প্রচ্ছদ / শিল্প-সাহিত্য / জন্মদিনে হুমায়ূন স্মরণ: পাঠকের ভালোবাসার উষ্ণতা পৌঁছে যাক আপনার কাছে

জন্মদিনে হুমায়ূন স্মরণ: পাঠকের ভালোবাসার উষ্ণতা পৌঁছে যাক আপনার কাছে

হোসনে আরা বেনু:
নিষ্পাপ শিশু টুনির মৃত্যু, নির্দোষ বাকের ভাইয়ের ফাঁসি…..
কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না…..
তাই বিক্ষুব্ধ দর্শক লেখক সাহেবের বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে; আর লেখক নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছেন….
এই পাগলামি একমাত্র আবেগ প্রবণ বাঙ্গালীরাই করতে পারে।আর এই আবেগ সৃষ্টি করেছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নির্মাণের কারিগর হুমায়ূন আহমেদ।

আমরা হুমায়ুন আহমেদের বই পড়তে পড়তে বড় হয়েছি। সেই কিশোরী বেলা থেকে আজ অব্দি ভালোবাসা পরিমাপকের মাপকাঠিতে একই স্কেলে রয়ে গেছে। অসাধারণ জীবনবোধ তাঁর।

অগণিত পাঠক সৃষ্টি করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।অত্যন্ত সহজ সরল সাবলীল ভাষায় তাঁর লেখা যেন আমাদের জীবনের কথা বলে। বই পড়তে পড়তে মনে প্রশ্ন জাগতো, আচ্ছা উনিকি আমাদের দেখতে পান?
আমাদের ভাবনা গুলো কি ভাবে উনি ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করেন? নাকি আমরাই তাঁকে অনুসরণ করি ?

কিশোর থ্রিলার, সেবা প্রকাশনীর বই, রবীন্দ্র নাথ, শীর্ষেন্দু ছাপিয়ে মত্ত হয়ে গেলাম হুমায়ুন নামক এক নেশায় , এক ধরনের ঘোরে। মুগ্ধতার এক মোহোময় আবেশে জড়িয়ে গেলাম। ভক্ত ও পাঠকরা এক অদৃশ্য মায়ার বাধনে বাধা পড়ে গেছে। ক্লাসের ফাঁকে, পড়ার টেবিলে বইয়ের নীচে, বালিশের নিচে কিংবা বাথরুমে কাপড়ের ভাজে বই লুকিয়ে রেখে পড়েছি।মার ও খেয়েছি সেই রকমমমমমম।
হাসি ঠাট্টার মাধ্যমে চমৎকার সব মেসেজ থাকতো গল্পগুলোতে। শত শত নাটকের মাঝে আমরা তাঁর নাটক খুঁজি।
নন্দিত নরকে পড়ে চোখের জল ফেলেছি, কানাবাবু শুভ্রর হাতে হাত রেখে জরির মধ্যে হারিয়ে গিয়েছি। অদ্ভুত সব রহস্যের গিট খুলতেন মিসির আলি,হুমায়ুন আহমেদের এক অনবদ্য সৃষ্টি।
তবে হিমুকে আমার ভালো লাগতো না, খালি পায়ে ঘুরে বেড়াতো। নোংরা মনে হতো, দাঁত ও মনে হয় ব্রাশ করতনা। তবে তার জীবন দর্শন ভালো লাগতো।

সিনেমাবিমুখ দর্শকদের বাধ্য করেছেন সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে। শংখনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি , নন্দিতনরকে , ঘেটু পুত্র কমলা , তাঁর নির্মিত অসাধারণ চলচ্চিত্র। একুশের বইমেলায় হুমায়ুন শূন্যতা বুকের বামপাশে চিনচিন একটা টান অনুভব করি।
গীতিকার হিসেবে ও জয়ের মালা তাঁর।

চাঁদনি পশর রাইতে যেন আমার মরণ হয়……..। শুনে কোথায় যেন হারিয়ে যাই, মোহাবিষ্ট হয়ে যাই।
সুরের মূর্ছনায় তাঁর ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন……কিন্তু কখনো ভাবিনি এই ভাবে এত তাড়াতাড়ি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।
যেখানে থাকবেন , ভালো থাকবেন।লাখো পাঠকের ভালোবাসার উষ্ণতা পৌঁছে যাবে আপনার কাছে।অনেক ইচ্ছে ছিল কোনো এক চাঁদনি রাতে আপনার পাশে বসে জোস্না গায়ে মাখবো , ইচ্ছে আমার অধরাই থেকে গেল ।

শুভ জন্মদিন প্রিয় লেখক।

About arthonitee

Check Also

শাহ মোহাম্মাদ সানাউল হক এর কবিতা “উল্টা পদচিহ্ন ”

  উল্টা পদচিহ্ন শাহ মোহাম্মাদ সানাউল হক   একদিন গল্প হয়ে যায় চেনা কোন অপরাহ্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *