প্রচ্ছদ / মতামত / বাবা কেন ইচ্ছামত টাকা ছাপাও না?

বাবা কেন ইচ্ছামত টাকা ছাপাও না?

(এহছান খান পাঠান):

বাবা তোমার প্রেসে তো কত কিছুই ছাপাও, কেন ইচ্ছামত টাকা ছাপাও না? এমন কখা শুনে পেছনে তাকালাম। দেখি আমার এক প্রতিবেশী আর তার ছেলে কথা বলছে।
আমার ওই প্রতিবেশীর একটি ছাপাখানা মানে প্রেস আছে।
ব্যস্ততা ছিল, তারপরও পিচ্চিটার সাথে কথা বললাম। জানতে পারলাম সে ছোটদের সাইকেল কিনতে চায়। বাবা এখন প্রয়োজন নেই বলে কিনে দিচ্ছেন না। তবে ছেলেকে বলেছেন অত টাকা নেই। তাই ছেলের প্রশ্ন তোমার প্রেসে কতকিছুই ছাপাও, ইচ্ছামত টাকা ছাপাও না কেন?

এটা শোনার পর প্রশ্ন মাথায় এসেছে, সরকার নিজেই যদি বিলিয়ন-বিলিয়ন টাকা প্রিন্ট করে আমাদের হাতে তুলে দেয়, তাহলেই তো সব আর্থিক সমস্যা মিটে যায়! কিংবা, সরকার যদি বস্তা বস্তা টাকা প্রিন্ট করে পদ্মা সেতু, মেঘনা সেতু, বুড়িগঙ্গা সেতু তৈরী করে, তাহলেই বা সমস্যা কোথায়?

এবার আলোচনায় আসি। টাকা প্রিন্ট করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। টাকা উৎপাদন করার কোন আবশ্যক নিয়ম নেই। কোন দেশের সরকারের যত ইচ্ছে টাকা প্রিন্ট করার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে কোন দেশই যত ইচ্ছা টাকা প্রিন্ট করে না, টাকা প্রিন্ট করা হয় সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন অনুসারে তার সাথে ভারসাম্য রেখে। টাকা উৎপাদনের পরিমাণের সাথে জড়িত দেশের মানুষের উপার্জন, অর্থনৈতিক চাহিদা, দেশের সম্পদ ইত্যাদি। এর বেশি উৎপাদন করলেই শুরু হয় সমস্যা, দেশের অর্থনীতি ভারসাম্য হারাতে শুরু করে।

ধরুন, একটা দেশে সম্পদ বলতে রয়েছে দশটি বাইসাইকেল আর সেই দেশ বছরে ১০০০০ টাকা প্রিন্ট করে। পরিবহন খরচ, খুচরা মূল্য পাইকারী মূল্য ইত্যাদি জটিলতা বাদ দিয়ে ধরেই নিই প্রতিটি বাইসাইকেল এর মূল্য ১০০০ টাকা। তাহলে দেশের মোট সম্পদ আর মোট কারেন্সী (Currency) ভারসাম্যপূর্ণ হল। পরের বছর ঐ দেশটি সর্বমোট ২০০০০ টাকা প্রিন্ট করল, কিন্তু মোট সম্পদ বলতে দশটি বাইসাইকেলই রইল। যেহেতু দেশে নতুন কোন সম্পদ নেই, ওই ১০টি বাইসাইকেল কেনার জন্য বরাদ্দ হল ২০০০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি বাইসাইকেল দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল। এভাবেই দেশের মোট সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা উৎপাদন করলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়, টাকার দাম বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। একে বলে মূদ্রাস্ফীতি।

দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে বেশি করে টাকা ছাপিয়ে আর লাভ কি হল? তাই একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রীতিমত গবেষণা করে চাহিদা নির্ধারণ করতে হয়, সেই অনুযায়ী টাকা প্রিন্ট করতে হয়। সাধারণত একটি দেশের জিডিপির ২-৩ শতাংশ টাকা প্রিন্ট করা হয়, তবে উন্নয়নশীল দেশে এই হার আরেকটু বেশি।

এই কারণেই আমরা ইচ্ছামত টাকা ছাপিয়ে ফেলতে পারি না।
(এহছান খান পাঠান, বার্তা সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ)

About arthonitee

Check Also

ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি ও স্থানীয় ছাত্রলীগ

হৃদয় তালুকদার : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন। গৌরব,ঐতিহ্য,সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭১ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *