প্রচ্ছদ / Uncategorized / ক্যান্সার প্রতিকারে সরকারের প্রশংসনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন জাতীয় সচেতনতা – তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

ক্যান্সার প্রতিকারে সরকারের প্রশংসনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন জাতীয় সচেতনতা – তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

বর্তমান সময়ে আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে ক্যান্সার। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিয়োপ্লাসিয়া (টিউমার)  বলে। এই নিয়োপ্লাসিয়ার ম্যালিগন্যান্ট রূপকে ক্যান্সার বলে। ক্যান্সার প্রতিকারে সরকারের প্রশংসনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন জাতীয় সচেতনতা। আজ বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড  এর তত্ত্বাবধানে নটরডেম কলেজ কর্তৃক আয়োজিত কলেজ মিলনায়তনে ” Lung cancer awareness programme ” শীর্ষক সেমিনারে মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে ক্যান্সার প্রতিকারে জনগণকে  সচেতনতার বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় কি কাজ করে এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিটি জেলায় তথ্য অফিস আছে,  এবং জেলা তথ্য অফিস  জনগণকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত প্রোগ্রাম করে যাচ্ছে। জনগণের সচেতনতার বিষয়ে  প্রতিটি মহল্লায়, পাড়ায় উঠান বৈঠক করছে জেলা তথ্য অফিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, ২০৩০ সালে বিশ্বে ক্যান্সার রুগীর সংখ্যা হবে প্রায় দ্বিগুণ। এর অধিকাংশ ক্যান্সারই হবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের। তাই এখনই সময় প্রস্তুতি নেওয়ার।

সেন্টার ফর ক্যান্সার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের ( সিসিপিআর) বরাত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন নতুন করে ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছেন ৩৩৪ জন আর মারা যাচ্ছে প্রায় ২৫০ জন। সচেতনতা থেকে শুরু করে সরকারের পদক্ষেপ, প্রতিটি উদ্যোগই ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
দেশে তৃণমূল পর্যায়ে ক্যান্সার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহয়তায় পরিচালিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ‘ জাতীয় কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প ‘ কাজ করে যাচ্ছে।

ক্যান্সার প্রতিকারে সরকারের বিভিন্ন সেবার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে ৯ টি রেডিওথেরাপি কেন্দ্র চালু আছে। ক্যান্সার চিকিৎসার সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি – এই তিনটি ধাপ রয়েছে। দেশের সব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি না থাকলেও সার্জারি ও কেমোথেরাপি দেওয়ার সুযোগ আছে। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট শুরুতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ছিল। এখন সরকার এটি বাড়িয়ে ৩০০ শয্যা করেছে। এখানে গরীব রুগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়  এ সকল অসহায় ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদেরকে এককালীন ৫০০০০(পঞ্চাশ হাজার)  টাকা আর্থিক সহয়তা প্রদান করার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় ‘ ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস রোগীর আর্থিক সহয়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০১৩’ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে।

ফুসফুসের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ৯০ শতাংশ ও সব ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ২০ শতাংশ ঘটে থাকে ধূমপানের কারণে। ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন  থেকে বিরত থাকলে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ  ক্যান্সার কমানো সম্ভব। ক্যান্সার আক্রান্ত মোট পুরুষ ও নারী রোগীর মধ্যে শতকরা প্রায় ১৮ ভাগ ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত। আক্রান্ত পুরুষের মধ্যে শতকরা প্রায় ৬৮ ভাগ ধূমপায়ী ও প্রায় ২২ ভাগ নারী রোগী গুল জর্দা ব্যবহার কারী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক সময়ে বাংলাদেশের প্রায়ই সব ওষধই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন বাংলাদেশ  ১১৭ টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে থাকে। নিজস্ব চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশে তৈরি হয়। সামগ্রিকভাবে সরকারের পদক্ষেপ, নিরলস সহযোগিতা আর জাতীয় সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ ও মেধা সম্পন্ন প্রজন্ম উপহার দিতে। আসুন, ফুসফুস ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন হই।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মেজর জেনারেল অধ্যাপক ড. আজিজুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নটরডেম কলেজের প্রিন্সিপাল ড. হেমন্ত পিয়াস রোজারিও।

About akdesk1

Check Also

আ.লীগ-চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হচ্ছে ডেঙ্গু মনিটরিং সেল

রাজধানী ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *