প্রচ্ছদ / সফলতার গল্প / অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ারে ভূষিত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্যা ইয়ারে ভূষিত

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ওয়ার্ল্ডে ভূষিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য ব্যাংকার’ বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে দলটি। গত বছরের ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায়ও আনা হয় চমক। নতুনদের জায়গা দিতে বাদ দেয়া হয় কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অর্থমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রয়েছে। একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে তত্ত্বীয় জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক বা বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কাউকেই নতুন অর্থমন্ত্রী বানানো জরুরি। এ জন্যই আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেয়া হয়। আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট সংগঠক। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এছাড়া মুস্তফা কামাল ২০১৪-১৫ মেয়াদে আইসিসির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কামাল এ পর্যন্ত চারবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য পদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলার (দক্ষিণ) আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

৩০ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। নব্বইর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথিতযশা ক্রিকেট ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মুস্তফা কামাল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ক্রিকেট কমিটির সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বকালীন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সব খেলোয়াড়কে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন।

আইসিসির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের আগে তিনি সেপ্টেম্বর, ২০০৯ থেকে অক্টোবর, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে ২০১২-২০১৪ মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। তিনি আইসিসির অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ মেয়াদকালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ২৬ মে আইসিসির ১১তম সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের মানের বিষয়ে তিনি সংক্ষুব্ধ হন ও পদত্যাগের হুমকি দেন। এরপর ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

About arthonitee

Check Also

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধবিজ্ঞান সোসাইটির পরিচালক হলেন ড. জিয়া

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধবিজ্ঞান সোসাইটির পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *