প্রচ্ছদ / নতুন মুখ / নিজ বয়ানে খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি

নিজ বয়ানে খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি

robi

অর্থনীতির কাগজ ডেস্ক:
আমি খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি, পিতা- মরহুম খন্দকার ফজলুল হক (উপ-মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা- বর্তমান BDBL, স্নাতক-১৯৬৮ ও স্নাতকোত্তর-১৯৭০, রা.বি.) মাতা- আকলিমা বেগম। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলাধীন বাটিকামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- খন্দকার সিরাজুল হক সেন্টু কাকার নির্দেশে ২০০৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে চাচার সহযাত্রী হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে পথচলা শুরু।।
৮ম-৯ম শ্রেণীর/ ক্লাসের ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও ‘বাটিকামারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ থেকে ‘বিজ্ঞান বিভাগ’ নিয়ে SSC তে A+ পাওয়া হয়নি। তবে ভর্তিযুদ্ধে সৌভাগ্য হয়েছিল- ‘নটরডেম কলেজে’র ছাত্র হওয়ার। চলতে থাকে আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রচেষ্টা; যার মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা, সামাজিকতা ও নৈতিকতার সমন্বয়। একইসাথে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত রাজনীতি সচেতন ছাত্র হিসেবে গোপালগঞ্জ-১(মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসনের সাংসদ কর্ণেল মুহাম্মদ ফারুক খান ভাই ও আরামবাগ ছাত্রলীগের তুহিন ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতাম এবং কলেজের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সভাপতি-সম্পাদক হিসাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তবে এবারও(HSC) অধরাই ছিল A+।।
মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সকলের একটাই কথা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হবে। চাপে পড়ে সত্যি-সত্যিই ৩ মাস খুব ভালো করে পড়লাম এবং শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ফর্ম পূরণ করলাম (খুব ভয় হচ্ছিল)। এবারও সৌভাগ্য হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার। আমাকে কবি জসীম উদ্দীন হলে সিট বরাদ্দ দেয়া হল। হলে উঠলাম ডিপার্টমেন্টের এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে। প্রথমদিন থেকেই শুরু হলো গেস্টরুম/রাজনৈতিক চর্চা যেখানে আদব-কায়দা সেখানো হতো। প্রতিদিনের রাজনৈতিক মিটিয়ে অংশগ্রহণ করতে লাগলাম। আমি ২য় বর্ষে উঠলাম, কলেজ জীবনে ব্যাকরণ বিষয়ক গোছানো টুকিটাকি তথ্যের ভিত্তিতে/ সমন্বয়ে “প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি” নামে ‘বাংলা একাডেমী’ আয়োজিত ‘একুশে বইমেলা-২০১৩’ তে ‘ঝিঙে ফুল’ প্রকাশনীর অধিনে আমার গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। একইসাথে সুবিধাভোগী বড় ভাইদের শীতনিদ্রার ফলে আস্তে আস্তে আমরাই বড় ভাই(৩য় বর্ষ, ফাইনাল ইয়ার) হলাম, জুনিয়রদের দেখাশোনা করতাম।।
২০১৩ সাল যতই ১৪’র দিকে এগোচ্ছে ততই একটিভ কর্মী কমছে। হল ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হবে, ‘জীবন বৃত্তান্ত’ জমা দিলাম এবং ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর কমিটি হলো, আমি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলাম। নির্বাচনকালীন সময়ে ২১৪ নং রুমে থেকেছি ৫ জন যেখানে থাকে ৮-১০ জন। কেউ যেন পাশে থাকতে চায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে হলে উঠেছিলাম বগুড়ার এক ভাইয়ের হাত ধরে; কারন জানতাম না কে আমার উপজেলার/ জেলার। আমার পরবর্তীতে কেউ যেন আমার মতো বিপদে না পড়ে সকলের কল্যাণে ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর গঠন করলাম ‘মুকসুদপুর উপজেলা ছাত্র সমিতি, ঢা.বি’ যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য কর্ণেল মুহাম্মদ ফারুক খান এম.পি। ঐদিন বকশিবাজার এলাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের সাথে আমাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহতও হয়। এরপর থেকে চলতে থাকে পাল্টা-পাল্টি সংঘর্ষ। গণজাগরণ মঞ্চের ডাকে সাড়া দিয়ে কোটি মানুষের প্রাণের দাবি রাজাকার-আলবদর বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, বিচারের রায় প্রদান ও মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এভাবে চলতে থাকে পাল্টা-পাল্টি জনসভা, আন্দোলন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাধে সংঘর্ষ। ২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আমার বাবা মরহুম খন্দকার ফজলুল হকের মৃত্যুর পূর্বে রেখে যাওয়া সম্পদ ও অনুদানের ১০ লক্ষ টাকার সমন্বয়ে বাবার ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে গঠিত হয়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ অস্বচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতামূলক সংগঠন ‘কেএফএইচ হিতৈষী সংঘ’ যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য- অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।।
২০১৪ সালের ০৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, আমরা সরকার গঠনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হই। ২১৪ নং রুম কানায় কানায় ভর্তি হওয়ায় ২০১ নং সিঙ্গেল রুমে আবাসিক হলাম। এসময়ের মধ্যে দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক(সম্মান-১ম শ্রেণি) ও স্নাতকোত্তর(১ম শ্রেণি) ডিগ্রী সম্পূর্ণ করি। কিছুদিন শান্ত থাকার পর ২০১৫ সালে মার্চ-মে ৩ মাসে বিএনপি-জামায়াত জোট আগুনসন্ত্রাসের মাধ্যমে হত্যা করে ৪৩৪ টি তাজা প্রাণ, ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাই, আস্তে আস্তে বিএনপি-জামায়াত জোট পিছু হটে। দেশ আবার উন্নতির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ২০১৫ সালের ২৫-২৬ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ ভাই -সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইন ভাই -সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আমি কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রার্থী হিসাবে কাজ করছিলাম।।
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অতিরিক্ত ডিগ্রী অর্জন ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ২০১৫-১৬ সেশনে ‘অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগ’-এ ভর্তি হই। এমতাবস্থায় ২০১৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রনালয়’ ও ‘সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে’র অধিন নিবন্ধন প্রাপ্ত ওয়েবসাইট ‘আমার এমপি.কম’-এ গোপালগঞ্জ-১(মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসনের সাংসদ কর্ণেল মুহাম্মদ ফারুক খান এম.পি’র জন-সংযোগ এম্বাসেডর নির্বাচিত হই। এসময়ের মধ্যে ৪২১ নং রুমে আবাসিক হলাম। কিন্তু নিতান্তই দুর্ভাগ্য আমার ২০ মাস সর্বোচ্চ পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়েও আকাঙ্ক্ষিত- কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি হতে পারিনি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১শে মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি- মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ ভাই আমাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ‘উপ-প্রচার সম্পাদক’ নির্বাচিত করেন। এবছরই ০১লা নভেম্বর শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে মেধাশক্তিকে বিকশিত করে জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দূরীকরণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ অনুমোদিত ‘মাতৃভূমি সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর “উপ-প্রচার সম্পাদক” মনোনীত করেন। তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই; এককথায় আমি চিরকৃতজ্ঞ।।
বাবার চাকুরী ও পড়ালেখার সুবাদে জীবনের অনেকটা সময় ঢাকাতে পার করেছি। ঢাকা শহরে থাকতে থাকতে সেখানকার জীবনধারনে অভ্যস্ত হয়ে পড়াই সাভাবিক হলেও এলাকার মানুষের প্রতি যে নাড়ীর টান অনুভব করি তা আমাকে শহুরে হতে দেয়নি। আমি আপনাদের ভালবাসি, আমরা মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর জন-সাধারণ ৯৮% আওয়ামী লীগের সমর্থক। সকলে মিলে মিশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফারুক ভাইয়ের নির্দেশে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবো।
আমি আপনাদের চেয়ে হয়তো বয়সে/মেধায় অনেক ছোট/ক্ষুদ্র হব। তবে আপনাদের ভালবাসা আমাকে অনেকের থেকে অনেক বড় করে তুলেছে। আমার বাবার ৩টি নির্দেশনামূলক উক্তিকে আদর্শ মেনেই রাজনীতি করতে চাই…..
১. তুমি মারা গেলে আত্মীয়-স্বজন ছাড়া যদি একজন ব্যক্তিও কাঁদে, তুমি সফল ।।
২. ধনীর মেয়ে বিয়ে করবে না, তারা অহংকারি; গরিবের মেয়ে বিয়ে করবে না, তারা উচ্চাভিলাষী; বংশীয় মেয়ে বিয়ে করবে, সুখি হবে ।।
৩. আমরা বাংলাদেশি মুসলমান ।।
আমি ফেসবুকে বসে/মুখে মুখে/ছবি বিক্রি করে/নাম ভাঙ্গিয়ে এক কথায় ধান্দাবাজি করে নেতা সাজি না। যে কোনো আপদ-বিপদে আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনাদের পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি, এখনও করি । আমি খন্দকার সবদার আলী ও খন্দকার আজহার আলী(রাজা) -এর নাতি, মুক্তিযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী কালে যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেছেন। লোহাইর ময়ালের সকল মাতব্বরদের সভাপতি হিসাবে দুস্থদের মাঝে ‘কম্বল ও খাদ্য সামগ্রী’ বিতরনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
আমি খন্দকার রবি আপনাদের সন্তান, কারো ছোট/বড় ভাই, কারো ভাস্তে/ভাগনে আবার কারো নাতি। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব (ইনশাআল্লাহ)। আমি আপনাদের দোয়া চাই; ফেইসবুকে লাইক নয়, আপনাদের ভালবাসা চাই; যা আমার চলার পথের পাথেয় (অমূল্য সম্পদ)।।
যত প্রতিকূলতাই আসুক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী, দেশরত্ন- শেখ হাসিনার নির্দেশে, আমার সর্বোচ্চ অভিভাবক, পিতৃতুল্য বড় ভাই- কর্ণেল মুহাম্মদ ফারুক খান এম.পি ও আমার নেতা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি- মোঃ সাইফুর রহমান সোহাগ ভাইয়ের নেতৃত্বে আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই রাজনীতি করে যাব।

(খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে)

About arthonitee

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *