প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / ভাওয়াল অঞ্চলে কাঁঠাল চাষে কাঙ্খিত মুনাফা থেকে বঞ্চিত কৃষক

ভাওয়াল অঞ্চলে কাঁঠাল চাষে কাঙ্খিত মুনাফা থেকে বঞ্চিত কৃষক

মেহেদী হাসান সোহেল (গাজীপুর) :
।গ্রীষ্ম মৌসুমের ফল অন্যতম রাসালো ফল কাঁঠাল নিয়ে সমগ্র ভাওয়াল অঞ্চলে লেগে যায় এক আনন্দ মুখর অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। এই অঞ্চলের মানুষ সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকে কাঁঠালের মৌসুমের জন্য। ভাওয়াল অঞ্চলের মধ্যে বিশেষ করে কাপাসিয়া,শ্রীপু্‌র ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষ তাদের মধ্যে মৌসুমি ফ্ল কাঁঠাল একটি বিশেষ জায়গা দখল করে থাকে।কেন না গ্রীষ্ম কালে এই অঞ্চলের কৃষকদের অর্থ আয়ের বড় একটা অংশ আসে কাঁঠাল থেকে। কিন্তু বিরাজজমান মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে কাঁঠাল কে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া মৌসুমী ব্যাবসায়ীদের আনাগোনা এবার নেই বললেই চলে। যার ফলে কাঁঠাল ব্যাবাসায় পাইকারী ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে অনেক। দিগত বছর গুলেতা দেখা যেত আই মৌসুমী ব্যাবসায়ীরা চলে যেতেন কাঁঠাল কিনতে প্রত্যন্ত গ্রামের বাগানে বগানে। ফলে বাজারে ের প্রভাব পড়তো। এবছর আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়া সত্তেও কৃষক যে আশায় কাঁঠালের ভারী বোঝা বহন করে বাজারে আনার পর কাংখিত মুল্য না পেয়ে হতাশাজনক দামে কাঁঠাল বিক্রি করে আসছে।

গাজীপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে বেশ স্ংকটময় সময় পার করছেন এলাকার কৃষকরা। কাপাসিয়া উপজেলার কাজাহাজী গ্রামের কাঁঠাল চাষি আব্দুল হাই জানান ,বিগত বছর গুলোতে কাঁঠাল নিয়ে বাজারে যেতে হয়নি। মৌসুমি ব্যাবসায়িরা আমাদের আমাদের এলাকায় এসে তাদের নিজেদের পরিবহন ব্যবস্থায় কাঁঠাল কিনে নিয়ে যেতেন।এবছরে দু,একজন মৌসুমি পাইকারি ত্রেতা এসে নুন্যত্ম দাম না বলায়, আমি নিজ পরিবহন খরচায় স্থানীয় রাজাবাড়ি বাজারে নিয়ে গেলে হতাশা জনক দামে কাঁঠাল বিক্রি করে দিয়ে আসি। মৌসুমি ব্যাবসায়ি তোফাজ্জল জানায় শহরের মানুষ কিছুটা যাওয়ায় আর এই করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের ক্রয় ক্ষমাটাও কমে গেছে ।আগে সাধারন শ্রমিক থেকে শুরু করে দিন মজুর দিন শেষে বাজারে মৌসুমি ফল কিনে নিয়ে যেত।এখন আগামী দিন কিভাবে চলবে তার চিন্তায় সবাই দিনগুনে চলার চেস্টা করে।তাই মোসুমী ফল কেনাতো দুরের কথা অজানা শঙ্কায় মানুষ অনেকটাই দিশেহারা।

শ্রীপুরের বরমী বাজারের মোসুমী ফল বিক্রেতা জলিল জানান গ্রামের সাধারন মানুষ এই কাঁঠাল আনারসের সিজনে কিছু টাকাপয়সার মুখ দেখতো।এবার বেচাবিক্রি ধরন দেখে অনেক মানুষ পাকা কাঁঠাল আর বোঝা বহন করে বাজারে আনে না।তাদের গবাদি পশুদের খাইয়ে দিচ্ছে।

ভাওয়াল মির্জাপুরের কাঁঠালের বেশ বড় বগান মালিক মামুন জানায় তার বাগগানের কাঁঠাল বিদেশে প্রতি বছর রপ্তানী হতো।এবছর সে একটি কাঁঠালও দেশের বাইরে পাঠাতে পারেনি। বহুশিল্পকারখান গড়ে ওঠায় গাজীপুর তথা ভাওয়াল অঞ্চল হারিয়ে ফেলছে তার কৃষি বিচিত্র ের বৈশ্বিক সমস্যার কারনে এই অঞ্চলের মানুষ হারিয়ে ফেলছে কৃষিজ পন্য উৎপাদনের আগ্রহ।

About arthonitee

Check Also

আটোয়ারীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

মোঃ মাসুদ রানা (আটোয়ারী, পঞ্চগড়) : “মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করি-সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ি” প্রতিপাদ্য বিষয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *