প্রচ্ছদ / ব্যাংক ও বীমা / চাকুরির বয়স শেষ:  তারপরও বিআইবিএমের মহাপরিচালক থাকতে চান তৌফিক চৌধূরী

চাকুরির বয়স শেষ:  তারপরও বিআইবিএমের মহাপরিচালক থাকতে চান তৌফিক চৌধূরী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক পদে থাকা যাবে ৬৫ বছর পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর ৬৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১৬ জানুয়ারি। কিন্তু এ সময়ের পরও তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে দায়িত্বে থাকতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। চাকরির বয়স শেষ হলেও পদ ছাড়তে চাচ্ছেন না তিনি। সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।
জানা গেছে, দীর্ঘ আট বছর দায়িত্ব পালনের পরও তাকে ওই পদে বহাল রাখার বিষয়ে দো-টানায় ভুগছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন দফতরে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। তাকে পুণরায় নিয়োগ দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসনের প্রতিও প্রশ্ন উঠবে বলে মত দিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিআইবিএমের গভর্নিং বোর্ডের এক সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ বিষয়ে সব সদস্যের মতামত চান। তৌফিক চৌধুরিকে ফের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে সবাই হ্যাঁ সূচক সম্মতি দেন। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিচালিত ব্যাংকগুলোকে যেখানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সের কোনো ব্যক্তিকে কর্মে নিয়োজিত না রাখতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিআইবিএমের শীর্ষ পদে ৬৫ বছরের বেশি কোনো ব্যক্তিকে রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে ওই বৈঠকে এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তৌফিক আহমেদ চৌধুরি। ২০১০ সালে বিআইবিএমের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ড. তৌফিক। পরে তাকে দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ওই পদে বহাল রাখা হয়।
জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বিআইবিএমের গভর্নিং বোর্ডের সভার একপর্যায়ে মহাপরিচালক তৌফিক চৌধূরীকে কিছুক্ষণের জন্য সভা ত্যাগ করার অনুরোধ করেন গভর্নর ফজলে কবির। তৌফিক চৌধূরীর অনুপস্থিতিতে সভায় তার বয়স শেষেও নিয়োগের কোনো সুযোগ দেওয়া যায় কি না, এ নিয়ে সভার সব সদস্যদের মতামত চাওয়া হয়। কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী সভার জন্য বিষয়টি আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, বিআইবিএম দ্য সোসাইটিজ অ্যাক্টের আওতায় গঠিত হলেও এটা নিয়ন্ত্রিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে।
প্রসঙ্গত, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জাতীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা, পরামর্শ এবং শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ১৯৭৪ সালে বিআইবিএম প্রতিষ্ঠা করা হয়। দ্য সোসাইটিজ অ্যাক্ট এর আওতায় বিআইবিএম প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয়ের ৫০ শতাংশের বেশি আসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। বাকি অর্থ জোগান দেয় দেশে কার্যরত সব ব্যাংক। এর বিনিময়ে নামমাত্র খরচে বিআইবিএম থেকে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা পেয়ে থাকে ব্যাংকগুলো। বিআইবিএমের মূল দুটি কমিটি রয়েছে। একটি গভর্নিং বোর্ড, অন্যটি নির্বাহী কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদাধিকার বলে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। ডেপুটি গভর্নর-১ পদাধিকার বলে নির্বাহী কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

About arthonitee

Check Also

ইউসিবি’র নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত জামিল

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ শওকত জামিল। এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *