প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য / ডায়াবেটিস নিরাময়ের ওষুধ নিয়ে মোরশেদ চৌধুরীর রিসার্চ সঠিক প্রমাণিত

ডায়াবেটিস নিরাময়ের ওষুধ নিয়ে মোরশেদ চৌধুরীর রিসার্চ সঠিক প্রমাণিত

ডায়াবেটিসের ওষুধে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান!

অকা ডেস্ক

ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফরমিনে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক এন-নাইট্রোসোডিমিথাইলামিনের (এনডিএমএ) বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতির আশঙ্কায় ওষুধটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত ডায়াবেটিসের এ ওষুধে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। মেটফরমিনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় এনডিএমএ’র উপস্থিতি পাওয়ার পর সিঙ্গাপুরের বাজার থেকে ইতোমধ্যে এ ওষুধটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। গ্লুকোফেইজ নামের মেটফরমিন গ্রুপের একই ক্যাটাগরির ওষুধটি যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) ব্রিটেনের বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া যায় কিনা; সে বিষয়ে বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), হেলথ কানাডা এবং ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি ডায়াবেটিসের এই ওষুধটির ব্যাপারে একই ধরনের তদন্ত শুরু করেছে। এনডিএমএ নামের রাসায়নিক এই উপাদান মানুষের দেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা রাসায়নিক এ উপাদান দফায় দফায় বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণীর ওপর প্রয়োগের পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছান। কীটনাশক, ক্লোরিন ও শিল্প প্রক্রিয়া থেকে প্রাপ্ত একটি রাসায়নিক পদার্থ হচ্ছে এনডিএমএ। পানি, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, শাক-সবজিসহ আরও বিভিন্ন ধরনের খাবারে স্বল্প মাত্রায় এনডিএমএ উপস্থিতি থাকে। তবে স্বল্পমাত্রার এনডিএমএ মানুষের শরীরে বড় ধরনের কোনো সমস্যা তৈরি করে না। সিঙ্গাপুরের বাজারে মেটফরমিন গ্রুপের ৪৬ ধরনের ওষুধের মধ্যে তিনটিতে বিপজ্জনক মাত্রায় এনডিএমএ পাওয়া যায়
এবিষয়ে গত ৪ নভেম্বর ২০১৮ইং তারিখে ইউটিউবে একটি নিউজ চ্যানেলে হার্বস বিশেষজ্ঞ মোরশেদ চৌধুরীর একটি সাক্ষাতকার (https://www.youtube.com/watch?v=yw36VbwIU0E) প্রচারিত হয়। যাতে মোরশেদ চৌধুরীকে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় যেসকল এ্যালোপ্যাথি ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাজারে ডায়াবেটিসের ওষুধের নামে যেসকল ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। এতে মানবদেহে উল্টো ক্যান্সার সেল বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। আজ তার এই ভাষ্য সঠিক প্রমাণিত। যা বিশ্বের শক্তিশালী গণমাধ্যম রয়াটার্স (https://www.reuters.com/article/us-health-diabetes-fda/fda-probes-diabetes-drug-metformin-for-carcinogen-ndma-idUSKBN1Y92UN) এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি ইউকে‘র ডেইলি মেইল ‍এ প্রকাশিত (https://www.dailymail.co.uk/health/article-7775839/Common-diabetes-drug-metformin-taken-millions-investigated.html), সিঙ্গাপুরের দৈনিক দ্য স্ট্রেইট টাইমসসহ আরও অনেকগুলো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তারা তুলে ধরেছে।

ইউরোপ এবং ইউরোপের বাইরের বিভিন্ন দেশে ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফরমিন পাওয়া যায়। এ কারণে এই ওষুধটির ব্যাপারে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা; তা ঠিক করতে যুক্তরাজ্যের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ), ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) এবং অন্যান্য ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এমএইচআরএ বলছে, মেটফরমিনের ব্যাপারে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীদের জানিয়ে দেয়া হবে। যুক্তরাজ্যের বাজারে বহুল বিক্রিত ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফরমিন। শুধু ২০১৮ সালে দেশটির চিকিৎসকরা ডায়াবেটিসের রোগীদের ওষুধটি সেবনের জন্য প্রেসক্রিপশনে লিখেছেন অন্তত ২ কোটি ২২ লাখ বার। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নির্বাচিত একটি ওষুধ মেটফরমিন। এটি ইনসুলিন ব্যবহার করে রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় নামিয়ে আনতে সহায়তা করে। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, শুধু যুক্তরাজ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগীদের ৮৪ শতাংশকে এই ওষুধটি সেবনের নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা। যুক্তরাজ্যের বাজারে ডায়াবেটিসের এই ওষুধটি বোলামিন, ডায়াজিমেট, গ্লুসিয়েন্ট, গ্লুকোফেইজ ও মেটাবেট এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফরটামেট, গ্লুকোফেইজ, গ্লুকোফেইজ এক্সআর, গ্লুমেটজা এবং রিওমেট নামে বিক্রি হয়। বাংলাদেশেও মেটফরমিন ছাড়াও বিভিন্ন নামে এই ওষুধ বিক্রি হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মোরশেদ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো গত এক বছর আগেই আপনাদের বলেছিলাম, আসলে ডায়াবেটিস, কিডনী ‍এবং লিভারের সঠিক চিকিৎসা এ্যালোপ্যথিতে নেই। এগুলো আসলে একজন রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা মাত্র। কিন্তু প্রকৃত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ‍এসব রোগীরা। তাই আমি মনে করি হার্বসই ‍একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও সঠিক চিকিৎসা মাধ্যম। যদিও ‍এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন। ‍আমাদের দেশের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ‍এবং হার্বস বিষয়ে গবেষণার ব্যাপক জ্ঞান না থাকায় ‍চিকিৎসার শাস্ত্রের সবচেয়ে পুরাতন ‍এই মাধ্যমটি অবহেলিত।’ ডায়াবেটিস বা লিভার কিংবা কিডনী রোগ সর্ম্পকিত কোন প্রশ্ন থাকলে মোরশেদ চৌধুরীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য 017-4849-3145 নম্বরে কল করতে পারেন।

About arthonitee

Check Also

নিরাপদ খাবারের দাবিতে আলোচনা অনুষ্ঠিত

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি আয়োজিত ‌’নিরাপদ খাবার চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রাজধানীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *