প্রচ্ছদ / রাজনীতি / মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই) এর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই) এর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

এসএম আরাফাত হাসান: স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষ, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী (দাদা ভাই) এর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই) ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনসহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও গণপরিষদের প্রাক্তন সদস্য, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, সমাজ সেবক, মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই)-এর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ মে রবিবার।

পদ্মা পাড়ের একসময়ের পিছিয়ে পড়া জনপদ শিবচরের নারী শিক্ষার অগ্রদূত তিনি । স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে শিবচরের গুয়াতলা গ্রামে দাদাভাইয়ের একক প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালের ১ জানুয়ারী শিবচরে প্রতিষ্ঠা করেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়াও তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার উপজেলা আওয়ামীলীগ দোয়া ও ইফতার মাহফিল আয়োজন করে। রবিবার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া নিজ বাড়ী জামে মসজিদে বাদ আছর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।তার বড় ছেলে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ও কনিষ্ঠ ছেলে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) এবং তার পরিবার মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদাভাই জনপ্রিয় দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন। তিনি আরামবাগ ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও খুলনা আবহানী ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক এবং খুলনা অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠিত সভাপতি ।

তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি তৎকালীন জাতীয় সংসদে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রস্তাবকারী ।

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী দাদা ভাই, ১৯৩৪ সালের ১৫ই আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নুরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং মা চৌধুরী ফাতেমা বেগম, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোন। দাদাভাই এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় দত্তপাড়ার টিএন একাডেমী থেকে, মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাশ করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে কাজ করেন নিরলসভাবে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন, একই সাথে মুজিব বাহিনীর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন মাদারীপুর থেকে। ১৯৯১ সালের ১৯ মে ৫ম জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এই মহান নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

About arthonitee

Check Also

২ মাস ১১ দিন পর দেশে ফিরলেন ওবায়দুল কাদের

২ মাস ১১ দিন পর দেশে ফিরেছেন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *