শিরোনাম
প্রচ্ছদ / ধর্ম / করোনাভাইরাস: রেড জোনে ঘরে বসে ইবাদত-উপাসনা

করোনাভাইরাস: রেড জোনে ঘরে বসে ইবাদত-উপাসনা

করোনাভাইরাস মহামারীতে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় জনসাধারণকে ইবাদত-উপাসনা নিজ নিজ ঘরে পালনের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

শনিবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে রেড ডোন এলাকায় মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবার সঙ্গে পরামর্শক্রমে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সাধারণ জনসাধারণের মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইবাদত/উপাসনার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোয় মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ব্যতীত অন্য সব মুসল্লিকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।

জরুরি ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়। সেগুলো হলো:
রেড জোন এলাকায় মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব,ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনধিক ৫ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন অংশ নেয়া যাবে। জনস্বার্থে বাইরের কোনো মুসল্লি মসজিদের ভেতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
একইসঙ্গে এসব এলাকায় অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের স্ব-স্ব উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করতে হবে।
এ সময়ে সারা দেশের কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলীগি তালীম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না।
অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা এ সময়ে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।
সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে এ সরকারি নির্দেশ লংঘন করা হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
সুনির্দিষ্ট করে সংক্রমণ বিবেচনায় সারা দেশ তিনটি জোনের (লাল, হলুদ, সবুজ) আওতায় নিয়ে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। ‘বাংলাদেশ রিস্ক জোন বেজড কোভিড-১৯ কন্টিমিনেট ইমপ্লেমেন্টশন স্ট্রাটেজি/গাইড’ শীর্ষক এ নির্দেশনা ৯ জুন চূড়ান্ত হয়েছে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কোনো এলাকায় গত ১৪ দিনের মধ্যে প্রতি লাখে ৬০ জন বা তার বেশি লোক সংক্রমণের শিকার হন তবে ওই এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে অন্য জেলার ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১০ জন নিশ্চিত ভাবে শনাক্ত হলেই সেটি রেড জোন বলে বিবেচিত হবে।

রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, রাজধানীর ৪৯টি এলাকায় ৬০ জনের বেশি নিশ্চিত করোনা রোগী রয়েছেন। সেই হিসাবে এসব এলাকা শিগগির লকডাউন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব এলাকা হচ্ছে: আদাবর, আগারগাঁও, আজিমপুর, বাবুবাজার, বাড্ডা, বনশ্রী, বনানী, বংশাল, বাসাবো, বসুন্ধরা, চকবাজার, ডেমরা, ধানমণ্ডি, ইস্কাটন, ফার্মগেট, গেণ্ডারিয়া, গ্রিনরোড, গুলশান, হাজারীবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, কল্যাণপুর, কলাবাগান, কাকরাইল, কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও, লালবাগ, লালমাটিয়া, মালিবাগ, মিরপুর, মিরপুর-১, মিরপুর-১২, মগবাজার, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, মুগদা, পল্টন, রাজারবাগ, রামপুরা, রমনা, শাজাহানপুর, শাহবাগ, শ্যামলী, শান্তিনগর, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও, উত্তরা, ওয়ারী।

About jne

Check Also

বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রবেশ

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে মসজিদে নামাজ পড়ার ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *