প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক সংসদ আমজাদ হোসেন সরকারসহ ৮জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল, বৈধ প্রার্থী-৫

নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক সংসদ আমজাদ হোসেন সরকারসহ ৮জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল, বৈধ প্রার্থী-৫

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর (কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী) :একাদশ সংসদ নির্বাচনের যাচাই বাছাইয়ে নীলফামারী-৪ আসনের ১২ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সৈয়দপুর পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারসহ মোট ৮জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন।
রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী প্রার্থী, সমর্থন ও প্রস্তাবকারীদের উপস্থিতিতে যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।
নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থীদের যাচাই বাছাই শুরু হলে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সৈয়দপুর পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার (ভজে) কাগজ ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। অপর দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী,সৈয়দপুর বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আকতার হোসেন বাদল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির সম্পাদক আমেনা কহিনুর আলম ও আমিনুল ইসলাম আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেও দলের মনোনয়নের প্রত্যয়ন জমা না দেয়ায় তাদেরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে গন্য করা হয়। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ওই আসনের মোট ভোটারের স্বাক্ষর ১% মনোনয়ন পত্রের সাথে জমা না পাওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৪ প্রার্থী অবৈধ ঘোষনা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বসুন্ধরা গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম মিরাজ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন স¤্রাট ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলামের মনোনয়ন পত্রের সাথে তথ্যের মিল না থাকায় তাদেরকেও অবৈধ ঘোষনা করা হয়।
বৈধ প্রার্থী হিসাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কন্ঠ শিল্পী বেবী নাজনীন, জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী,জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আপন ভাগিনা মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম মেরিনা রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ড. আসাদুর রহমানের ছেলে আদেলুর রহমান আদেল,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা শহিদুল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নেতা আব্দুল হাই সরকারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার নাজিয়া শিরিন।
মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ায় নীলফামারী-৪ আসনের ভোটারদের মধ্যে বাঁধভাঙ্গা উল্লাসের সৃষ্টি হয়েছে। পছন্দের প্রার্থীদের নাম চুড়ান্ত হওয়ায় তারা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। তবে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তার সমর্থকদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। তারা আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বেবী নাজনীনের পক্ষে কাজ করবেন কিনা এ বিষয়ে দেখা দিয়েছে শংসয়।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা পাটোয়ারী বলেন,শহীদ জিয়ার আদর্শের কর্মীরা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই দলের সকল নেতা কর্মীরা কাজ করবেন। আর যদি কোন ব্যাক্তি পছন্দের প্রার্থী না পেয়ে কাজ না করেন তাহলে তার মধ্যে বিএনপির আদর্শ নেই বলে আমি মনে করি।
অপর দিকে জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আপন ভাগিনা মহিলা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম মেরিনা রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ড. আসাদুর রহমানের ছেলে আদেলুর রহমান আদেল দু’জনের মনোনয়ন বৈধ থাকায় দলীয় নেতা কর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী এলাকায় তেমন কোন উন্নয়ন না করায় এবং দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে ভাল সম্পর্ক না থাকায় দলে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তরুন প্রার্থী হিসাবে এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার একক প্রার্থী হিসাবে দলমত নির্বিশেষে তার পক্ষে কাজ করবেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার মানুষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি রশিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি কোন প্রার্থীর পক্ষে আপাতত কাজ করছি না। তবে দল থেকে মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার পর কাজ করবো কিনা তা পরে দেখা যাবে।

About akdesk1

Check Also

গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান খালেক মুন্সী আর নেই

শামীম খান (গৌরীপুর,ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *