প্রচ্ছদ / প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর / দক্ষ শিক্ষকের অভাব , মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুফল পাচ্ছেনা হাজারো শিক্ষার্থীরা

দক্ষ শিক্ষকের অভাব , মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুফল পাচ্ছেনা হাজারো শিক্ষার্থীরা

shikkha

আহমদ বখত রতন (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):

দক্ষ শিক্ষকের অভাবে , মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুফল পাচ্ছেনা মৌলভীবাজার জেলার হাজারো শিক্ষার্থীরা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করে বাংলাদেশ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার জেলার ২৯০টি স্কুলের মধ্যে ২৩৩ টি স্কুলে সরকারিভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে,পৌর শহর মৌলভীবাজার আলী আমজদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাফিজাখাতুন উচ্চবিদ্যালয়ের স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়,স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম রয়েছে কিন্ত তা থেকে তারা কোন সুফল পাচ্ছেননা । তারা আরো জানায়, স্কুলে প্রজেক্টর থাকলে তা দিয়ে কখনো শিক্ষকরা ক্লাস নেননা এবং অনেক শিক্ষকরাই কম্পিউটার ব্যবহার জানেননা বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলী আমজদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাদের অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে বলেন , আমাদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মাত্র একটি, তাই সবসয়ম ক্লাস নেয় সম্ভব হয়না এবং আমাদের দক্ষ শিক্ষরের ও যতেষ্ট অভাব রয়েছে।
বড়হাট আবু শাহ দাখিল মাদরাসা’র কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা জানায় -তাদের মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর নেই এবং এ পর্যন্ত প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোন ক্লাস হয়নি। কিন্তু মাদ্রাসা সুপার প্রজেক্টরের কথা স্বীকার করে বলেন, মাঝে মধ্যে ক্লাস হয়।

সদর উপজেলার জগৎশী স্কুল এন্ড কলেজ, সাদু হাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়, খালিশপুর রহমানিয়া সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাসা, ভৈরব বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও দুঘর শ্রীমতি উচ্চ বিদ্যালয় সহ আরো বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানায় – প্রজেক্টরের মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয়ে কোন ক্লাস হয়নি। অথচ ওই স্কুল গুলোতে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রজেক্টর দিয়েছে। অযত্নে অবহেলায় প্রজেক্টর গুলো নষ্ট হচ্ছে।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৫৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪টিতে, রাজনগরে ২৫টির মধ্যে ২১টি, কুলাউড়ায় ৬০টির মধ্যে ৪৮টিতে, জুড়ীতে ২৮ মধ্যে ২১টিতে, বড়লেখায় ৫৪টির মধ্যে ৪৩টিতে, কমলগঞ্জে ৩৩টির মধ্যে ২৫টিতে এবং শ্রীমঙ্গলে ৩৬টির মধ্যে ৩১টিতে প্রজেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। জেলায় এই ১৮টি বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরীতে নেই সক্ষম প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কোন শিক্ষক।

উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে খোঁজ নিয়ে এমন বেহাল অবস্থার কথা জানা যায়। জুড়ী উপজেলার নয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে জানা যায়, মাদ্রাসায় জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন উপলক্ষে চলতি বছর মাত্র একদিন প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস হয়েছিল। ওই উপজেলার হাজী ইনজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে জানুয়ারীতে মাত্র একদিন ক্লাস হয়েছে। রাজনগর উপজেলার কলাগাঁও করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়েও প্রজেক্টরের মাধ্যমে কোন ক্লাস হয়নি।
সচেতন অভিবাকমহল মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার যে প্রসার ঘটাতে চেয়েছে তার মুখ থুবড়ে পড়েছে দক্ষ শিক্ষকের অভাব সহ জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তদারকির অভাবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে কথা হলে তিনি শিক্ষকদের অদক্ষতার কথা স্বীকার করে জানান -আমরা ইতিমধ্যে শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রদান করেছি তবে এখন আপাতত আমাদের ট্রেনিংটি বন্ধ রয়েছে। আগামীতে আবারো আমরা সরকারের নির্দেশনা পেলে অবশ্যই ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম শুরু করব ।

About arthonitee

Check Also

Human Chain

হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর জ্বালানো ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ

আহমদ বখত রতন (মৌলভীবাজার): ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা ধোয়া সৃষ্টি করে রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *