প্রচ্ছদ / রাজনীতি / উপজেলা পরিষদ নির্বাচনঃ তৃনমূলে বিভক্ত টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনঃ তৃনমূলে বিভক্ত টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ

মোঃ নাজমুল ইসলাম পিন্টু,(মুন্সীগঞ্জ):-
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে।  ৯০-এর স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ দলীয় মনোনয়ন পাবার আশায় কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবেও এই দুই প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান ও অপর দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদের একাধিক প্রার্থীও এখন দোয়া ও সমর্থন চেয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে তিনটি পদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন-এটা প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে উত্তাপ-উত্তেজনা এবং কাঁদা ছোড়াছুড়ি চলছে।
গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকায় মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি আলী আজগর মল্লিক রিপন। অভিযোগ, ভোটের দিন কেন্দ্রগুলো ছিলো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের দখলে। এবার এই উপজেলায় নৌকা আর বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদ দু’টিতেও একাধিক প্রার্থী থাকছে। সবমিলিয়ে উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে।
দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা জানিয়েছেন, গত ৩১ শে জানুয়ারি টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় দলীয়ভাবে প্রার্থী নির্ধারণে তিনটি পদেই জেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূলের মতামত নিতে কাউন্সিল ডাকেন। এই কাউন্সিলে পক্ষ-পাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ এনে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নাহিদ খান জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল বয়কট করেন। এতে বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদের নাম এককভাবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মহিউদ্দিন কেন্দ্রে পাঠান।  পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান কাজী ওয়াহিদের নাম বাদ রেখে জগলুল হালদার ভুতুসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব করে আরেকটি চিঠি পাঠান কেন্দ্রে। এসব ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী জগলুল হালদার ভুতু কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগও করেন। নির্বাচনকে ঘিরে এই উপজেলায় ভুতু হালদার ও কাজী ওয়াহিদ গ্রুপের মধ্যে কাঁদা ছুড়াছুড়ি চলছে।
ওদিকে, ওই কাউন্সিলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোটে প্রথম হয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভীন। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাহাত রুবেল খান তৃণমূলের ভোটে প্রথম হয়েছেন। পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সারাদেশে ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুইটি দলীয় প্রতীকে না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, আগামী নির্বাচনে এই উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভীন, সোনারং-টঙ্গিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হেনা আক্তার, অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার প্রার্থী তালিকায় রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভীন।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রাহাত খান রুবেল এবং টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিদ খান। এছাড়াও প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, আতিকুর রহমান শিল্পীসহ আরো একাধিক।
এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীয়া বিভক্ত হয়েপরেছে। বিভক্ততার কারনে ভূতু হাওলাদার ও কাজী ওয়াহিদ গ্রুপের মধ্যে চলছে কাঁদা ছোড়াছুড়ি।

About akdesk1

Check Also

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচনে জিনাত রেহানা খানসহ ১৫জন প্রার্থী

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জননেত্রী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিনাত রেহানা খানসহ ১৫জন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *