প্রচ্ছদ / কর্পোরট / খেলাপিতে ধুঁকছে ব্যাংকিং সেক্টর

খেলাপিতে ধুঁকছে ব্যাংকিং সেক্টর

লাগামহীন খেলাপিতে ধুঁকছে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর। পার্শ্ববর্তী সব দেশকে ছাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ। কোনো উদ্যোগ, কোনো ব্যবস্থাই কাজে আসছে না। প্রতিবেশী দেশ নেপালের খেলাপি ঋণ যেখানে শূন্যের কাছাকাছি সেখানে আমাদের খেলাপি ঋণ দুই অঙ্কের ঘরে।

রোববার (০৪ মার্চ) মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী প্রথম আঞ্চলিক ব্যাংকিং সম্মেলনে-২০১৮ (আরবিসি-২০১৮)।

এর প্রথম দিনে ব্যাংকিং খাতের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের লাগামহীনতার বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। উদ্বোধনী সেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক ( প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের সেবা দেওয়া, দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু, এর পরেও ব্যাংকিং খাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এসব নতুন নতুন উদ্যোগগুলো আগামী দিনের ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভালো কৌশল হিসেবে পরিগণিত হবে।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বলেন, জনগণের আমানতের অর্থ এভাবে কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত হওয়ায় পুরো ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আগামী দিনে ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। তাই এখনই সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে।

আঞ্চলিক ব্যাংকিং সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নেপাল, ভুটান, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে কম নেপালে এবং সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। নেপালের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ গড়ে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। দেশটির সানিমা নামে একটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মাত্র ০.০৩ শতাংশ।

About arthonitee

Check Also

বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৪.৫ হতে ৯২.৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক বিগত পাঁচ বছরে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় মোট বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৪.৫ হতে ৯২.৮ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *