প্রচ্ছদ / মতামত / বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে: আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার কে? (১ম অংশ)

বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থেকে: আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার কে? (১ম অংশ)

সফিকুর রহমান চৌধুরী:
পঁচাত্তর পরবর্তী একুশ বছরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক চালচিত্র কেমন ছিল আমাদের কি মনে আছে? আমি নিজের দেখা ছাড়া ধার করে লিখতে পারিনা।গোপালগঞ্জে তখন সন্ধ্যা নামার আগেই রাত নামতো। মডেল স্কুলে পড়তাম।বাড়ী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের পথ। প্রথমে কাঁচামাটির রাস্তা, নিলামাঠ পার হয়ে ইটের সোলিং, সিও অফিসের মোড় থেকে লাশকাটা ঘর পর্যন্ত খোয়া ওঠা একধরনের রাস্তা এর মধ্যে ভোকেশনালের সামনে ছিল ত্রাহিমধুসুধন অবস্থা এরপর সিমেন্টের ঢালাই। আদালতের পিছনে দুজন ডাক্তার হকারি করে একশ একত্রিশ প্রকার রোগের ওষুধ বিক্রি করতো। ডাক্তার সাহেবদের নাম ছিল সম্ভবত সাহেব আলী, আর লাল। মাঝারি মানের ডাক্তার বলতে তখন সুধীর, ফনি, আর ফরিদ ডাক্তার।এমবিবিএস বেজিতেন আর রমানাথ।বেজিতেন বাবুর আবার সার্টিফিকেট কাটা ছিল।আমাদের তখন এইসব দিনরাত্রি একজায়গায় থমকে আছে।গ্রামে মানুষের অভাব ছিল বর্ননাতীত।মেহমান ছাড়া কোনদিন বাড়িতে মুরগী জবাই হতে দেখিনি।মহল্লার আশিভাগ ঘরবাড়ী ছনের। বাকী বিশভাগ টিনের।ইটের ঘর বলতে মালোপাড়ার পরিত্যাক্ত মন্দির।আমাদের আনন্দ বলতে হিন্দুদের আড়ং, কীর্তন, বড়পূজা আর মুসলমানদের দুই ঈদ।ঈদ উল ফিতরের দুঃখ ছিল নতুন জামা কেনার অভাব। কোরবানীর দুঃখ আবার অন্যরকম।সাতভাগের একভাগ টাকা জোগাড় করে কোরবানী করার লোকের খুব অভাব ছিল তখন।
বছরের শীতকালটা মোটামুটিভাবে কাটলেও অন্যসময় খুব কষ্টে কাটতো গ্রামবাসীর। প্রায় কোন বাড়িতেই দুপুরে ভরপেট খেতে দেখিনি।রান্না হতো দু’বেলা।জ্বালানি ছিল মরাগাছ কিংবা গাছের নিচে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।স্কুলের বাংলা রচনা শিখতাম গরু, সোনালী আঁশ পাট, আমাদের বিদ্যালয়। আমাদের চিন্তার জগতটা কত সীমাবদ্ধ ছিল একবার ভাবুনতো! ক’জন লোক জামা কাপড় স্ত্রি করে পরতো? হালফ্যাশনের সাথে ক’জনের ছিল পরিচয়? সারা গোপালগঞ্জে তখন টিভি হাতে গোনা কয়েকটি।মনে পড়ে টিভিতে একটা বাংলাছবি দেখার নেশায় ধনাঢ্য পরিবারের বাড়ীর জানলায় কত উঁকি মেরেছি আবার আবাহনী মোহামেডান খেলা দেখার নেশায় ৮৮’র বন্যায় পানি ঝাপিয়ে ভোকেশনালের ছাত্রাবাসে গিয়েছি।
তখনকার সেই পিছিয়ে পড়া সমাজকে আজকের এই চাকচিক্যময় ডিজিটাল সমাজে নিয়ে আসার কৃতিত্ব কার? কে সেই শিল্পী যার তুলির সুনিপুন আঁচড়ে বর্তমানের সকল সুবিধা সম্পন্ন একটা মধ্যবিত্ত সমাজ ব্যাবস্থা গড়ে উঠলো? আমাদের চিন্তার চৌরাস্তায় যদি ট্রাফিকজ্যাম না থাকে তাহলে নিজেকে নিজে এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে অনুরোধ করছি।
বাংলাদেশের পশ্চাৎপদ গ্রামীন অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো, আধা মৌলবাদী ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গড়ে ওঠা আর্থসামাজিক পরিবেশকে কোন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এসে এক ফুৎকারে টেনে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসেন নি।এর জন্য প্রয়োজন ছিল বিশাল গবেষনা, পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দৃঢ় এবং অনমনীয় মনোবল এবং অতি অবশ্যই আর্থিক সচ্ছলতা। একটা বৃহৎ এবং পুরাতন রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ স্বাধীনতা পুর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তর দুই পর্বেই তার যথযথ ভুমিকা পালন করেছে।স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামীলীগ সাড়ে তিনবৎসর দেশ শাসন করে।একটা সদ্য স্বাধীন দেশের হামাগুড়ি দিয়ে চলা শিশুকে সময় দিতে হয় নিজের পায়ে স্থির হয়ে দাড়ানোর জন্য।
বঙ্গবন্ধু মুজিব প্রথমেই যে কাজটি করেছিলেন এদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের ব্যাবস্থা করে তা’ হল দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর অবিচলতার কথা সবাইকে জানান দেওয়া। তিঁনি আমাদের একটা সুন্দর সংবিধান, জাতীয় সংগীত, একটা জাতীয় পতাকা দিয়েছিলেন।দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সম্মৃদ্ধির সোপানে দুর্বার গতিতে।কিন্তু ৭৫’ এর ১৫ আগষ্টে তাঁর নির্মম হত্যাকান্ড আমাদের অগ্রগতিকে পিছনের দিকে নিয়ে যায়।কোমর ভেঙ্গে যায় সদ্যজাত একটা হামাগুড়ি দেওয়া শিশুর। ৭৫ পরবর্তি একুশ বছরে দেশের কি কি উন্নয়ন হয়েছে কেউ কি বলতে পারবেন? হ্যা একথা অস্বীকার করার উপায় নাই যে এরশাদ আমলে দেশের অবকাঠামোর প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল।প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণও ছিল তার অন্যতম একটা দূরদর্শী পরিকল্পনা। এরবাইরে? সবকিছু ‘ফিলিপস বাত্তির লাহান ফকফাকা’। স্বাধীনতা উত্তর বিগত সাতচল্লিশ বছরকে আমি মোট চারটি ভাগে ভাগ করবো।আওয়ামী আমল, জাতীয়তাবাদি আমল, এরশাদীয় আমল এবং উর্দি পরা আমল। উর্দিপরা আমলের কথা বলা বাহুল্য। আর গুরুর নিষেধ আছে কিছু বলতে।অতএব ইতি। এরশাদীয় আমলে দেশের অবকাঠামোর ভালো উন্নতি হয়েছিল।প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ছিল একটা সুচিন্তিত উদ্যোগ।এর ফলে শহরের পরিধি বেড়েছে অনেক।কিন্তু দুর্নীতি আর মাস্তানীরও ব্যাপকতা ছিল সীমাহীন।
গডফাদার শব্দটার সঙ্গে আমরা তখন থেকেই পরিচিত হই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল যেন একটা মিনি ক্যান্টনমেন্ট।তিনবৎসরের অনার্স সাত বৎসরেও শেষ হয়নি।মনে আছে কোটালিপাড়ায় কাজী মন্টু আলাদা প্রশাসন চালাতো।পরীক্ষার হলে নকলের দৌরাত্ব ওখান থেকেই বিষবাষ্প ছড়াতে শুরু করে।তবে ঐ সময়টা ছিল ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল একটা সময়।স্বাধীনতা উত্তর এত গৌরবময় ভুমিকা আর কেউ দেখাতে পারেনি। জাতীয়তাবাদী আমল তিন ভাগে বিভক্ত। ১) মেজর জিয়ার উর্দিপরা আমল। এই আমলের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো খাল কাটা, ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি, রাজাকার মন্ত্রী,যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন, বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদ প্রচলন, পাকিস্তানের সাথে মিল রেখে জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ প্রবর্তন, মানি ইজ নট প্রব্লেম এবং আই মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দা পলিটিশিয়ানস তত্ত্বের উদ্ভব ইত্যাদি। ২) খালেদা জিয়ার ১৯৯১-১৯৯৬ আমল।
এই আমলের একমাত্র অর্জন অর্থ মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের বাজেটে ভ্যাট প্রবর্তন যা বাংলাদেশের রাজস্ব নীতিতে বিরাট ভুমিকা রাখছে। এছাড়া ১৫ফেব্রুয়ারী নির্বাচন তাদের জন্য বিরাট কলঙ্কের বোঝা হয়ে এসেছিল। ৩) খালেদা-তারেকের হাওয়াই আমল ২০০১-২০০৬। কেউ কি আছেন এই আমলে বিএনপির নেওয়া একটা সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা আমাকে দেখাতে পারবেন? বরং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের অসংখ্য সংগঠকের মৃত্যুর মিছিল এমনকি একুশে আগষ্ট একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শুধু নয় জাতির জনকের কন্যাসহ আওয়ামীলীগের প্রথম সারির সব নেতাকে মেরে ফেলার ঘৃন্য এবং ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ড  নীলনকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়।স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা মানবঢাল তৈরী করে ২৩জন আদম সন্তানের জীবনের বিনিময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু দেশের মানুষ কি পেয়েছিল? সারারাত বিদ্যুৎ থাকতো না, খাদ্য ঘাটতি সীমাহীন, কোন নতুন প্রকল্প গ্রহন বা বাস্তবায়ন নেই।
দুর্বিষহ বেকারত্ব, জঙ্গিবাদের উত্থান, সারাদেশে বোমাহামলা। হাওয়া ভবনের কথা নাই বা বললাম।যারা বিএনপি করতো বা নেতাদের দালালি, তারা হাওয়া থেকেই সবকিছু পেত।লঞ্চডুবিতে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের হাতে ছাগল ধরিয়ে দেওয়ার মত হৃদয়বিদারক ঘটনাও আমরা ঐ আমলে দেখেছি।আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়ে গেছে এমন কথাও আমরা শুনেছি। কিন্তু দেশের মানুষের আর্থসামাজিক কোনো পরিবর্তন আমরা দেখিনি।তারা ছিল যেই তিমিরে সেই তিমিরে।লেখার কলেবর অনেক বেড়ে যাবে তাই সব আর লিখলাম না। আওয়ামী আমল(১৯৯৬-২০০১) দীর্ঘ একুশ বছর পর আবার ক্ষমতায় এলো দলটি।চোখে বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন।কিন্তু চারিদিকে আবর্জনার জঞ্জাল। প্রশাসনের কোথাও নির্ভর করার মত লোক নেই।এ’যেন কবির কবিতা “চারিদিকে শত্রুর দল, করিতেছে কোলাহল, আতঙ্কে হৃদয় কাঁপে, সঙ্গে নাহি কেও” ঠিক এমনি এক বিরুদ্ধ স্রোতের উজানে দক্ষহাতে নৌকার দাড় ধরলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা।দেশকে নিয়ে গেলেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থানে, মানুষের কর্মসংস্থান বাড়লো,বাড়লো ক্রয়ক্ষমতা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আশাতীত সাফল্য এলো।ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পরিবার সহ নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের পথ পরিস্কার করলেন।এতদিন যা’ছিল ভাবনার বাইরে তা’ মানসচক্ষে দৃষ্টিগোচর হলো।হাজার হাজার ব্রীজ কালভার্ট, রাস্তাঘাট নির্মিত হলো।বঙ্গবন্ধু সেতু রেললাইন সহ উদ্বোধন হলো,নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হতে লাগলো,কলকারখানা গড়ে উঠলো দেশময়।’পাহাড়ে শান্তি’একসময় যা’ছিল দুর কল্পনা তা’ চলে এলো হাতের মুঠোয়।গঙ্গাচুক্তি সম্পন্ন হলো ইন্ডিয়ার সাথে।বহির্বিশ্ব বাংলাদেশকে নতুন করে অবলোকন করতে লাগলো।আমরা ক্রিকেটের কুলিন ক্লাবে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিলাম।মোবাইল ফোন যেটা ছিল শুধুমাত্র এলিটদের হাতের শোভা বর্ধনের আর আভিজাত্যের নিদর্শন তা চলে এলো গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার তালিকায়। একটা প্রান প্রাচুর্যে ভরে ওঠার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেগেল বাংলাদেশ। মাঝখানে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একটা বিরতি। ক্ষমতার মসনদে জাতীয়তাবাদী দল এবং মইনুদ্দিন ফকরউদ্দিন মিলে মোট প্রায় সাত বৎসর দেশ চালিয়েছিলেন। আগেই বলেছি সে কথা এখানে আবার অবতারনা করা চর্বিত চর্বন।কাজেই ওটা বাদ দিলাম। ২০০৮-২০১৮ এই দশ বৎসরে দেশ কোত্থেকে কোথায় পৌঁছেছে আমরা কি ধারনা করতে পারি? মাত্র ছিয়াশিহাজার কোটি টাকার বাজেট ২০১৮ তে সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পেরেছে কার জন্য? চার থেকে পাঁচের ঘরে ঘোরা জিডিপি সাতের উপর চলে এসেছে! মাথাপিছু আয় একশত ষাট ডলার থেকে একুশশত বাষট্টি ডলার! (পরিসংখ্যান গত সামান্য ভুলত্রুটি হতে পারে) খাদ্যের উদ্বৃত্ততা আবার এনেছে এই সরকার।মঙ্গা নামক উত্তরাঞ্চলের দুর্ভিক্ষ নেই হয়ে গেছে।দেশে এই মুহুর্তে কোন বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই! দেশের অনেক উপজেলা ইতিমধ্যে একশতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে!
ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা পাঁচ কোটির ওপরে! পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল দৃশ্যমান! দেশের বিভিন্ন স্থানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেগা প্রকল্প চলমান এবং দৃশ্যমান।এ যেন নতুন কোন রেনেসাঁ’র যুগে চলে এসেছি আমরা। আমার নিজ ইউনিয়নের কথা বলি।আজ থেকে পনের/বিশ বছর আগে এখানে টিনের ঘর গুনে বের করা যেত।অধিকাংশ বসতবাড়ী ছিল ছনের অথবা খড়ের।সেখানে আজও টিনের ঘর গুনে বের করতে হয় তবে ছন বা খড়ের ঘর নেই একটাও।অধিকাংশ ঘরই পাকা দালান অথবা সেমি পাকা ঘর।সবার আয় বেড়েছে, বেড়েছে ক্রয়ক্ষমতা। এমন কোন বাড়ী নেই যেখানে অন্তত দু’টি মোবাইল সেট নেই।সবার ঘরে টিভি, ডিস সংযোগ এমনকি ষাট/সত্তর ভাগ লোকের ঘরে ফ্রীজ দেখা যাবে।এবার দেখলাম আমার এলাকার অনেক মানুষ এখন রাইস কুকারে ভাত রান্না করে! ।প্রেশার কুকারে মাংস!! ভাবতেই অবাক লাগে। আবার অনেক কলেজ পড়ুয়া ছেলে বাড়িতে ওয়াইফাই রাউটার বসিয়ে নিয়েছে।আমি নিজেও আমার পরিষদ অফিস ওয়াইফাই নেটওয়ার্কক ভুক্ত করে নিয়েছি।উপরোন্ত আমি পরিষদের ইউডিসি এবং সচিবের রুমে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছি যাতে সবসময় আমি পরিষদের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারি।
আচ্ছা একবার ভাবুনতো এই যে এত এত কর্মযজ্ঞ তা’কি একদিনেই সম্ভব হয়েছে? নাকি দেশপ্রমে উদ্বুদ্ধ একজন মানুষের স্বপ্নকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে সঠিক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে মনোনিবেশ করে গতিশীল নেতৃত্ব গুনের মাধ্যমে তা’ অর্জন করতে হয়েছে। তাহলে কে সেই নেতা যিঁনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ‘সম্ভব’ এবং এই বিশ্বাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান সম্মৃদ্ধির সোপানে, উন্নয়নের মহা সড়কে। পরিশেষে শুধু একটা কথা বলতে চাই, আমাদের মধ্যে এমন কোন নেতা কি ছিলেন যিনি বিশ্বব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়ার পরেও অবিচল মনোবল আর দৃঢ়তা নিয়ে বলতে পারতেন পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নেই হবে।যেখানে অর্থমন্ত্রী স্বয়ং বলেছিলেন অসম্ভব! সেখানে কে সেই নেতা, কে সেই যাদুকর,কে সেই দুরদর্শি শিল্পী যিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের গোপন সুরের অনুরনন হৃদয়ে ধারন করেন? কে সেই জ্যোতির্বিদ যিঁনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন? কে সেই প্রকৌশলী যিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গড়ন গঠনের চাবি বানাতে পারেন? কে সেই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অধিকারী ত্যেজোদ্বিপ্ত নেতা যাঁর পিছনে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহন করে? কে? কে?? কে??? আসুন বিবেকের কাছ থেকে উত্তরটা জেনে নেই।তারপর ভোটকেন্দ্রে যাই।
(সফিকুর রহমান চৌধুরী , চেয়ারম্যান গোবরা ইউনিয়ন পরিষদ, গোপালগঞ্জ।)

About arthonitee

Check Also

আমরা যেভাবে মরছি তারাও যেন ধুঁকে ধুঁকে মরে

উম্মে রাজিয়া কাজল এমপি: রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *