প্রচ্ছদ / শিক্ষাঙ্গন / আদালতের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে কাহারোল কলেজ সরকারি করনের প্রজ্ঞাপন

আদালতের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে কাহারোল কলেজ সরকারি করনের প্রজ্ঞাপন

উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ডিগ্রী কলেজকে সরকারি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর মহতী এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন সরকারের একটি মহল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এমন প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করন করা হচ্ছে যা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। জানা গেছে, দিনাজপুরের জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজ ও কাহারোল কলেজের মধ্যে সরকারি করনের বিরোধে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্বেও কাহারোল কলেজকে সরকারি করার প্রজ্ঞাপন জারী করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। গত ২৭ আগষ্ট শিক্ষামন্ত্রণালয় এই প্রঞ্জাপন জারী করে। হাইকোর্ট জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজকে অতিসত্বর সরকারি করনের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করেই এই প্রজ্ঞাপন জারী করা হলো। হাইকোর্টের পর মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। জানাগেছে, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজকে প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর এইচএসসি ও ২০০৪ সালে ডিগ্রী শাখা এমপিও ভূক্ত করা হয়। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বাংলা, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্সও চালু রয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪’শ শিক্ষার্থী রয়েছে। যথাযথ বিধান মেনে ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর কলেজটিকে সরকারি করনের লক্ষে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। ৭ অক্টোবর স্থানীয় সাংসদ ডিও লেটার দিয়ে কলেজটিকে সরকারি করনের লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বছর ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় করনের তালিকায় ৩২ নম্বরে রেখে কলেজটিকে অন্তভূক্ত করা হয়। সরকারি করনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও পায় জয়নন্দ কলেজ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারি করনের সম্মতি পাওয়া কলেজের তালিকায় ১২১ নম্বর সিরিয়ালে রাখা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। সরকারি করনের চুড়ান্ত ধাপে উন্নিত করতে একই বছর ৩০ জুন শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমা খানম সাক্ষরিত এক চিঠিতে পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পাঠদান ব্যাতিত কলেজটির নিয়োগ ও প্রশাসনিক অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথা বলা হয়। সাধারণত এমন চিঠির পরই পরবর্তি নির্দেশে কোনো কলেজ সরকারি করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। সেই চিঠি পাওয়ার পর কলেজ সরকারি হচ্ছে ধরে নিয়ে আনন্দ মিছিলও করে জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
কিন্তু এর দুই মাস পর জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজের নাম বাদ দিয়ে একই উপজেলার কাহারোল কলেজকে সরকারি করনের তালিকায় অন্তভূক্ত করে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়। এমন চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-১১৭৮৭/২০১৬। শুনানীর এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি, আদালত সবদিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজকে অতিসত্বর সরকারি করার আদেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে একই দিন কাহারোল ডিগ্রী কলেজ এপিলেড ডিভিশনে সিএমপি দায়ের করেন। আপিল বিভাগ কাহারোল কলেজের নানা অনিয়ম ও সরকারি করনের শর্ত পূরনে ব্যর্থ হওয়া কিছু বিষয়ে রায় দেয়া স্থগিত করলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন নি। এছাড়া গত ২ আগষ্ট সরকারি করনের ক্ষেত্রে আবেদন করা কলেজ সমূহ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরে। সেখানে জানানো হয়, ২৯২ টি কলেজের মধ্যে ২৭১টি কলেজকে সরকারি করনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে সরকারি করনের ইস্যুতে ২১ টি কলেজ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় নিস্পত্তি সাপেক্ষে পরবর্তি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে উল্লেখিত মামলা চলা ২১টি কলেজের মধ্যে জয়নন্দ ও কাহারোল ডিগ্রী কলেজও রয়েছে। মামলা চলমানথাকা সত্বেও কাহারোল কলেজকে কেনো সরকারি করনের প্রজ্ঞাপন জারী করা হলো? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেন নি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কলেজ সরকারি করন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, মাওশির নিজস্ব আইনজীবীদের পরামর্শে তারা কলেজটিকে সরকারি করনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারী করেছেন। জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজকে কেনো চুড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, বিষয়টি তিনি জানেন না বলেও জানান। তবে আদালত জয়নন্দ ডিগ্রী কলেজকে সরকারি করার নির্দেশ দিলে সে মোতাবেক মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব। উল্লেখ্য, কাহারোল কলেজের সম্পত্তি নিয়েও মামলা চলমান রয়েছে। অর্পিত সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের সীমানায় নিজেদের জমি রয়েছে দাবি করে নুরসেদ আলী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন, যার আপলি নং-১৪৭/২০০৪। ২০০৮ সালে চালু হওয়া কলেজের ডিগ্রী শাখাও এমপিও ভূক্ত নয়। সরকারি করনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ কাহারোল ডিগ্রী কলেজকে কেনো সরকারি করার প্রজ্ঞাপন জারী করা হলো , তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

About arthonitee

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *