প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / সংসদে সংরক্ষিত আসনে নিশাতকেই চান সবাই

সংসদে সংরক্ষিত আসনে নিশাতকেই চান সবাই

 

আজিজুল সঞ্চয় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
যেখানেই বিপদে কোনো নারী, সেখানেই নিশাত। কখনো হাসপাতালের বারান্দায় অসহায় অন্তঃসত্ত্বার পাশে, কখনো বা অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছায়া হয়ে। বলেছেন দৃঢ় চিত্তে- ‘ভয় পেও না, পাশে আছি’। তাঁর প্রচেষ্টায় বদলেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সীতানগর, কাশিনগর ও ঋষিপাড়ার অবহেলিত নারীদের জীবন। ওই তিন গ্রামের শতশত নারীকে নানা কাজে প্রশিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছেন নিশাত।
বলছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাতের কথা। সমাজের অসহায় নারীদের জন্য ‘মুক্তির দূত’ হিসেবে বিরামহীনভাবে কাজ করছেন তিনি। শুধু নারীদের কাছেই নয়, নিজ কর্ম গুণে নিশাত এখন সমাজের সর্ব মহলে সমানভাবে স্বীকৃত। নিশাতকে এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য করার দাবি ওঠেছে। দিন যতই যাচ্ছে জোরালো হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সেই দাবি।
বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নিশাত ৭৫ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সহযোগীতায় মডেল উপজেলা পরিষদ গঠন ও নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
১৯৮৯ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন নিশাত। সেসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ এ সময়ে দলের আন্দোলন-সংগ্রামের সক্রিয় অংশগ্রহণের জেরে একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামিও হয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও নিশাত একজন আইনজীবি, সাংবাদিক, সমাজ ও সংস্কৃতি কর্মী। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে থেকেই তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের এপিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০০৭ সালে তিনি নারী সাংবাদিকতায় ‘সালমা সোবহান ফেলোশীপ’ (ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া) অর্জন করেন। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের সেবায় দীর্ঘ সময় নিয়োজিত এই নারী নেত্রী ১৫ বছর সুইড পরিচালিত আসমাতুন্নেছা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি হিসেবে কয়েক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তাঁর এ ফোরাম থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অসহায় নারী ও হিজড়া জনগোষ্ঠি এখন আত্মনির্ভরশীল। পারিবারিক কলহে অসহায় নারীদের আইনী সহায়তা প্রদান, বাল্য বিয়ে রোধ ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধেও সবসময় সোচ্চার থাকেন নিশাত।
সমাজের নানা ক্ষেত্রে কাজের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী রাজনীতিকদের মধ্যে নিশাত এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। তাই নিশাতকে এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য করার দাবি ওঠেছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সেই দাবি এখন সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের। তাদের মতে, নারীদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাজ করছেন, নিশাতকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সে কাজ আরও তরান্বিত হবে। ইতোপূর্বে নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হওয়ার জন্যে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুব মহিলা লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুক্তি খান জাগো নিউজকে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য গত চার বছর ধরে নিশাত আপা সদর উপজেলায় নারীদের রাজনীতিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য দারুণভাবে কাজ করছেন। তাই আমরা চাই নিশাত আপা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের কাছে আসুক। এতে করে আমরা নারীরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, নিশাতকে কখনোই দেখিনি নিজের স্বার্থে কোনো কিছু করতে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই দেখছি শুধু নারীদের কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সে চেষ্টা করতে। সবসময় গরীব-দুঃখীদের পাশে থাকে সে। মানুষের উপকারের জন্য হলেও এমন একটা মানুষকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করার দাবি জানাই আমরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিবন্ধীদের সংগঠন ড্রিম ফর ডিস্অ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি হেদায়তুল আজিজ জাগো নিউজকে বলেন, নিশাত আপা একজন যোগ্য ও আদর্শবান রাজনীতিক। সমাজের যে কোনো শ্রেণির মানুষ সহজেই তার কাছে সাহায্যের জন্য যেতে পারেন। আমাদের প্রতিবন্ধীদের জন্যও তিনি ১৫-২০ বছর থেকে কাজ করছেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিবন্ধীদের পক্ষ থেকে দাবি জানাই তাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করার।
জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. উসমান গণি বলেন, নারীদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে কাজ করছেন তার সমর্থনে নিশাতও কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের আইনজীবি সমিতির উন্নয়নেও নিশাত কাজ করেছেন। তাই আমরা তাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করার দাবি জানাই।

About arthonitee

Check Also

নিজে দুর্নীতি করব না, ধর্ম মন্ত্রনালয়ে দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়া হবেনা : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছে, কোন অন্যায় প্রশ্রয় দেয়া হবেনা। নিজে দুর্নীতি করব না, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *