শিরোনাম
প্রচ্ছদ / শিক্ষাঙ্গন / সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ও শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের দাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ও শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের দাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের

কেন্দ্রীয় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের  উদ্যোগে  সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন-ফি মওকুফ ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালিত হয়। স্মারকলিপি পেশের পূর্বে জাতীয়  প্রেস ক্লাবের সামনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় জোটের   সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি  মাসুদ রানার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  মেহেদী হাসান নোবেল (সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন), ইকবাল কবির (সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী), নাসির উদ্দিন প্রিন্স (সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট) প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন,  করোনা সংক্রমণে  সারাদেশে একটি সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে  কৃষি-স্বাস্থ্য- শিক্ষা সকল খাতেই বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন। আগামী জুন মাসে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হবে। বরাবরই অর্থ বরাদ্দের  ক্ষেত্রে শিক্ষাখাতকে অবহেলা করা হয়। একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ও  দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব  দেওয়া  আবশ্যক। ইউনিসেফ এর প্রস্তাবনায় একটি  দেশের জাতীয় আয়ের শতকরা ৮ ভাগ অর্থ বরাদ্দ  দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু  প্রতি বছরেই শিক্ষাখাতের পর্যাপ্ত বরাদ্দকে উপেক্ষা করা হয়েছে। গত দশ বছরে শিক্ষার ব্যয় এতো  বেড়েছে  যে প্রাথমিক স্তর  শেষ করে মাধ্যমিক স্তরেই লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী  ঝরে পড়ছে। সারাদেশে উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় নামেমাত্র বরাদ্দের কারণে  শুধু সার্টিফিকেট সর্বস্ব  প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে  সংকট ক্রমাগত ঘনীভূত হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দফায় দফায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে  ফেটে  পড়লেও  সংকট নিরসনে পর্যাপ্ত বরাদ্দের  কোন উদ্যোগ  নেওয়া হয়নি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে  পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের  কোন শর্ত না  মেনে চললেও  ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে বছরের পর বছর ভর্তি ফি, টিউশন ফি নিয়ে উচ্চশিক্ষার নামে সার্টিফিকেট ব্যবসার অবাধ  ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সমস্ত সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছিল আমাদের  দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এর সাথে সংকট সৃষ্টি করছে করোনা। এ বছরে করোনা সংক্রমণের  কারণে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকীর মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের এ সময়ে অসংখ্য পরিবারে যখন  বেঁচে থাকাই কঠিন তখন শিক্ষাব্যয় নির্বাহ একটি বাড়তি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুঃস্থ  এসকল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিক ব্যবস্থার অভাবে সারাদেশব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে  মেস ভাড়া করে থাকতে হয়। শহরের  মেসগুলোতে  অবস্থানকারী  শিক্ষার্থীরা  বেশিরভাগই টিউশনি করে চলতো অনেকে পরিবারেও  কিছুটা সহযোগিতা করতো। লক ডাউনে দুই মাস টিউশনি  নেই। শিক্ষার্থীরা  মেসে না থাকলেও  মেস মালিকরা দু মাসের বকেয়া ভাড়া আদায়ের  চেষ্টা করছে। অনেক  মেস মালিক আবার এই মেসভাড়ার ওপর নির্ভরশীল। এই সংকট নিরসনে সংকটগ্রস্থ  মেসের শিক্ষার্থীদেরকে  মেসের ভাড়া পরিশোধের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন। একই সাথে এ বছরের সকল প্রকার  বেতন-ফি ও  সেমিস্টার ফি বাতিল করা প্রয়োজন এবং করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাাখতে ও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলে অন্তত ১ সেমিস্টার টিউশন ফি মওকুফে সরকারের যথাযথ ভূমিকা  প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তারা পরিশেষে, নিম্নোক্ত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
  • সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বছরের বেতন ফি মওকুফ করতে হবে।
  • করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ কর। পরবর্তীতে ক্লাস শুরু হলে অন্তত ১ সেমিস্টার  টিউশন ফি নেয়া চলবে না।
  • অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফে রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

About jne

Check Also

ভালো কাজে প্রথম সারিতেই থাকে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম সরকার অনুমোদিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অনেক ভালো কাজেও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *