প্রচ্ছদ / রাজনীতি / ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০টি পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০টি পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

 

আজিজুল সঞ্চয় (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের তেলীনগর গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় ১০টি পরিবারকে একের পর এক বিভিন্ন প্রকার মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় গত ২৬ নভেম্বর ভুক্তভোগী ওই ১০টি পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তেলীনগর গ্রামের মৃত আবদুল কাদের মিয়ার ছেলে জজ মিয়ার দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একই বংশের মৃত আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে আবদুর রহিম মিয়ার নেতৃত্বে মাত্র বি.এস মূলে মালিকানা দাবি করে জায়গা জমি দখলের পায়তারা করে। এরই জেরে গত বছরের ২৫ নভেম্বর রহিম মিয়ার নেতৃত্বে জজ মিয়ার পরিবারের উপর হামলা করা হয়। হামলার পর রহিম মিয়া উল্টো জজ মিয়ার পরিবারের নামে মামলা করেন। অথচ ওই সময় তাদের হামলায় গুরুতর আহত জজ মিয়ার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন চিকিৎসক। পরে জজ মিয়াও আইনের আশ্রয় নেন। রহিম মিয়ার মামলায় জেল খাটতে হয় জজ মিয়াসহ ভুক্তভোগী ওই ১০ পরিবারের সদস্যদের। পরবর্তীতে রহিম মিয়া শুধু বি.এস দিয়ে জজ মিয়ার দাদা আবদুল মজিদের নিজস্ব মালিকানাধীন ২১ শতক জায়গার উপর মামলা দায়ের করেন। অথচ এই জায়গার মূল মালিক মৃত আব্দুল মজিদের বংশের ১০টি পরিবার। পরিবার গুলো হচ্ছে- মন মিয়ার পরিবার, মৃত মতি মিয়ার পরিবার, মলাই মিয়ার পরিবার, জয়নাল মিয়ার পরিবার, নাসির মিয়ার পরিবার, সালাম মিয়ার পরিবার, নুরু মিয়ার পরিবার, দুলাল মিয়ার পরিবার, হেলাল মিয়ার পরিবার, মহিউদ্দিন মিয়ার পরিবার ও এরশাদ আলীর পরিবার।
মামলার আদেশে নি¤œ আদালত আবদুর রহিম মিয়ার মামলাটি বাতিল করে দিয়ে উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেন। এই আদেশ পাওয়ার পর রহিম মিয়া উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন, যা চলমান আছে। জজ মিয়া ওই বি.এস জরিপটি বাতিলের জন্য দলিলপত্র দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে রহিম মিয়া চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ও ১৭ নভেম্বর তার চাচা আবদুল হামিদকে দিয়ে আরো দুইটি মিথ্যা মামলা দায়ের করান। এই মামলায় জজ মিয়ার চাচাতো ভাই মন মিয়া বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। ১৭ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় উলে¬খ করেন, ১১ নভেম্বর রাত ১০টায় জায়গার পাশের কবরস্থানের দেয়াল ও জায়গার দেয়াল ভাঙ্গা হয়েছে। অথচ মামলার সত্যতা প্রমাণ করতে ২০ নভেম্বর মধ্যরাতে রহিম মিয়ার লোকজনই কবরস্থানের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জজ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, রহিম মিয়া ও তার লোকজনের এসব হয়রানি মূলক মামলা থেকে আমরা বাঁচতে চাই। তাদের এই মামলার কারণে বাড়িতে মহিলারাও শান্তিতে থাকতে পারেনা। তাই পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি সুদৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে রহিম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

About arthonitee

Check Also

ইভিএমে ভোটগ্রহণ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *