প্রচ্ছদ / ব্যাবসা-বাণিজ্য / করোনা মোকাবেলায় ১১ ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি

করোনা মোকাবেলায় ১১ ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি

বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় বিনা সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে ১১টি ব্যবসায়ী সংগঠন।
একইসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়গুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনগুলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
১১টি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সুপারিশগুলো তৈরি করা হয়। সংগঠনগুলো হচ্ছে- এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), এমসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিসিএস), জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ), বেসিস, ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফএ), লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) ও এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।
রফতানিমুখী শিল্পের ন্যায় দেশীয় শিল্প খাতের জন্যও প্রণোদনার বিষয়টিও বিবেচনায় আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবীর অন্যতম ঘনজনবসতিপূর্ণ ও জনবহুল দেশ হওয়ায় আমরা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আছি।
ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবসায়ী সমাজের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধ করতে সরকারের নেয়া যে কোনো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সমাজ জোরালোভাবে সমর্থন জানাবে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়ে বলা হয়, করোনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অতিসত্বর সরকার অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সমাজবিজ্ঞানী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করতে পারে। এ টাস্কফোর্স প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারকে পরামর্শ দেবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দু’ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রথমত, করোনার কারণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ধাক্কা মোকাবেলা ২২টি এবং দ্বিতীয়ত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্কিত ১২টি প্রস্তাব দেয়া হয়।
অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ধাক্কা মোকাবিলায় অনার্থিক, আর্থিক ও নীতি-সহায়তা সম্পর্কিত প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সংকটময় মুহূর্তে বিনাসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া।
এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে যতটা সম্ভব টাকা বা তারল্য সরবরাহ করতে হবে। যাতে বড়, মধ্যম, ছোট ও স্বনিয়োজিত প্রত্যেক ব্যবসায়ী এ সংকটময় মুহূর্তে বিনা সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পায়, যা পরবর্তী ৫ বছরে পরিশোধযোগ্য হবে। বিশেষত তৈরি পোশাকসহ অন্য শ্রমঘন খাতে আগামী ৩ মাসের বেতন ও বোনাস প্রদানের জন্য এ সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।
সংকট পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতর পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের মজুরি ও বোনাস প্রদানে মালিকদের সহায়তা করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চারিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে এ অর্থের পরিমাণ হতে পারে ১৬ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা।
সংগঠনগুলোর প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, যেসব ইউটিলিটির মূল্য (গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি) গত ৬ মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে তা স্থগিত রাখতে হবে। এ সংকটের সময়ে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বন্ধ রাখতে হবে।
অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট এ সময়ে স্থগিত রাখতে হবে। ব্যাংক ঋণ শ্রেণিকরণের প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর বাড়ানো এবং ক্রান্তিকালীন সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধ স্থগিত করতে হবে।
পাশাপাশি রফতানির বিপরীতে বৈদেশিক অর্থ প্রত্যাবাসনের সময়কাল আরও ৬০ বাড়াতে হবে। সর্বোপরি করোনার প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধার ও প্রণোদনা তহবিল গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়গুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কর্তন এবং তহবিল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
সামষ্টিক অর্থনীতি সম্পর্কিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
বিশেষত যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের স্ববেতনে ছুটি মঞ্জুর করে তাদের স্বল্প সুদে বা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে একটি ‘অর্থায়ন ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত।
যাতে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ কোম্পানিগুলোর অর্থ প্রবাহ ও তারল্য প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। তারল্য সংকট মোকাবেলায় কোম্পানিগুলোকে জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করে তারল্য সংগ্রহের সুবিধা দেয়া এ স্কিমের আওতায় থাকতে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এক লাখ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী যেমন- বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও আইএমএফের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগ করতে পারে।
এ তহবিল থেকে উচ্চ রেটিংসম্পন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ নিয়ে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারে।
বাজেট বিষয়ক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এনবিআরের উচিত হবে, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে করহার হ্রাসের কথা বিবেচনা করা এবং ৬ মাসের জন্য কর আদায় ব্যবস্থা শিথিল করা।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সরকার আগামী বাজেটের মাধ্যমে যে সব প্রকল্প অগ্রাধিকারভুক্ত নয় অথবা এখনও নির্ধারিত হয়নি সেসব প্রকল্প সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করে করোনাসংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার বিষয়ে মনোনিবেশ করতে পারে।
এক্ষেত্রে সরকার করোনাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অর্থায়নের নিমিত্তে নেয়া প্রকল্পের জন্য ৫ বছর মেয়াদি করমুক্ত বিশেষ বন্ড ইস্যু করতে পারে।

About arthonitee

Check Also

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্ষতি সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বড় ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। রপ্তানি, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ই-কমার্স ও স্টার্টআপ খাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *