প্রচ্ছদ / মতামত / বিজয়ের মাসের আলোকসজ্জা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে নয়

বিজয়ের মাসের আলোকসজ্জা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে নয়

সাকিব জামাল: 

শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর । মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রাণের স্বাধীনতা এবং কাঙ্ক্ষিত বিজয়। দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে লাল সবুজের এই পতাকাটি আজ আমাদের। তাই ডিসেম্বর মাস এলেই বাঙালি জাতি বিজয়ের কলরবে মেতে ওঠে। নানা ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিজয় উৎসব উদযাপন করে। এই আয়োজনসমূহের মধ্যে একটি হলো বিভিন্ন ভবনে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আলোকসজ্জা করা। কিন্তু আমাদের বোঝা উচিত-আলোকটা তাহলেজ্বালাবো কখন? কখন মূলত মানানসই দিন-ক্ষণ?

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের অর্জিত বিজয় এসেছে ১৬ই ডিসেম্বর। তাই এই মাসে বিজয়র উৎসবমুখর উদযাপনই স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই বিজয় দিবসের ঠিক দুদিনপূর্বেই ১৪ই ডিসেম্বরে বাঙালি জাতিকে বুদ্ধি বিকলাঙ্গ করতে চালানো হয় এক নির্মম হত্যাকাণ্ড। বিভিন্ন সেক্টরে তৎকালীন সেরা বুদ্ধিজীবীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। ১৪ই ডিসেম্বর হয়ে যায় তাই শোকের দিন। এসব ইতিহাস সবার জানা। তবুও যখন আমরা বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আনন্দ উল্লাস করতে যাই, বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জা করতে যাই তখন বোধহয় ভুলতে বসি বুদ্ধিজীবীদের হারানোর বেদনা। আমরা লক্ষ্য করি ১৪ই ডিসেম্বরের আগেই শুরু করা হয় বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জার কাজ। তাই ১৪ই ডিসেম্বরেও রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত হয় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনসমুহ। ১৪ই ডিসেম্বরের আগ থেকেই ১৬ই ডিসেম্বরের রঙিন আলোকসজ্জা- বেমানান।বিষয়টি দৃস্টিকটুও বটে। এমনটি দেখে মনেহয়- উৎসাহ আমাদের উৎসবেই একটু বেশি- দেরি সয়না! আত্মত্যাগ বা মর্মান্তিক ঘটনা একটু কমই মনে রয়!

সুতরাং, বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনসমুহ ১৪ই ডিসেম্বর রাত বারোটার পর থেকে আলোকসজ্জা করা উচিত হবে। বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার পরে আমাদের বিজয়র আলোক উৎসবে মেতে ওঠাই বেশি যুক্তিসঙ্গত, বুদ্ধিজীবী দিবসের আগে নয়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান করছি, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ করছি বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ভবনসমূহে আলোকসজ্জা করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হোক।

(ব্যাংকার ও লেখক)

About arthonitee

Check Also

চীনের সিস্টার সিটি নির্মাণের প্রস্তাব ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ

  স্বাধীনতার পরবর্তী সময় হতে চীন বাংলাদেশ বৃহত্তর বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগী। চীন আমাদের বন্ধু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *