প্রচ্ছদ / সফলতার গল্প / রাজনৈতিক সহযোদ্ধার চোখে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

রাজনৈতিক সহযোদ্ধার চোখে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

 

আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সম্পর্কে কিছু কথা জানানো খুব তাগিদ অনুভব করছি।

শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো তিনি একজন কোরানের হাফেজ। তিনি এদেশের প্রাচীণতম দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) এর প্রতিষ্ঠিত গওহর ডাঙ্গা মাদ্রাসায় হেফজ শাখায় পড়া শুনা করে অত্যান্ত কৃতিত্বেরসাথে কোরানে হাফেজি সমাপ্ত করে ছিলেন। পরবর্তিতে তিনি ডাবল এম এ করেন। এল এল এম এবং এম কম। গোপালগঞ্জ বার এর অনিয়মিত আইন পেশায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বেশিরভাগ রাজনৈতিক মামলাগুলিই নিয়েই কাজ করেছেন পারিশ্রমিক ছাড়াই।

এতো গেলো তার পেষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরন। এবার আসি আমার দেখা তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন।

তিনি খুলনা আজম খান কমার্স কলেজের ছাত্র/ছাত্রী সংসদের ভিপি ছিলেন। পচাত্তর পরবর্তী সময়ে আমাদের গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলো না। মোল্লা জালালউদ্দিনের মৃত্যুর পরে বাই ইলেকশনে শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাই আসেন সংসদ সদস্য হিসাবে। উনি আস্তে আস্তে হয়ে উঠলেন আমাদের সবার মধ্যমনি যা এখোনো চলমান।

আর স্থানীয় রাজননিতিকে আরো শক্তিশালী করতে আত্মনিয়োগ করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। চৌরঙ্গীর নিজের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান কে বানালেন দলীয় কার্যালয়। ৯৬ সালের পুর্ব পর্যন্ত ওটিই ছিলো গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়। দীর্ঘ সময় তিনি ছিলেন সাধারন সম্পাদক। আমি ৮৬ সাল থেকে কলেজের ছাত্র রাজনীতি করতে এসে এই লোকের সংস্পর্শে আসি। তিনি সদালাপি, অত্যন্ত বিচক্ষন, অনলবর্শী বক্তা। একজন বেস্ট নেগোসিয়েটর। আমার আজও কানে বাজে সেই বিক্ষ্যাত বাক্য, “লেট আস ফরগিভ এন্ড ফরগেট”। তুখোড় আইনজীবী। তবে আমরা হাজিরা দিতে গেলেই এবং বিশেষ ক্ষেত্রেই সুধু তিনি কোর্টে যেতেন। এই অসাধারন ব্যাক্তিত্বের অধিকারী ব্যাক্তিতে আমরা ভাই ডাকতে পারি নাই, ডাকতাম চাচা বলে। এবং সেই সময়ের প্রায় সকল সহোযোদ্ধারা এই সম্মোধোনই করতেন তাকে। আর উনিও পরম স্নেহে বাবা বলেই আদর দিয়েছেন। রাজনিতী শিখিয়েছেন।

৯০ এর গন আন্দোলনের সময়ে উনি আমাদের সর্বোক্ষন নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিভাবক হিসাবে। ভোর ছয়টায় কর্মসুচী থাকলে চৌরংগীতে এসে দেখতাম উনি এবং অন্যান্য নেতাদের সাথে আগেই উপস্থিত।

ওনার বাড়ীর কোনো প্রাইভেসি ছিলো না একটা সময়ে। বাসার নিচের বিশাল বড়ো বসার কক্ষে ছিলো আমাদের অবাধ আনাগোনা। প্রায় ৬ টি বছর আমি ওনার সংস্পর্শে থেকেছি। রাজনীতি হাতে কলমে শিখেছি। হাজারো স্মৃতি রচিত হয়েছে এই সময়ে।

উনি এতোবেশি দায়িত্বশীল আর কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন বলেই স্থানীয় অনেক নেতা কর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন আপনজন। পাশাপাশি না পাওয়া বা প্রশ্রয়হীনদের কাছে সমালোচনার পাত্র। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সব সময়েই মুল্যায়ন করেছেন সঠিক ভাবেই।

সেই নেতাকে আজ জননেত্রী শেখ হাসিনা যথার্থ মুল্যায়ন করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে।

আশা রাখি তার দারা ভালো কিছুই হবে এই সেক্টরে। জয় হোক শেখ আব্দুল্লাহর।

কে, এইচ, এম শাহজাহান সাজু

(সৌদি প্রবাসী ,গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক)

About arthonitee

Check Also

আউটস্ট্যান্ডিং পেপার অ্যাওয়ার্ড পেলেন শরীফ এনামুল কবির

ইউনাইটেড গ্রুপ পেপার অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ গবেষণা প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ গবেষণা প্রবন্ধের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং পেপার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *