প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য ও অসাধু শিক্ষকদের দৌরাত্ম!

রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য ও অসাধু শিক্ষকদের দৌরাত্ম!

রামগড় ( খাগড়াছড়ি ) প্রতিনিধি :
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড অথচ আজ এ মেরুদন্ডেই আঘাত হানছে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা। শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো, সবার জন্য শিক্ষা চাই দুটিই আমাদের শিক্ষার জাতীর স্লোগান। সরকার যখন নারীদের উন্নয়নে শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন, ঠিক তখনি রামগড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১২০০ অধিক ছাত্রী শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত অসাধু কয়েকজন শিক্ষকের অনিয়মের কারণে। অভিবাকদের প্রশ্ন সরকার মেয়েদের যদি বিনা বেতনে লেখা পড়ার সুযোগ দিয়ে থাকেন তাহলে এই বিদ্যালয়ে নেই কেন? সরকারী নিয়মনীতি ছাড়াই কতৃপক্ষ এই বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের অর্ধসাময়িক পরীক্ষায় ফি নিয়েছে জন প্রতি ৩৫০ টাকা। কিন্তু সরকারী নিয়ম মেনে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় গুইমারার হাফছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণীতে জন প্রতি পরীক্ষার ফি নিচ্ছে ১৪০ টাকা ও অষ্টম শ্রেণীতে ১৫০ ও নবম/দশম শ্রেণীতে নিচ্ছে ১৬০ টাকা করে। প্রতি বছর প্রতি ক্লাসে জনপ্রতি ভর্তি বাবদ আদায় করা হচ্ছে প্রায় ১১০০ টাকা করে এবং প্রতি মাসে বেতন আদায় না করে ৩/৪ মাস পরপর বেনামে বেতন আদায় করা হচ্ছে প্রায় ১৭০০ টাকা করে। এতে করে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অষ্টম ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী বলে, বেতন ছাড়াও এভাবে যদি প্রতি মাসে বিদ্যালয়ের বেসরকারী পাওনা বাবদ কোচিং, জলযোগ, বিদ্যুৎ, খেলাধুলা, পাঠাগার, দরিদ্র তহবিল, বার্ষিক দেওয়ালিকা, বিজ্ঞানাগার, বিবিধ ফি ইত্যাদি নিতে থাকে তাহলে আমাদের অনেকের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। কারন এই এলাকার অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র সীমার নিছে বসবাস করে এবং অধিকাংশ লোকই বাঁশ, কাঠ, লাকড়ি ইত্যাদি বিক্রি করে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে। খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে প্রাচীন মহকুমা ও সীমান্তবর্তী হওয়ায় অতিব গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচিত রামগড় উপজেলাটি। ১৯৬৪ খ্রীঃ স্থাপিত হয় রামগড় সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্য, ছাত্রী নিবাস দখল, অতিরিক্ত বেতন কর্তন, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে নিজ দায়িত্ব অবহেলা করে নিজেদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে সময় দেয়া সহ নানা দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই ছাড়াও শিক্ষক সংকট, শ্রেণী কক্ষের সংকট, ২ একর ৩২ শতক জায়গার মধ্যে ৪০ শতক জায়গা নিয়ে মামলাসহ নানা সমস্যা জড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টি এবং অপরদিকে নবনির্মিত ছাত্রী নিবাসে ছাত্রীদের থাকতে নাদিয়ে এই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক পরিবার নিয়ে দখল করে আছে যা নিয়মবহির্ভূত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, তার কথায় মত সকল শিক্ষক চলতে হয় না হলে তাদের বিভিন্ন জামেলায় পড়তে হয়। এই সকল অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফয়েজ রহমান জানান, ছাত্রী নিবাসের ২টি ভবনের একটির মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং অন্যটিতে ঐ সহকারী পরিবার নিয়ে থাকেন। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ ছাত্রীই বিভিন্ন কারণে বিদ্যালয়ের আশে পাশে এলাকায় গুলোতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। এছাড়াও অনুসন্ধানে জানাযায়, গত ১৫/০৩/১৭ ইং তারিখে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন মিয়া বরাবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছে অবিভাকসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। যেমন ১৯৯৯ইং সালে আওয়ামীলীগ অফিস ভাঙচুর মামলাসহ আরও মামলার কয়েকটি মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী ও তৎকালীন সময়ে তিনি প্রায় দুই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরত্বে নিজ বাড়ী থাকা সত্বেও তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্রী নিবাসে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করা, প্রভাববিস্তার, ভয়ভীতি ও বিভিন্ন উপডোকন এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরকারী ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও নিজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবইকে পাঠ্য বই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করণ এবং বিভিন্ন কৌশলে সরকারী ও বেসরকারী অফিসে ষ্টেশনারী সামগ্রী সরবরাহ করা ইত্যাদি। শিক্ষকতার পাশাপাশি বাহার উদ্দিন লাইব্রেরী ও ষ্টেশনারী ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা, জায়গা ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে থাকেন তাও বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে। পাঠদানের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের দ্বারা এতো কিছু করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-স¤পদের মালিক হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে আরও জানাযায়, শুধু বাহার উদ্দিন নয় এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে আরও কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকা। তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন অভিযোগ যেই করুক তা খতিয়ে দেখা হবে। অনেক অভিযোগ আমলে নেওয়ার যোগ্য। অনেক দুর্নীতি-অপরাধের তথ্য এসেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি জনাব মোঃ মোস্তফা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আগামী রবি/সোম বারের ভিতরে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হবে আর যে সকল সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাকি সমস্যা গুলোর সমাধানের চেষ্টা চলছে।

About arthonitee

Check Also

মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামন্ট শুভ উদ্ভোধন করলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান

মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামন্ট শুভ উদ্ভোধন করলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। এসএম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *