: বিজ্ঞানীরা বলেছেন আক্রান্তের ৮০% রোগ প্রতিরোধক শক্তি হারাচ্ছে, এটাকে কিভাবে দেখছে।
বিজ্ঞানীদের ভাষায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৮০% নষ্ট হয়ে গেলে এমনিতেইতো রোগী মরে যাবার কথা। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠলেও অনেকেরই লিভারে প্রবলেম, কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনীরোগ, হাটুর দূর্বলতা দেখা দেয় ও থেকে যায়। এছাড়াও ইমিউন সিস্টেম দূর্বল হয়ে গেলে কোন ব্যক্তি বিভিন্ন রোগেই আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।
প্রশ্ন-৫: একজন গবেষক হিসেবে আপনার উদ্ভাবিত হার্বস ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহারে নিয়ে কি ভাবছেন?
কোভিড-১৯ এর ব্যাপারে বলতে গেলে আমার মনে হয় এ্যলোপ্যাথিক ঔষধ করোনা দমনে খুব কার্যকরী নাও হতে পারে কারন ইম্যিউন সিস্টেমের সাথে যে সমস্ত অর্গান জড়িত সবগুলো অর্গানকে কোন একক এ্যলোপ্যাথিক ঔষধে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এর চেয়ে আমরা যে মন ভাত, রুটি, তরকারী খেয়ে বেঁচে আছি এসবইতো হার্বস এবং হার্বসের মাধ্যমে ইম্যিউন সিস্টেমকে ডেভলপ করা সম্ভব যাতে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এধরনের হারবাল ফুড সাপ্লিমেন্ট দিয়ে একদিকে যেমন ইম্যিউন সিস্টেম শক্তিশালী হবে অন্যদিকে মানুষের রোগ দমন ও প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যাবে। যেমন ধরুন আমার তৈরী হারবাল সাপ্লিমেন্ট খেয়ে একদিকে যেমন আক্রান্তও হয়নি অন্যদিকে আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার পরও হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় খেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং টেষ্টে নেগেটিভও প্রমানিত হয়েছেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতো নেইই বরং সুস্থ্যই আছেন।
এটা বলতে গেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীর সাড়ে সাত শত মানুষের স্বাস্থ্য সেবার প্রতিনিধিত্ব করলেও তারা কর্পোরেট পলিসি অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি ও হার্বাল ঔষধকে নিরুৎসাহিত করে চলেছে। কিন্তু প্রায় অনেক ঔষধই হার্বসের ব্যবহার হলেও এ্যলোপ্যাথিক ঔষুধের পক্ষ সমর্থন করে বসে আছে।
এই করোনা মহামারীর ভিতরেও যদি হারবাল চিকিৎসায় সুফল পাওয়া যায় তবে কি সেটাকে গ্রহন করা উচিত ছিল না? অন্যদিকে দেশীয়ভাবেও সরকার হার্বস ও হোমিওপ্যাথিক ঔষুধের প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে পারে কারন যদি দেশের মানুষও উপকৃত হতে পারত।

 

About jne

Check Also

সোমবার প্রকাশ হবে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন পরীক্ষার ফল

করোনাভাইরাস রুখতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রথম ধাপের পরীক্ষার ফল সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *