প্রচ্ছদ / ভোগান্তি / উজাড় হচ্ছে বন ও জীববৈচিত্র্য

উজাড় হচ্ছে বন ও জীববৈচিত্র্য

পাহাড় ও সাগর বেষ্টিত বৃহত্তম চট্টগ্রাম অঞ্চল। এ অঞ্চল জুড়ে যেমন সুবিশাল পর্বতমালা আছে তেমনি বিশাল উপক‚লীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এ কারণে পুরো এলাকাটি ছিল এক প্রকার সবুজে ঢাকা। তবে বিগত এক যুগে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এ সময়ে উপক‚ল কিংবা অভ্যন্তরীণ দুই বনেই নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় কিংবা উপক‚লীয় বন দুটোই উজাড় হচ্ছে সমান তালে। কিন্তু বিশাল পাহাড় থেকে প্রতিদিন কাঠুরিয়া ও বনদস্যুরা বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু করে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ায় তা বড় আকারের বৃক্ষ নিধন হিসেবে কারো কাছেই গুরুত্ব পাচ্ছে না। গত এক যুগে এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধনের ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে । এতে এ সব এলাকায় উপক‚লীয় বন প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এক সময় ঘন বনায়নের কারণে এলাকায় প্রচুর বন্য জীবজন্তু দেখা যেত। বাঘ, ভাল্লুক, বানর, হনুমান, কয়েক প্রকার হরিণ, শূকর, শেয়াল, মেছোবাঘ, অজগর, গোখরোসহ বিভিন্ন প্রকার সাপ, খরগোশ, বনবিড়াল, দোয়েল, তোতা, টিয়া, ময়না, শালিক, মাছরাঙ্গা, ঈগল, বনমোরগ নানারকম ফড়িং, প্রজাপতিসহ অসংখ্য প্রকার বন্যপ্রাণীর কলকাকলীতে মুখরিত ছিল এ অঞ্চলের পাহাড় ও উপক‚ল। বন্য জীবজন্তুর ভয়ে সাধারণ মানুষ বনের কাছে যেতেও ভয় পেত। কিন্তু এখন নির্বিচারে বন উজাড়ে বনভূমি এক প্রকার ফাঁকা হয়ে গেছে। উপক‚লীয় বন তো একপ্রকার নিশ্চিহ্ন হয়েই গেছে। পাহাড়েও এখন আর সেই ঘন বন নেই। এ কারণে বহু বন্যপ্রাণী এখন আশ্রয় ও খাদ্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। হরিণ, খরগোশ, বনমোরগ, শূকরসহ বিভিন্ন পশুপাখি এখন খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে নেমে আসে। আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে বন্য প্রাণী শিকার করতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠছে। তারা দিন ও রাতে বনের মধ্যে ফাঁদ পেতে শিকার করছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সদর, মহাদেবপুর, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, বারআউলিয়া, ভাটিয়ারী এলাকায় এভাবে খাদ্যে ও আশ্রয়ের সন্ধানে নেমে এসে বেশ কয়েকটি অজগর সাপ ও অসংখ্য হরিণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই বনকর্মকর্তারা উদ্ধার করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করলেও শিকারিদের খপ্পরে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে এমন প্রাণীর সংখ্যাও কম নয়। এই এলাকায় বহিরাগত কয়েকটি সিন্ডিকেট প্রায়ই রাতের আঁধারে এসে হরিণ শিকার করে নিয়ে যায়। এলাকার প্রায় সবাই তাদের কথা জানে। কিন্তু রাত জেগে কে তাদের পাহারা দেবে? বন বিভাগ আরো সতর্ক হলে এসব শিকারিদের প্রতিহত করা যাবে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। অনেক সময় বন্যপ্রাণী খাদ্য ও পানির খোঁজে লোকালয়ে নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আসে হরিণ। লোকালয়ে আসার পর আমরা জানতে পারলে বনবিভাগকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দিই। আবার অনেক সময় কেউ জানতে না পারলে সুযোগসন্ধানীরা ধরে নিয়ে যায় বলে শুনেছি। কিছুদিন আগেও প্রায়ই রাতের আঁধারে তারা উপক‚লীয় এলাকায় গিয়ে হরিণ শিকার করত। তবে ইদানীং তাদের কথা শোনা যাচ্ছে না। এভাবে বণ্যপ্রাণী নিধনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তা না হলে জীববৈচিত্র্য ধংস হয়ে যাবে।
আলম শামস
কবি ও সাংবাদিক।

About akdesk1

Check Also

একে একে চলে গেল পরিবারের ৬ জন

রাজধানীর উত্তরখানের ব্যাপারীপাড়ার গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ সাগরও (১২) মারা গেছে। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *