প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / হ্রাস পাচ্ছে মাদারীপুরের কৃষি জমি

হ্রাস পাচ্ছে মাদারীপুরের কৃষি জমি

madaripur

আরাফাত হাসান
অপরিকল্পিত নগরায়ন বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, মিল-কারখানা, অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজ নির্মাণের ফলে প্রতি বছর হ্রাস পাচ্ছে জেলার কৃষি জমি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভাঙ্গন ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণেও কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ইট তৈরির নামে প্রতি বছর হাজার হাজার একর জমির উপরের উর্বর মাটি পুড়ে বিনষ্ট করছে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। শিবচর উপজেলার চান্দেরচর বাজারের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু শ্রম সহ পানের বরজ, কৃষি জমি, ফল ও মেহগনী গাছের বাগান থাকার পরও প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে অবৈধভাবে ইট ভাটা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বেশীর ভাগ লোক এলাকার প্রভাশালীদের ভয়ে কোন অভিযোগ দিচ্ছে না। অনেকেই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ইদ্রিস মুল্লা হায রাপুর চরমুগুরিয়া পুরসভায়। করেসেন,,, তবে প্রশাসন জানায় যদি অনুমতি ছাড়া কোন ইটভাটা নির্মান করা হয় তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইটভাটাটি বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হবে।ইটভাটা জেলার আবাদি জমির টপ সয়েল (উপরিভাগের মাটি) ব্যবহার করে আসছে। এতে ওই সব এলাকায় আবদি জমির উর্বরতাশক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বনভূমি, অভয়ারণ্য, জনবসতিপূর্ণ ও আবাসিক এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করলে প্রথম বারের জন্য দুই বছরের কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। অনুমোদন না নিয়ে ইট ভাটা স্থাপন করলে এক বছরের কারদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। ইট ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করলে তিন বছরের কারাদন্ড-এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে। আইন করা নিষেধ থাকলেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সম্প্রতি শিবচর উপজেলায় আবাসিক এলাকায় চান্দেরচর বাজারের পাশে দুটি ইটভাটা নির্মিত হয়েছে। চান্দের চর এলাকায় হাজার হাজার লোকের বাস। পানের বরজ, কলা গাছের বাগান, মেহগনী গাছের বাগান থাকা সত্তেও ফসলি জমির ওপর ইট ভাটা চালু হওয়ায় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ বাড়ছে। তাছাড়া এই ইটের ভাটায় একাধিক শিশুরা কাজ করছে। কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতি না করে, আবাসিক এলাকা থেকে অনেক দুরে যেন ইট ভাটাগুলো করা হয় সে দিকে প্রশসানের ব্যবস্থাসহ কঠোর নজরদারি বাড়নো হয় এই দাবী সংশ্লিষ্টদের। পানের বরজের মালিক আব্দুল লতিফ খলিফা জানান, গত বছর এই বরজ থেকে ৪২ শতাংশ জমিতে পান চাষ করে প্রায় ৩লক্ষ টাকা মুনাফা হয়েছে। কিন্ত এবার এই ইটভাটার কারনে একশ শতাংশ জমিতে পান চাষ করে মুনফাতো দুরের কথা মনে হয় লোকসানে সব হারাতে হবে। পানের বরজের পানের পাতাগুলো লাল হয়ে এমনিতেই পড়ে যাচ্ছে।

About arthonitee

Check Also

arafat

মাদারীপুর পুলিশ প্রশাসন এর উদ্যোগে বিজয় দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন

এস,এম আরাফাত হাসান: মাদারীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘স্বাধীনতা দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতা’ শুরু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *