প্রচ্ছদ / স্বাস্থ্য / ডায়াবেটিস শুধু রোগ নয়, সামাজিক সমস্যাও

ডায়াবেটিস শুধু রোগ নয়, সামাজিক সমস্যাও

sayad

ডা. মো. ছায়েদুল হক

ডায়াবেটিস এখন আর কোনো অপরিচিত রোগ নয়। পৃথিবীর প্রায় ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর বসবাস দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। বেশিরভাগ মানুষই ডায়াবেটিসের জটিলতা সম্পর্কে সচেতন নন। ফলে এ রোগের দীর্ঘমেয়াদি ফল হতে পারে পঙ্গুত্ব, আয় সংকোচন অথবা মৃত্যু। তাই ডায়াবেটিসের গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।

সব ধরনের ডায়াবেটিসে দীর্ঘমেয়াদি দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জটিলতাগুলো সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছর পর দেখা দিয়ে থাকে। ডায়াবেটিসের প্রাথমিক জটিলতাগুলো দেখা দেয় সূক্ষ্ম রক্তনালি নষ্ট হওয়ায়। চোখ, কিডনি, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতে সূক্ষ্ম নালি বেশি থাকায় এ অঙ্গগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। চোখ আক্রান্ত হওয়া অর্থাৎ রেটিনোপ্যাথির পরিণতি হলো অন্ধত্ব। কিডনি আক্রান্ত হওয়ার নাম নেফ্রোপ্যাথি। এতে প্রস্রাবে সঙ্গে শরীর থেকে প্রোটিন বের হয়ে যায়। শেষ পরিণতি কিডনি নিষ্ক্রিয় হয়ে মৃত্যু। স্নায়ু আক্রান্ত হলে বলা হয় নিউরোপ্যাথি। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী সহজেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ বা প্যারালাইসিসের মতো জটিল রোগের মুখোমুখি হয়ে থাকেন।
রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ : কায়িক পরিশ্রম করতে অনীহা। মানসিক চাপ। খাদ্যে ভেজাল, ক্যানসারের মতো রোগ ও তার প্রতিকারে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি বেড়ে যাওয়াও অন্যতম কারণ।
ভালো থাকার উপায় : ভালো থাকতে যা করতে হবে তা হলোÑ ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। নিয়মিত হাঁটা বা কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি, বিশেষ করে শস্যদানা ও ফাইবারযুক্ত খাবার, শাকসবজি বেশি খেতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার, মাছ-মাংস পরিমাণমতো খেতে হবে। সুগার জাতীয় খাবার, যেমনÑ ভাত, আলু, মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম সীমিত পরিমাণে খেতে হবে। কোমল পানীয় বা ফ্রুট ড্রিঙ্কসে প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে এবং এ সুগার দ্রুত রক্তে চলে যায়। তাই এটি পরিত্যাজ্য। ফলমূলের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, এর সুগারের মাত্রা কেমন। যেমনÑ আঙুরে প্রচুর সুগার থাকে। তাই পরিহার করতে হবে। ধূমপান ত্যাগ করে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উত্তম কাজ হলো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা। দিনশেষে একবারের জন্য হলেও মিলিয়ে দেখতে হবে সারাদিনের খাবারে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কিনা। ঘটে থাকলে সংকল্প করতে হবে পরদিনের খাবারে এর সংশোধনী আনা। মাঝে মধ্যে রক্তে সুগার দেখে মিলিয়ে নিতে হবে খাওয়া দাওয়ার পরিমাণ ঠিকমতো যাচ্ছে কিনা। ডায়াবেটিসের সঙ্গে সারা জীবনের একটি ব্যয়ভার জড়িয়ে থাকে, যা অনেকের পক্ষে এ ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। অন্তত ইনসুলিন যাতে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়া যায়, সরকার সে ব্যবস্থা করলে দরিদ্র মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।

লেখক : স্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধকার এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক
চক্ষুবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল, ঢাকা
চেম্বার : ন্যাশনাল আই কেয়ার সেন্টার

About arthonitee

Check Also

pain

“ব্যাথার রকম ভেদ”

ব্যাথা কোন রোগ নয় রোগের উপসর্গ মাত্র। আমারা যখন শরীরের কোথাও আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা রোগাক্রান্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *