স্থানীয় পণ্যের বিশ্বায়ন

স্থানীয় পণ্যের বিশ্বায়ন

আজ থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছে পুরুষদের উন্নতমানের নিখুঁত পোশাকের ব্র্যান্ড, স্প্রেযাতুরা। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বনানীতে এর অবস্থান। যেসব পুরুষ যথাযথ ফিটিং এবং মানসম্পন্ন পোশাকের ব্যাপারে সচেতন, তাদের জন্য পোশাক তৈরির দক্ষতার কারণে, স্প্রেযাতুরা একটি ভিন্নমাত্রার ব্র্যান্ড হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশ্বমানের কারিগরী দক্ষতার কারণেই এই ব্রান্ডের পোশাক অনেক দিক থেকে অনেক আন্তর্জাতিক ব্রান্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও, ব্রান্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। বিগত বছরগুলোতে ব্রান্ডটি করোনার ধাক্কা সামলে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরদের উন্নতমানের পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের ব্র্যান্ডগুলোর সাথে ফ্যাশন, নির্ভুলতা, সূক্ষ্মতা বা নান্দনিকতার সম্পর্ক কম থাকলেও, এগুলো অসম্ভব কোনো কাজ নয়। স্প্রেযাতুরার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা ফায়সাল আহমেদ বলেছেন, এদেশে একটি উঁচুমানের পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তিনি স্প্রেযাতুরা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি লক্ষ্য করেন, বাংলাদেশে অনেকেই পোশাক তৈরির পেশায় জড়িত থাকলেও, তাদের অধিকাংশই ত্রুটিহীন সেলাইয়ের দিকে মনোযোগ দেন না।

আহমেদ একজন সৃজনশীল ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। নিজের ব্র্যান্ডের প্রসারকে তিনি বর্ণনা করেন Local goes Global অর্থাৎ ‘স্থানীয় পণ্যের বিশ্বায়ন’ হিসাবে। পশ্চিমা বিশ্বে নিজের ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন আহমেদ। তবে তিনি মান নিয়ে বিন্দুমাত্র আপোস করতে নারাজ। তিনি বলছেন, ‘আমি আমার পণ্যের মানের সাথে কখনোই আপোস করবো না। কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি, আমাদের অতিথিদের জন্য সামান্যতম মানের বিচ্যুতির অর্থ কি। আমরা আমাদের সুখ্যাতি বজায় রাখতে চাই এবং অবশ্যই আমাদের অনেক অতিথিই সাক্ষ্য দেবেন, আমরা কীভাবে মান বজায় রাখি।’

শাহজেব ইবনে হুসেইন স্প্রেযাতুরার একজন নিয়মিত অতিথি, যিনি প্রায়ই এই ব্র্যান্ডের শার্ট কিনেন। এর গুণমান সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমি অ্যামেরিকায় থাকি এবং ব্যবসার কাজে প্রায়ই ঢাকায় আসি। আমি স্প্রেযাতুরার শোরুমে আমার পছন্দের শার্ট পেয়েছি। স্প্রেযাতুরা  আবিষ্কারের পর থেকে আমি আর অ্যামেরিকায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে পোশাক কিনি না। এখানকার একই পোশাকের গুনাগুন অ্যামেরিকার একই পোশাকে গুণাবলী খুঁজে পেয়েছি। আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, এখানে সূক্ষ্ম ও উন্নতমানের তৈরী পোশাক ও কাস্টমাইজ করা শার্ট পাওয়া যায়।’

ঢাকা শহরে স্প্রেযাতুরার একমাত্র শোরুমে আছে খুবই মানসম্পন্ন, রুচিশীল ও অভিজাত পোশাকের সম্ভার। এমন নৈপুণ্যের পেছনে আছে একদল অভিজ্ঞ কারিগর, যাদেরকে বাছাই করে এনে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের লেবেল লাগানোর আগে স্প্রেযাতুরার প্রতিটি পোশাক একটি আদর্শ উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এই ব্র্যাণ্ডের শার্টগুলো বৈশিষ্ট্যে অনন্য। তাকে রাখা শার্টগুলো হাতে তৈরি। কাপড়ের রঙ উঠে যায় কিনা এবং সঙ্কুচিত হয় কিনা, তা পরীক্ষা করে নেয়া হয়। যেসব গুণের কারণে একটি পণ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়, তার সব কিছু নিশ্চিত করেই স্প্রেযাতুরার পোশাক তৈরী করা হয়।

ইতোমধ্যে স্প্রেযাতুরা পণ্যের তালিকায় শীতকালীন জ্যাকেট (বাংলাদেশের শীতের জন্য), সাধারণ এবং বিশেষ পাঞ্জাবি, কোটি, পায়জামা এবং চুড়িদার যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মাল অনুষ্ঠানের জন্য ড্রেস প্যান্টও আছে। বর্তমানে ব্লেযার তৈরির কাজ গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে আছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের জন্য বৈচিত্র্যময় পোশাকের ভবিষৎপরিকল্পনাও করছে স্প্রেযাতুরা।

Share This Post