প্রচ্ছদ / কর্পোরট / টানা অষ্টমবারের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের টাইটেল স্পন্সর ওয়ালটন

টানা অষ্টমবারের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের টাইটেল স্পন্সর ওয়ালটন

ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে এই লিগের অবদান অনেক। যদিও এ লিগের জন্য স্পন্সর পাওয়া কঠিন। তারপরও গেল আট বছর ধরে জাতীয় ক্রিকেট লিগের পাশে আছে ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ।

মাইলেজের কথা চিন্তা করে নয়, দেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করতেই প্রতিষ্ঠানটি টানা অষ্টমবারের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টাইটেল স্পন্সর হয়েছে।

শনিবার সকালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে ওয়ালটন গ্রুপকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২০তম আসরের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক (ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন) উদয় হাকিম, অপারেটিভ ডিরেক্টর শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য সচিব গাজী রাকিব হায়দার পাভেল ও টুর্নামেন্ট বিভাগের ইনচার্জ আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই আসর। এবারই প্রথম হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট ৮টি ভেন্যুতে জাতীয় ক্রিকেট লিগের খেলাগুলো হবে।

ভেন্যুগুলো হলো- খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, রংপুরের ক্রিকেট গার্ডেন, সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও বরিশাল জেলা স্টেডিয়াম।

প্রথমদিকে রংপুর তাদের হোম ভেন্যু হিসেবে খুলনা স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করবে। পরবর্তীতে তারা তাদের হোম ভেন্যু রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনেই খেলবে। বাকিরা তাদের নিজ নিজ হোম ভেন্যুতেই হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে।

গতবারের মতো এবারও দুই স্তরে (টায়ার ওয়ান ও টায়ার টু) জাতীয় ক্রিকেট লিগ হবে। প্রথম স্তরে খেলবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা বিভাগ, রংপুর বিভাগ, বরিশাল বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগ (গেল আসরে দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে উন্নীত)। দ্বিতীয় স্তরে লড়বে ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ (গেল আসরে প্রথম স্তর থেকে অবনমিত)।

এবারও যথারীতি ডাবল লিগ পদ্ধতিতে প্রতিটি দল নিজেদের টায়ারের অপর তিনটি দলের মুখোমুখি হবে। টায়ার টু এর চ্যাম্পিয়ন দল আগামী মৌসুমে টায়ার ওয়ানে উত্তীর্ণ হবে। আর টায়ার ওয়ানে পয়েন্ট তালিকায় তলানিতে থাকা দল টায়ার টুতে নেমে যাবে।

আগের আসরে প্রথম ব্যাট করতে নামা দলের জন্য ১২০ ওভার নির্ধারিত থাকলেও এবার কোনো ওভারের সীমাবদ্ধতা থাকছে না। তাছাড়া একটি দল ২৫০ রানের পর যা রান করবে তার জন্য ০.১ পয়েন্ট করে পাবে। আর প্রতি ৮০ ওভার পর পর বল পরিবর্তন করা হবে। প্রথম দুই রাউন্ডে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজ নিজ বিভাগের হয়ে খেলবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য সচিব গাজী রাকিব হায়দার পাভেল বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পায় তখন থেকেই জাতীয় ক্রিকেট লিগ আয়োজনের জন্য আমাদের উপর একটা চাপ ছিল। সেটারই ২০তম আসর মাঠে গড়াতে যাচ্ছে আগামী ১ অক্টোবর থেকে। বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে এনসিএলের ভূমিকা অনেক। এই লিগে দর্শক কম থাকে। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হয় না। মাইলেজ কম পাওয়া যায়। তারপরও ওয়ালটন গ্রুপ নিয়মিত জাতীয় ক্রিকেট লিগে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

ওয়ালটন গ্রুপের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক (ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পাবলিকেশন) উদয় হাকিম বলেন, ‘প্রথমেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমরা হয়তো ফাইনালে হেরে গেছি। কিন্তু পর পর তিনবার আমরা ফাইনাল খেলেছি। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দলকে পেছনে ফেলে ভারতের বিপক্ষে এবারও ফাইনাল খেলেছি। ফাইনালে আমরা ভারতের কাছে শেষ ওভারের শেষ বলে হার মেনেছি। আমাদের কাছে সিনিয়র খেলোয়াড়দের অভাব অনুভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে আমরা যেন ফাইনালে আর ব্যর্থ না হই, আমরা যেন বিজয় মুকুট ছিনিয়ে আনতে পারি। সে জন্য আমাদের ক্রিকেটের পাইপলাইনটা শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করা দরকার। আর ক্রিকেটের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে পারে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। এক সময় এনসিএলকে পিকনিক টুর্নামেন্ট বলা হত। কিন্তু ওয়ালটন এটার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরে এবং বিসিবির চেষ্টায় এখন কিন্তু এটা আর পিকনিক টুর্নামেন্ট না। এটা এখন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। আইসিসির সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনেই হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটা বিষয় খেয়াল করবেন আমাদের যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়, সেটা ঘরের মাঠে হোক কিংবা বিদেশের মাটিতে। সেখানে কিন্তু স্পন্সরের অভাব হয় না। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের যেসব ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আছে সেগুলোতে কিন্তু স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছে না। একমাত্র ওয়ালটন এগিয়ে আসছে। তার মানে হচ্ছে সবাই কিন্তু মাইলেজের চিন্তা করছে যে এই টুর্নামেন্টে গিয়ে আমরা কী পাচ্ছি? কিন্তু ওয়ালটন মাইলেজের চিন্তা কম করছে, আমরা চেষ্টা করছি বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে পাইপলাইন সেটা যেন ঠিক থাকে। সেজন্য আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বিসিএলের মতো টুর্নামেন্টেও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি।’

আগামী ১ অক্টোবর প্রথম রাউন্ডে টায়ার ওয়ানে শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খুলনা বিভাগ মুখোমুখি হবে রাজশাহী বিভাগের। একই দিন এই টায়ারের অপর দুই দল রংপুর ও বরিশাল বিভাগ মুখোমুখি হবে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় স্তরে খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগ মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম বিভাগের। এই স্তরের অপর দুই দল সিলেট বিভাগ ও ঢাকা মেট্রো লড়বে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

About arthonitee

Check Also

ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এজেন্ডার বাইরে সিদ্ধান্ত নয়

এখন থেকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পূর্বনির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে কোনো বিষয় সিন্ধান্ত না নেয়ার পরামর্শ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *