প্রচ্ছদ / মতামত / ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও অলৌকিক ‘ফুলতলী ঝরনা’

ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও অলৌকিক ‘ফুলতলী ঝরনা’

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ফুলতলী বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী, সুপ্রাচীন ‘ফুলতলী ঝরনা’। এ ঝরনা কে নিয়ে এলাকায় অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে।
সরেজমিনে এ ঝরনা পরিদর্শনকালে সাক্ষাৎ হয় স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল্লাহ (৫৮) এর সাথে। তিনি জানান আজ থেকে প্রায় ২/৩ শত বছর পূর্বে স্থানীয় ছয় মৌজার লোকজন, নবীগঞ্জ, বাহুবল ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অধিবাসীরা বিশুদ্ধ পানির অভাব এ ঝরনা দিয়েই পূরণ করতেন। বিভিন্ন জটির রোগ মুক্তির উদ্দেশ্যে এ ঝরনার পানি পান করলে রোগী আরোগ্য লাভ করতেন। তিনি পূর্বেকার কিছু জনশ্রুতি ও ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় লোকজনের বিবাহ কিংবা যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠানেরপূর্বে ঝরনারপাথরের কাছে এসে থালা, বাসন, বাটি, গ্লাস ও চামচ এর সংখ্যা বললে পরদিন উল্লেখিত পরিমাণ স্বর্ণের থালা, বাসন, গ্লাস, বাটি ও চামচ ঝরনায় ভেসে উঠত। আবার অনুষ্ঠান শেষ হবার পর থালা, বাসন, বাটি, গ্লাস ও চামচ পরিষ্কার করে ঝরনার পানিতে রেখে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে তা অদৃশ্য হয়ে যেত। এ রেওয়াজ দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় প্রচলিত ছিল। কিন্তু একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক আয়া লোভের বশীর্ভূত হয়ে একটি স্বর্ণের বাটি রেখে দেয়, এ ঘটনার পর থেকে ঝরনাতে আর এগুলো ভাসে না। তিনি এ গল্প উনার নানা ও দাদার কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ও গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুর রহমান মুকুল জানান, তিনিও এ ধরণের কাহিনী উনার পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে শুনেছেন, তবে এর কোন দালিলিক ভিত্তি আছে বলে উনার জানা নেই।
ঢাকা সিলেট মহাসড়ক নির্মিত হওয়ার অনেক পূর্বে পায়ে হেঁটে ছাত্র-ছাত্রীরা তৎকালীন সময়ে এলাকার একমাত্র দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করত এবং ঐ ঝরনার পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাত। এখনও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমন প্রিয় লোকজন ঐতিহাসিক, সুপ্রাচীন ও অলৌকিক এই ঝরনা দেখার জন্য আসেন। ঢাকা সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তর পূর্বদিকে এই ঐতিহ্যবাহী ঝরনাটির অবস্থান।
শাহ মনসুর আলী নোমান
ভিসি মহোদয়ের সচিব
নর্থ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

About akdesk1

Check Also

খনিজ তেল (base oil) এর প্রকারভেদ

ইঞ্জি. জয়নাল আবেদিন: ২০১৭ সালে, সারা পৃথিবী ব্যাপী লুব্রিকেন্টস এর চাহিদা ছিল ৩৭.৫ মিলিয়ন মেট্রিকটন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *