প্রচ্ছদ / জাতীয় / আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ২৮শে জুলাই জাতীয় রাজনীতির এক তারকা পুরুষ, বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব এবং কয়েক দফায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফল মন্ত্রী জননন্দিত নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী।গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনায় আলোকিত-উদ্ভাসিত বহু মানুষ আজ এ দিনে তাঁকে স্মরণ করবে বিনম্র শ্রদ্ধায় আর নির্মল ভালোবাসায়। তাঁর সময়ের রাজনীতি এই কীর্তিমান মানুষটিকে আকাশ ছোঁয়া অসামান্য সম্মানে অভিষিক্ত করেছিল। যার নজির বর্তমান রাজনীতিতে চোখে পড়েনা! দেশে জাতীয় রাজনৈতিক নেতার কোন কমতি নেই কিন্তু একজন আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া’র মতো পরমতসহিষ্ণু, নির্লোভ-নির্ভীক দেশপ্রেমিক, জ্ঞানী-গুণী, বিচক্ষণ, দূরদর্শী এবং বরেণ্য ও দাপুটে নেতার শূণ্যস্থান পূরণে আজও যথেষ্ট এবং যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
১৯৪৩ সালের ১ মার্চ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের আসাদনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মান্নান ভূঁইয়া। তাঁর পৈতৃক বাড়ি শিবপুরের মাছিমপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামে। বাবা আবদুল হাই ভূঁইয়া ও মা রহিমা খাতুন। শিশুকালে মা-বাবাহারা মান্নান ভূঁইয়া বড় হয়েছেন চাচা আবদুর রশিদ ভূঁইয়ার কাছে। তিনি শিবপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন ও ১৯৬১ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬৪ সালে স্মাতক ও ১৯৬৫ সালে স্মাতকোত্তর ডিগ্রি পান। পাশাপাশি এলএলবি ডিগ্রিও নেন।
ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে জড়ান। ১৯৬০ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মান্নান ভূঁইয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি শিবপুরসহ বিশাল এলাকাজুড়ে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করেন।
মান্নান ভূঁইয়া ১৯৭৮ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৮০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। কিছু দিন পর তিনি মহাসচিব হন। ১১ বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের এক-এগারো-পরবর্তী সময় দলে সংস্কার প্রস্তাব আনলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মহাসচিব পদ ও দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করেন।
মান্নান ভূঁইয়া নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসন থেকে চারবার সাংসদ নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শ্রম ও জনশক্তি এবং পরবর্তী সময়ে কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি চারদলীয় জোট সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ছিলেন।

About arthonitee

Check Also

আবারও সরকার গঠনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এসএম আরাফাত হাসান: ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও শিবচরের জনগণকে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *