প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / সুয়াপাড়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ: কেউ বলেন এটি গায়েবী মসজিদ

সুয়াপাড়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ: কেউ বলেন এটি গায়েবী মসজিদ

মোঃ নাজমুল ইসলাম পিন্টু (মুন্সীগঞ্জ(:
বর্তমানে এটি সুয়াপাড়া মিয়াবাড়ি জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বজ্রযোগিনী বাজার থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে সুয়াপাড়া প্রাচীন মসজিদ। একটি প্রাচীন দীঘির পশ্চিম পাড়ে সুয়াপাড়া মিয়া বাড়ি মসজিদ। এ মসজিদটি কবে, কখন, কীভাবে কে নির্মাণ করেন তার ইতিহাস কোথাও লিখা নেই। কেউ বলেন এটি গায়েবী মসজিদ। আবার কেউ মত দেন এটি সম্রাট শাহজাহান নির্মাণ করেন। আবার কয়েক জন বললেন মসজিটটি নির্মাণ করেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। এ গ্রামের যাদের বয়স ৭০-৮০ এর মধ্যে তারা বলেন মসজিটি সম্রাট আকবর নির্মাণ করেন। সম্রাট আকবরের কোন নিদর্শন মুন্সীগঞ্জ জেলা বা প্রাচীন বিক্রমপুরে নেই। সম্রাট শাহজাহান এর সময়ও কোন নেই। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাপতি ইসলাম খান চিশতী ঢাকা বিজয়ের আগে বিক্রমপুর জয় করেন। এ বিক্রমপুরে চাঁদরায় কেদার রায়ের সাথে ইসলাম খানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ইসলাম খান জয়ী হন। ইসলাম খান মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের পাথরঘাটায় ‘বিক্রমপুর’ জয় করে মসজিদ নির্মাণ করেন। যা পাথরঘাটা মসজিদ নামে পরিচিত।
সুয়াপাড়ার এ প্রাচীন মসজিদটি পাঠান এবং মুঘল পেটার্নে নির্মিত। এ মসজিদটি খুব সম্ভবত কররানী শাসকদের সময় ব্রজযোগিনী গ্রামের সুয়াপাড়ায় নির্মিত হয়। ‘মসজিদটি ১৫৬৮-১৫৭৫ সালে নির্মাণ হয়  এমনমত বিক্রমপুর ইতিহাস পরিষদের।’ প্রাচীন এ মসজিদটির আয়তন ১৮ও১৫ ফুট। দেয়াল ৩ ফুট পুরো। মসজিদের ছাদে ১ টি গম্বুজ। পশ্চিম দেয়ালে ১টি মেহেরাব ও একটি মিম্বার রয়েছে। মসজিদের ৪ কোণে ৪টি টারেট রয়েছে। টারেটের উপরে ছোট ছোট মিনার রয়েছে। একটি প্লাটফর্মের উপর মসজিদের অবস্থান। এপ্রিল ২০০৩ সালে মসজিদটি পূর্বাংশে বৃদ্ধিও দ্বিতল করা হয়েছে। পুরাতন মসজিদটি সংরক্ষণ করে মসজিদটির সংস্কার করা হয়েছে। সুয়াপাড়ার এ মসজিদটি নিয়ে বৃটিশ আমলে মামলা মোকদ্দমা হয়েছিল। মসজিদটিকে বড় ধরণের একটি বটবৃক্ষ ঢেকে ফেলে। তখন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এটি মন্দির বলে দাবী করে।মুসলমানরা এটি মসজিদ বলে দাবী করে। তখন দু’সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচন্ড ধর্মীয় অসন্তশ দেখা দেয়। হিন্দুদের পক্ষে আচার্য্য বংশ ব্যানার্জী বংশ কোলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে মন্দির দাবী করে। আর মুসলমানদের পক্ষে মৃধাবংশ মামলার বিবাদী হিসেবে জবাব দেয়। বেশ কয়েক বছর মামলা চলে। কোলকাতা কোর্ট হতে সরেজমিন তদন্ত করে মেহেরাব, মিম্বার ও গম্বুজ থাকায় এটিকে মসজিদ হিসেবে রায় দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে স্থাপত্য প্রতিবেদন করতে সাংবাদিক, ইতিহাস গবেষক গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম সুয়াপাড়া গেলে এ তথ্য প্রদান করে উজ্জ্বল মিয়া (৪৫), হিরণ মিয়া (৪০) এবং পিয়ার জাহান খান (৫৫)। প্রাচীন মসজিদটি ৩ কাতারে মোট ২৭ থেকে ৩০ জন মুসলমান নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে সংস্কারের পর ১০০-১৫০ জন নামাজ আদায় করতে পারে। সকালে মক্তব চালু আছে।

 

About arthonitee

Check Also

হজ যাত্রীদের সেবা আরও বাড়ানো হবে : গোপালগঞ্জে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশেই ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করা, মক্কা ও মদিনায় হাজিদের খাবারের মান উন্নত করা, মিনায় থাকার ভাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *